
অনলাইন ডেস্ক : প্রতিটি মুহূর্তেই জীবন থেকে একটি একটি করে সেকেন্ড হারিয়ে যাচ্ছে। ঠিক তেমনি পরিসমাপ্তির পথে অনেক ইতিহাস রচনার বহুল আলোচিত ঘটনাবহুল ২০২৫ সাল। ক্যালেন্ডার বদলানোর সময় হয়েছে। কিন্তু বর্ষ বিদায়ের আট-দশটা বছরের মতো এক নয় ২০২৫। বিদায়ী বছরটিতে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ভঙ্গুর অর্থনীতি-আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শক্তহাতে মোকাবিলা করে দেশকে আবারও এগিয়ে নিয়ে গণতন্ত্রের পথে যাত্রার অনেক লড়াই প্রত্যক্ষ করেছে দেশবাসী।
তবে বিদায়ী বছরের শেষ দিনটিতে এসে বড় ধরনের হোঁচট খেয়েছে দেশবাসী। ‘মা, মাটি ও মানুষের নেত্রী’ হিসেবে খ্যাত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুশোকে আচ্ছন্ন সারাদেশ। বিএনপি চেয়ারপার্সনের মৃত্যুর খবরে কান্না চলছে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে। শোকের সঙ্গে চলছে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অবিচলতা নিয়ে নানামুখী স্মরণ। তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে সরকারি তরফ থেকে। বিদায়ী বছরের শেষ দিনটিতে তাঁকে চিরনিন্দ্রায় শায়িত করা হবে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহুম জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই।
হাসি-কান্না-শোক- এসব তো মনুষ্য জীবনের নিত্যসঙ্গী। জীবন যেমন থেমে থাকে না, তেমনি ঘড়ির কাঁটাও থেমে থাকে না। হাজারটা কালোমেঘের ছায়াকে সরিয়ে দিয়ে এসেছে নতুন সূর্যের দিন। রাশিয়া-ইউক্রেন এবং ইসরাইল-ফিলিস্তিনের মধ্যে ভয়াল যুদ্ধের দামামার মধ্যেও মাথা তুলে দাঁড়াতে চেষ্টা করছে পৃথিবীর মানুষ। হয়তো মেঘ ঘনাবে আবার, তবু সাহসের পতাকা উড়াতে শিখেছে তারা। মৃত্যুর গন্ধমাখা, আতঙ্কের তীব্রতা বা ক্লান্তিভরা শিথিলতা এমন টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই সময় এসে গেছে ২০২৫ সালকে বিদায় জানানোর।
এখন ২০২৫-এর শেষ দিনে এসে বলা যায় স্বপ্নপূরণ হয়েছে অনেকাংশেই। সব আশা পূরণ না হলেও প্রাপ্তির থলিটা একেবারেই খালি থেকে যায়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকার ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে আবারও অনেকটা স্বাভাবিক করে এনেছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর ধরে চলা নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতা দখলের পথ বন্ধ করতে সংবিধান থেকে শুরু করে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরের আমূল সংস্কারের আশায় প্রণয়ন করা হয়েছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’। সকল উৎকণ্ঠা-সংশয় কাটিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। পুরো জাতি এখন অপেক্ষা করছে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশকে পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনার।
তবুও ঘরের দেওয়ালে আর টেবিলের ডেস্কে সময় এলো ক্যালেন্ডার পাল্টে দেওয়ার। একটি বছর যখন চলে যায়, আমরা ফিরে দেখি বড় ঘটনাগুলো। সেখানে আমরা ভালোলাগা খুঁজি। নতুন বছর আসার কিছু দিন পরই হয়তো আগের বছরের কথা ভুলতে থাকি আমরা। কিন্তু ২০২৫ সালকেও দেশের প্রতিটি মানুষ মনে রাখবে নানা ঘটনার কারণে। গত একটি বছরেও উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো নিয়ে ভাবতে বসলে শুধুই চোখে ভাসবে হারানোর স্মৃতি। প্রাপ্তি, হতাশা এবং শেষ সময়ের হাসি বা আনন্দ- এই তিনে সুন্দর এক কম্বিনেশনে বিদায় জানাতে হচ্ছে ২০২৫-কে।
আজ রাত পেরোলেই আগামীকাল ভোরের পূর্বাকাশে দেখা দেবে নতুন বছরের সূর্য। এসে গেল আরও একটা নতুন বছর। নতুন আশায় বুক বেঁধে নতুন করে পথ চলার ব্রত। কিন্তু, অতীতের বীজেই যে ভবিষ্যতের বৃক্ষ- সে তো আর নতুন নয়। তাই পিছনে ফিরতেই হয়। দেখে নিতে হয় কেমন গেল, কী মিলল, কী হারালো। আগামীতেই বা কী হবে। এই পিছিয়ে দেখাটা পিছনে যাওয়া নয়, আসলে সামনে এগোনোর তাগিদেই। কুয়াশা ঘেরা আগামীর পথ হয়তো দেখাবে নতুন দিগন্ত, এই প্রত্যাশা সকলের। সুন্দর-শান্তিময় হোক ২০২৬।
কালেন্ডারের পাতা উল্টে বিদায় নিচ্ছে ২০২৫ সাল। প্রত্যাশা থাকবে প্রাপ্তিগুলো নতুন মোড়কে নতুনভাবে প্রেরণা জোগাবে ২০২৬-এ। হতাশ-গ্লানিগুলো যাবে ঘুচে। বছর শেষ হওয়ার পথে সবাই নতুন আলো ও সম্ভাবনার আশায় বসে আছে। তাই নতুন বছরে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রতিটি মানুষের একটিমাত্রই চাওয়া-‘বন্ধ হোক যুদ্ধ, প্রাণঘাতী হানাহানি। যুদ্ধ নয় শান্তি চাই, ভয়হীন প্রাণভরে নিশ্বাস নিক বিশ্বের প্রতিটি মানুষ’। তাই বিদায় ২০২৫, স্বাগত ২০২৬ সাল।
দেখতে দেখতে কেটে গেল আরেকটি ঘটনাবহুল বছর। দিনপঞ্জিকার শেষ পাতাটি উল্টে যাবে আজ। নানা কাজের ফিরিস্তি লেখা নিত্যসঙ্গী হয়ে হাতখাতাটি হয়ে পড়বে সাবেক। পরমায়ুর বৃক্ষ থেকে ঝরে যাবে একটি পাতা। মহাকাল নামের এক অন্তহীন মরুভূমির বুকে যেন এক ফোঁটা জল। কিন্তু গোটা বিশ্বকে রীতিমতো নাড়া দিয়েই বিদায় নিচ্ছে ঘটনাবহুল-২০২৫।
আজ মহাকাল সেভাবেই মুছে দেবে বহুল আলোচিত ২০২৫-কে। ‘যেতে নাহি দিব’-এ চিরন্তন বিলাপধ্বনির ভেতরে আবহমান সূর্য একটি পুরানো দিবসকে আজ কালস্রোতের উর্মিমালায় বিলীন করে পশ্চিম দিগন্তে মিলিয়ে যাবে। বর্ষবরণের আবাহন রেখে কুয়াশামোড়া পা-ুর সূর্য আজ বিদায় নেবে মহাকালের যাত্রায়। সময় হলো খ্রিস্টীয় ২০২৫ সালকে বিদায় বলার। খ্রিস্টীয় নতুন বছর ২০২৬ সালকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত গোটা বিশ্ববাসী।
সময় যায়। সময় যাওয়ার সময় বদলে যায় অনেকটাই। এ হলো পরম সত্য। সময় যেন এক প্রবহমান মহাসমুদ্র। কেবলই সামনে এগিয়ে যাওয়া, পেছনে ফেরার সুযোগ নেই। তাই তো জীবন এত গতিময়। সেই গতির ধারাবাহিকতায় মহাকালের প্রেক্ষাপটে একটি বছর মিলিয়ে গেল। আজ আলোড়িত বর্ষ বিদায়ের দিন। জীর্ণ ঝরা পল্লবের মতো সরল রৈখিক গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে আজ খসে পড়বে ‘২০২৫’। মধ্যরাতে নতুন বছর ২০২৬-কে স্বাগত জানানোর বাঁশি বেজে উঠবে সারাবিশ্বে, সবার প্রাণে। বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কণ্ঠে, প্রাণে ও আকুতিতে থাকবে একটিই স্লোগান- ‘অবিলম্বে যুদ্ধ থামাও। আমরা যুদ্ধ নয়, শান্তির বিশ্ব চাই। বিশ্বকে পূর্বের মতো সুন্দরভাবে বাঁচতে দাও’।
আগামীকাল থেকে শুরু হবে নতুন প্রত্যাশার নতুন বছর, কিন্তু যে বছরটি হারিয়ে গেল জীবন থেকে, ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে, তার সবই কি হারিয়ে যাবে? মুছে যাবে সব? না, সব মুঝে যায় না। ঘটনাবহুল ২০২৫-এর ঘটনার রেশ টেনেই মানুষ এগিয়ে যাবে ২০২৬ সালের মধ্যরাত্রির পথে। অনেক ঘটনা মুছে যাবে বিস্মৃতির ধুলোয়। আবার পাওয়া না পাওয়ার অনেক ঘটনা থাকবে উজ্জ্বল হয়ে। বিশ্বের সব মানুষের প্রত্যাশা- আর প্রাণঘাতী যুদ্ধ বা অস্ত্রের ঝনঝনানি নয়, বুক ফুলে মুক্তির বাতাস গ্রহণ করতে দাও প্রাণভরে।
প্রতিবারের মতো এবারও নতুন সূর্যালোকে নতুন আশা ও স্বপ্ন নিয়ে নতুন একটি বছরে যাত্রা শুরুর জন্য প্রস্তুত সবাই। অসীম প্রত্যাশা নিয়ে মানুষ অপেক্ষা করছে আজ মধ্যরাতের প্রথম প্রহরের জন্য, যখন সূচিত হবে নতুন আকাক্সক্ষায় উদ্ভাসিত হবে নতুন বছর। যে বছরের খেরোখাতায় চোখ বুলালেই বয়ে যায় আনন্দ-বেদনার স্রোত। হিসেবের খেরোখাতায় জমে আছে অনেক বিয়োগ-ব্যথা, হারানোর কান্না, নানা গ্লানি আর মালিন্যের দাগ। বছরজুড়ে অপ্রত্যাশিত নানা ঘটনা-দুর্ঘটনায় আমাদের মন ভীষণ ভারাক্রান্ত, তবু নিরাশার গভীর থেকে ফুঠে ওঠে বিপুল আশার আলো, ধ্বংসস্তূপ থেকে ফোটে নবতর জীবনের ফুল। আমরা আবারও মেতে উঠি সৃষ্টিসুখের উল্লাসে, বৈরী সময়কে মারিয়ে হেসে গেয়ে উঠি জীবনের জয়গান।
এখন নতুন বছর আর নতুন সূর্যের অপেক্ষায় দেশবাসী। নতুন বছরটি হচ্ছে নির্বাচনের বছর। তাই সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। অপেক্ষা কেবল মানুষের নিরাপত্তা, শান্তি, স্বস্তি, ক্ষুধা-দারিদ্র্য-হানাহানিমুক্ত শান্তির রাষ্ট্র বিনির্মাণ এবং সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির দেশ গড়ার। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে এ প্রত্যাশা রেখেই আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে নতুন বছরে, নতুন জীবনে যাত্রা করবে এ দেশের মানুষ। কাল শুরু হবে আরও একটি নতুন বছর ২০২৬। স্বাগত ২০২৬, বিদায় ২০২৫।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST