
অনলাইন ডেস্ক : লাল-সবুজের পতাকায় মোড়ানো নিথর দেহ, কান্না আর স্লোগানে ভারী হয়ে ওঠা আকাশ—স্বপ্ন ও সংগ্রামের প্রতীক হয়ে মাতৃভূমিতে ফিরলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের সম্মুখযোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি। যাকে জীবিত অবস্থায় হাজারো মানুষের ভালোবাসায় বরণ করে নেওয়ার কথা ছিল তাকে ফিরতে হলো কফিনবন্দি হয়ে।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৫টা ৪৮ মিনিটের দিকে তার মরদেহ বহনকারী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাদীর মরদেহ ৮ নম্বর হ্যাঙ্গার গেট থেকে বের করা হবে। কফিন বহনের জন্য ইতিমধ্যে সেখানে একটি গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এর আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি, এপিবিএন এবং আনসার সদস্যরা।
ঢাকা পৌঁছালে হাদীর মরদেহ নেওয়া হবে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে। পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘হাদীর মরদেহ এখানে রাখা হবে জানার পরই আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছি।’
ইনকিলাব মঞ্চ এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছে, ‘পরিবারের চাওয়ানুসারে শহীদ ওসমান হাদীকে কবি নজরুল ইসলামের পাশে সমাহিত করার এবং মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বাদ জোহর জানাজার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
প্রথমে শুক্রবার বিমানবন্দর থেকে হাদীর কফিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে নেওয়ার কথা থাকলেও ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, এটি পরিবর্তিত হয়ে শনিবার নেওয়া হবে।
এর আগে, হাদির মরদেহ বহনকারী বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৮৫ ফ্লাইটটি শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩ মিনিটে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে দুর্বৃত্তরা রিকশায় থাকা ওসমান হাদিকে গুলি করে গুরুতর আহত করে। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে ওই রাতেই এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ছয় দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST