৯ অক্টোবর ২০২৪
অনলাইন সংস্করণ

কুকুরের মাংস নিষিদ্ধ, প্রতিবাদে খামারিদের মাথা ন্যাড়া

অনলাইন ডেস্ক : দক্ষিণ কোরিয়ায় কুকুরের মাংস খাওয়া ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে চলতি বছরের শুরুর দিকেই। আর এতে বিপাকে পড়েছেন কুকুর উৎপাদন করা খামারিরা। তাই সম্প্রতি সেই আইনের প্রতিবাদে মাথা ন্যাড়া করেছেন তাঁরা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি দক্ষিণ কোরিয়ার পার্লামেন্টে একটি আইন পাস করে। নতুন এই আইনের ফলে দেশটিতে কুকুরের মাংস খাওয়া ও বিক্রির শত বছরেরও বেশি পুরোনো যে প্রথা ছিল, তা বন্ধ হয়ে যাবে আনুষ্ঠানিকভাবে। মূলত দেশটিতে প্রাণীদের কল্যাণের বিষয়টি নিয়ে ক্রমবর্ধমান আন্দোলনের মুখে দেশটির সরকার এই আইন পাস করেছে।

কোরিয়ায় একসময় কেবল তীব্র শুষ্ক গ্রীষ্মের সময় কুকুরের মাংস খাওয়াকে শরীরের শক্তি বাড়ানোর অন্যতম উপায় বলে বিবেচনা করা হতো। তবে সে বিষয়টি এখন আর নেই। তার বদলে কোরীয় সমাজে নিয়মিত কুকুরের মাংস খাওয়ার প্রচলন হয়েছে। কমবেশি প্রায় সব প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিই কুকুরের মাংস খেয়ে থাকেন।

আরও পড়ুনঃ   ইরানকে সমর্থন জানাল চীন

কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ায় কুকুরকে গৃহপালিত প্রাণী হিসেবেও বিবেচনা করার হার বাড়ছে। তারই ধারাবাহিকতায় কুকুর জবাই করার বিষয়টিও নেতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। প্রাণী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলো বলছে, সাধারণত কুকুরের মাংস নেওয়ার ক্ষেত্রে কুকুরকে আগে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে অথবা ফাঁসিতে লটকে হত্যা করা হয়। তবে কুকুরের মাংসের ব্যবসায়ীদের দাবি, তাঁরা আরও কম কষ্টদায়ক উপায়ে কুকুরকে হত্যা করেন। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল নিজেও প্রাণিপ্রেমী হওয়ায় এই আইন পাস অনেকটাই সহজ হয়েছে।

তবে সরকার আইন করে বিষয়টি বন্ধ করলেও তা কুকুর খামারিদের জন্য হতাশা বয়ে এনেছে। এতে তাঁরা অনেকেই আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এ বিষয়ে লি গুই-জিয়ে নামে এক খামারি বলেন, ‘আমি হতাশাভরা হৃদয়ে প্রতিবাদস্বরূপ মাথা কামানোর কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলাম। আমি দুঃখে অভীভূত। ভাবছি, কীভাবে আমরা ভবিষ্যতে জীবিকা নির্বাহ করব। সরকারের উচিত ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া। আমরা বেশি কিছু চাইছি না।’

আরও পড়ুনঃ   কমালা হ্যারিসের প্রচারের জন্য এক সপ্তাহে উঠল ২০ কোটি ডলার

গত সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয় ঘোষণা দেয়, সরকার কুকুর খামারিদের কাছ থেকে ৫ লাখ কুকুর নিয়ে নেবে এবং সেগুলোর আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থা করবে। এ ছাড়া, ২০২৭ সালের শুরুতে এ আইনের ফলে যেসব কুকুর খামারি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

সরকার জানিয়েছে, এই আইনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কুকুর উৎপাদনকারী, রেস্তোরাঁ ও কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য ৭৫ লাখ ডলার সমপরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে কুকুর খামারিদের সংগঠনগুলো বলছে, এই অর্থ পর্যাপ্ত নয়। তারা আরও বেশি অর্থ দাবি করেছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নেপালের সেই সুড়ঙ্গে আর কেউ বেঁচে নেই : কাদায় চাপা পড়েছে সব

সরকার জনগণের সঙ্গে ভাঁওতাবাজি ও প্রতারণা করছে : শফিকুর রহমান

বিএনপির ইতিহাস ও বাংলাদেশের ইতিহাস প্রায় অভিন্ন : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

সংখ্যালঘু নয়, নাগরিক পরিচয়েই সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাজশাহীতে জিয়া মঞ্চের বিভাগীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত

কাজীহাটা পুরাতন জামে মসজিদ ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা পরিদর্শন করলেন রাসিক প্রশাসক

দৃশ্যমান উন্নয়নের জন্য সরকারকে সময় দিতে হবে : পানিসম্পদ মন্ত্রী

‘বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূউপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে’: পরিবেশপ্রতিমন্ত্রী

ডিবি-পুলিশ পরিচয়ে সন্তান আটকের ভয়, টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র’

দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করার প্রত্যয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

১০

রাজশাহী-নাটোর রুটে বাস চলাচল বন্ধ, দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা

১১

প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত সেই বৃদ্ধার মৃত্যু

১২

বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত প্রতিমন্ত্রী ও তার স্ত্রী

১৩

শুভ জন্মাষ্টমী আজ

১৪

মাত্র ৪৫ টাকা চায়ের বিল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১২

১৫

শতবর্ষে উত্তম কুমার, তিনি বাঙালির মনের নায়ক : জয়া আহসান

১৬

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর ঘোষণা এডিন জেকোর

১৭

১৬ বছরের ছাত্রের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, যুক্তরাজ্যে নারী শিক্ষিকার বিচার

১৮

মার্কিন হামলায় ইরানের নৌবাহিনীর ৬ সদস্য নিহত

১৯

রাজশাহীতে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে স্বাগত জানালেন রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন

২০

Design & Developed by: BD IT HOST