
স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলায় নয়টি সহায়তা বুথের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সেবা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নাগরিকরা। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় এক হাজারের বেশি সেবা গ্রহীতা বিভিন্ন ধরনের ভূমি সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ করেন। দ্রুততা ও সহজতার কারণে সেবাপ্রাপ্তদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।
ভূমি সেবা সহজীকরণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে জনগণের সংযোগ বাড়ানো এবং প্রান্তিক পর্যায়ে জনবান্ধব সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ মেলার আয়োজন করা হয়। মেলায় ভূমি পোর্টালে নিবন্ধন, ই-নামজারি আবেদন, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ, খতিয়ান ও ডিসিআর সংগ্রহ, মৌজাম্যাপ প্রাপ্তিসহ বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাৎক্ষণিকভাবে অনেক সেবা প্রদান করা হয়, যা সেবা গ্রহণকারীদের সময় ও ভোগান্তি কমিয়েছে।
মেলার বিভিন্ন বুথ ঘুরে দেখা যায়, ই-নামজারি সেবা বুথে ছিল সবচেয়ে বেশি ভিড়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেবা গ্রহীতাদের অনলাইনে আবেদন জমা দিতে সরাসরি সহায়তা করেন। অনেকেই মেলা প্রাঙ্গণেই নামজারি আবেদন সম্পন্ন করতে সক্ষম হন। একইভাবে খতিয়ানের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহ বুথ থেকেও দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র হাতে পেয়েছেন সেবা গ্রহীতারা।
ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ সংক্রান্ত বুথগুলোতেও ছিল ব্যাপক সাড়া। অনলাইনে খাজনা পরিশোধের পদ্ধতি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং তাৎক্ষণিক সহায়তার মাধ্যমে অনেকেই সহজেই তাদের বকেয়া কর পরিশোধ করতে পেরেছেন। এছাড়া সেটেলমেন্ট অফিসের বুথ থেকে বিডিএস জরিপ সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করা হয়, যা ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
মেলায় আগতদের ভূমি সেবা সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর জন্য জাতীয় হটলাইন ১৬১২২ এবং বিভাগীয় প্রশাসনের বিশেষ হটলাইন নম্বর সম্পর্কেও অবহিত করা হয়। পাশাপাশি ‘ভূমি আমার ঠিকানা’ শীর্ষক একটি তথ্যবহুল বুকলেট বিতরণ করা হয়, যাতে সাধারণ মানুষ সহজ ভাষায় ভূমি সেবা সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন।
সেবা গ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতায়ও উঠে এসেছে সন্তুষ্টির চিত্র। শিরোইল কলোনির তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “এখন ভূমি অফিসের সেবা আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে।” বড়কুঠি এলাকার হাসমত আলী জানান, “ডিজিটাল পদ্ধতির কারণে কাজ দ্রুত হচ্ছে।” ফুদকিপাড়ার ভূপতি রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, অল্প সময়েই তিনি অনলাইনে খাজনা দেওয়ার অনুমোদন পেয়েছেন। পবার জেসমিন আরা জানান, কর্মকর্তাদের আন্তরিক আচরণ তাকে সন্তুষ্ট করেছে।
মেলায় স্থাপিত নয়টি সেবা বুথের মধ্যে সেবার মান ও দক্ষতার ভিত্তিতে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের রেকর্ড রুম প্রথম স্থান অর্জন করে। দ্বিতীয় হয় জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস এবং তৃতীয় স্থান লাভ করে সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ী বুথগুলোর প্রতিনিধিদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে অনুষ্ঠিত সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম বজলুর রশীদ। তিনি বলেন, “বর্তমান যুগ প্রযুক্তিনির্ভর। সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে অটোমেশনের আওতায় এনে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, এই সেবাকে আরও কার্যকর করতে তরুণদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগাতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) ড. চিত্রলেখা নাজনীন, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাইমুল হাছান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মহিনুল হাসান, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসএ শাখা) অভিজিত সরকার, সহকারী কমিশনার ভূমি বোয়ালিয়া আরিফ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ নাগরিকদের দোরগোড়ায় দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছ ভূমি সেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন আরও সম্প্রসারিত হবে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST