
স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা : ‘হামার আর কিচুই থাকলো না, সব শ্যাষ হইয়া গেল বলে কান্নায় ভেঙে পড়লেন তরুণ মিলন হোসেন (২৩)। আগুনে গোয়ালঘরে থাকা একজোড়া গরু পুড়ে মারা যাওয়াতে এভাবে বিলাপ করছিলেন। আগুনে একমাত্র সম্বল দুই গরুসহ আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
মিলনের বাড়ি রাজশাহীর বাগমারার সোনাডাঙা ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে। পেশায় একজন কৃষক। গত রোববার দিবাগত রাতে কয়েলের আগুনে গোয়ালঘরে থাকা গরু দুটি পুড়ে মারা যায়।
মিলন হোসেন জানান, গতকাল রোববার সন্ধায় গোয়লঘরে গরু রেখে ঘুমাতে যান। মশার কামড় থেকে রক্ষার জন্য গোয়ালঘরে কয়েল জ্বেলে রাখেন। রাত দেড়টার দিকে গোয়ালঘরে আগুন লাগে। মুহুর্তে আগুন গোটা গোয়ালঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে ও তাপে ঘুম ভেঙে যায়। এসময় আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। আগুন আশপাশের বাড়িঘরের দিকে যেতে থাকলে মসজিদের মাইকে প্রচার করে লোকজনকে জড়ো করা হয়। বাড়ি থেকে বালতি ও পাতিলে করে পানি নিয়ে লোকজন গোয়ালঘরের দিকে ছুটে। চেষ্টা চালিয়ে আশপাশের বাারিঘরগুলোকে আগুনের কবল থেকে রক্ষা করা গেলেও গোয়ালঘরে থাকা গরু দুইটি মরে যায়। ঋণ করে গরু কিনে পালন করছিলেন। তিনি জানান, অন্যের খেতখামারে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালানোর পাশাপাশি গরু পালন করছিলেন লাভের আশায়।
প্রতিবেশি রফিকুল ইসলাম বলেন,’ ছাওয়ালটি এখন নিঃস্ব হয়ে গেল। গরু দুইটাই সম্বল আছিল। বছর খানেক আগে ওর বাবা কিডনি রোগে মারা গেচে। জমি যা আছিল বিক্রি কইরা চিকিৎসা করাচে।’
মিলন হোসেন বলেন, ‘ আমার আর কিচুই থাকলা না, বাবা মরে যাওয়ার পর মানষের কাজ কইরা কোনোরকম চলছিল। কেবল দাঁড়াবের লাগিচুনি, তখনি আগুনে শ্যাষ হইয়া গেল।’ আর সাত- আট দিনের মধ্যে পুড়ে যাওয়া একটি গাভী বাচ্চা প্রসব করতো বলে জানান। আগুনে গরুসহ প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান।
এই বিষয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। আবেদন করলে সরকারি ভাবে সহযোগিতা করা হবে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST