
অনলাইন ডেস্ক : খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব বড়দিন আজ বৃহস্পতিবার। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও উৎসবটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করবে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের লোকজন। ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে বড়দিনের আনন্দের ছোঁয়া। মূলত গতকাল মধ্যরাত থেকেই শুরু হয়েছে প্রার্থনাসংগীত। নেওয়া হয়েছে উৎসবের সব প্রস্তুতিও। গির্জা, বাড়িঘর সাজানো হয়েছে নানা রঙে। দিবসটি আড়ম্বরে উদযাপনের সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে এদিন দেশে আতশবাজি, পটকা ফোটানো, ফানুস ও গ্যাস বেলুন ওড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। এ সময় ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, বাংলাদেশের ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের প্রধান ধর্মগুরু আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ, ন্যাশনাল ক্রিশ্চিয়ান ফেলোশিপ অব বাংলাদেশের সভাপতি বিশপ ফিলিপ পি অধিকারী, খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ড. বেনেডিক্ট আলো ডি রোজারিও, জাতীয় চার্চ পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি খ্রিস্টোফার অধিকারীসহ দেশের খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় খ্রিষ্টান ধর্মের নেতারা তাদের শুভেচ্ছা বক্তব্যে বিশ্বজুড়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সুনাম এবং দেশের অর্থনীতি ও সার্বিক পরিস্থিতির উন্নয়নে তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে আয়োজিত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন। আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে যিশুখ্রিষ্টকে সর্বজনীন উল্লেখ করে বলেন, যিশুখ্রিষ্টের ক্ষমা ও মানবসেবার মহান আদর্শ সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষও এ বছর উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে বড়দিন উদযাপন করছে।
প্রধান উপদেষ্টাকে বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ আরও বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে জনগণ আপনার ওপর আস্থা রেখেছে। আপনি অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে সে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। আমরা প্রার্থনা করি, একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আপনার প্রচেষ্টা সফল হবে।’
এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টা উপস্থিত নেতৃবৃন্দসহ সবাইকে বড়দিন ও আসন্ন নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা সমাজের প্রতিবিম্ব। আপনাদের দেখলে বুঝতে পারি, সবকিছু ঠিক আছে কি না। আমরা একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে চাই। সে জন্যই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা সমুন্নত রাখতে জুলাই সনদ প্রস্তুত করা হয়েছে। এই সনদের ওপর গণভোটের মাধ্যমে দেশ আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে।’ তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটে জনগণ যে রায় দেবে, পরবর্তীতে সংসদ সেভাবেই সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করবে। প্রধান উপদেষ্টা এ সময় আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটের বিষয়ে জনগণকে সচেতন করে তুলতে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বড়দিন উপলক্ষে খ্রিষ্টানধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে আড়াই কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার জন্য অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান ট্রাস্টের নেতারা। দেশব্যাপী ৮০০ চার্চের মধ্যে তিন ধাপে এ অনুদান বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানান তারা। পরে বড়দিন উপলক্ষে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে কেক কাটেন প্রধান উপদেষ্টা।
জেরুজালেমের বেথলেহেম শহরের এক গোয়ালঘরে ২ হাজার ১২ বছর আগে মাতা মেরির গর্ভে জন্ম নেন যিশু। খ্রিষ্টধর্মের প্রবর্তক যিশুর জন্মদিনকে বড়দিন হিসেবে পালন করে তার অনুসারীরা, যা তাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবও। বড়দিন বা ক্রিসমাস উৎসবের প্রস্তুতি চলছে বেশ কয়েক দিন ধরেই। বিভিন্ন গির্জায় বানানো হয়েছে ক্রিসমাস ট্রি। নানা উপহার নিয়ে হাজির হবেন সান্তাক্লজরা।
বড়দিনের পূর্বপ্রস্তুতির নানা আয়োজনে কয়েক দিন ধরেই সরগরম খ্রিষ্টানপাড়াগুলো। উদ্বোধন করা হয়েছে প্রতীকী গোশালা, পাশাপাশি চলছে কীর্তন। বড়দিন উৎসব ঘিরে আনন্দমুখর আয়োজনের ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই অভিজাত হোটেলগুলো। সোনারগাঁওসহ নামিদামি হোটেলগুলো সেজেছে রঙিন বাতি, ফুল আর প্রতীকী ক্রিসমাস ট্রিতে। সেই সঙ্গে চলছে বড়দিনের গান-বাজনা। মানবশান্তি ও মানবকল্যাণের মূলমন্ত্র সামনে রেখে এমনি করে খ্রিষ্টভক্তরা প্রভু যিশুর আগমন স্মরণ করেন।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST