১৪ ডিসেম্বর ২০২৪
অনলাইন সংস্করণ

‘লাল কেল্লা আমাদের’ হাইকোর্টে দাবি মুঘল বংশধরের পুত্রবধূর

অনলাইন ডেস্ক : সপ্তদশ শতাব্দীতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রাচীর-বেষ্টিত পুরোনো একটি কেল্লা নির্মাণ করেন মুঘল সম্রাট শাহজাহান। পরবর্তী সময়ে সেই কেল্লার নাম হয় ‘লাল কেল্লা।’

১৮৫৭ সাল পর্যন্ত দুর্গই ছিল মুঘল সাম্রাজ্যের রাজধানী। বংশ পরম্পরায় শাসন করেছেন তারা। এরপর শেষ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে নির্বাসিত করে ভারতের রাজধানী কলকাতায় স্থানান্তরিত করে ব্রিটিশ সরকার। ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশরা এই দুর্গটিকে একটি সামরিক ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার করতেন। বর্তমানে এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র এবং ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌমত্বের একটি শক্তিশালী প্রতীক। দিল্লি শহর থেকে দুর্গটির দূরত্ব ২ কিলোমিটার।

প্রতি বছর ভারতীয় স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লাল কেল্লার লাহোরি গেটসংলগ্ন স্থানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বক্তব্য দেন। ২০০৭ সালে লাল কেল্লা ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে নির্বাচিত হয়।

আরও পড়ুনঃ   গাজার দিকে ধেয়ে আসছে ভয়াবহ ঝড়, বড় ঝুঁকিতে ৯ লাখ ফিলিস্তিনি

মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর-১১ এর প্রপৌত্রের পুত্রবধূ সুলতানা বেগম দিল্লি হাইকোর্টে গিয়ে দাবি করেছেন, লাল কেল্লা তাদের। তাই তাকে সম্পত্তির অধিকার দেওয়া হোক।

যদিও গত শুক্রবার হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বিভু বাখরু এবং বিচারপতি তুষার রাও গেদেলার বেঞ্চ ওই আবেদন খারিজ করে দেন।

এর আগে, ২০২১ সালের ২০ ডিসেম্বর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বেআইনিভাবে দখল করা লাল কেল্লার মালিকানা চেয়ে আবেদন করেছিলেন সুলতানা বেগম। পরে তার আবেদন খারিজ করে দিয়েছিলেন হাইকোর্টের একক বেঞ্চ।

ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, আড়াই বছরের বেশি সময় পর এই আবেদন করা হয়েছে, যা মেনে নেওয়া যায় না। সুলতানা বেগম আবেদনে জানান, তার অসুস্থতার জন্য এবং তার মেয়ের মৃত্যু হওয়ায় আবেদন জানাতে পারেননি। পরে তার আবেদন অপ্রাসঙ্গিক বলেও উল্লেখ করেন আদালত।

আরও পড়ুনঃ   সিরিয়ার বেহাল অর্থনীতি কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে?

অ্যাডভোকেট বিবেক মোরের মাধ্যমে দায়ের করা পিটিশনে দাবি করা হয়, ১৮৫৭ সালে প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ব্রিটিশরা তার পরিবারকে তাদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছিল এবং সম্রাটকে দেশ থেকে নির্বাসিত করা হয়েছিল। এ ছাড়া লাল কেল্লার দখল জোর করে মুঘলদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।

পিটিশনে আরও দাবি করা হয়, সুলতানা বেগম লাল কেল্লার মালিক। কারণ তিনি তার পূর্বপুরুষ বাহাদুর শাহ জাফরের থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। বাহাদুর শাহ জাফর (দ্বিতীয়) ১৮৬২ সালের ১১ নভেম্বর ৮২ বছর বয়সে মারা যান।

পিটিশনে আরও বলা হয়, আবেদনকারীর কাছে লাল কেল্লার অধিকার হস্তান্তর করতে হবে বা পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ১৮৫৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সরকার যে লাল কেল্লা দখল করেছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণও দাবি করা হয় আবেদনে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নেত্রকোনায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ট্রান্সফরমার চুরি : চরম অনিশ্চয়তায় কৃষকরা

সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী করতে শুধু ভালোবাসা যথেষ্ট নয় : বর্ষা

বাংলাদেশ থেকে অস্কারে যাওয়ার দৌড়ে পাঁচ সিনেমা

সৌদির তায়েফে ড্রোন হামলায় একজন নিহত, গুরুতর আহত দুই

আবারও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন এরদোয়ান

নগরীর শ্রীরামপুরে বন্যাদুর্গতদের মাঝে রাসিকের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ

বাগমারায় ১০ দিনেও মেলেনি নিখোঁজ দুই জা-এর সন্ধান

বিজিবির উদ্যোগে বিকল্প কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণে ২০ জনের মাঝে সনদপত্র বিতরণ

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় জেলা তথ্য অফিসের আয়োজনে নারী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

দুর্গাপুরে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

১০

এসআরবি-এর যৌথ অভিযানে ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি গ্রেফতার

১১

নগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ২৩

১২

নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে ৮ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

১৩

গোদাগাড়ীতে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ১

১৪

নিয়ামতপুরে পোনামাছ অবমুক্তকরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন

১৫

মোহনগঞ্জ হাসপাতালে জনবল ও সরঞ্জাম সংকটে সেবা ব্যাহত: চরম ভোগান্তিতে হাওরাঞ্চলের লাখো রোগী

১৬

রাজশাহীতে ডেইলি টাইমস অব বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বক্তারা, জনস্বার্থে বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার বিকল্প নেই

১৭

রায়পুরে জিপিএ-৫ ও ট্যালেন্টপুল কৃতীশিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

১৮

শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে রাখতে জয়পুরহাটে সচেতনতামূলক সেমিনার

১৯

নিয়ামতপুরে ৮ মাসে ২০০ জনের আত্মহত্যার চেষ্টা

২০

Design & Developed by: BD IT HOST