
স্টাফ রিপোর্টার : জুলাই-আগস্টের শহিদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা উপস্থিত না হয়ে খোড়া যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, যারা জুলাই-আগস্ট নিয়ে সারাদিন রাজনীতি করেন ও চিৎকার করেন, তারা দাওয়াত পাওয়া সত্ত্বেও উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হয়ে ধোঁকাবাজির পরিচয় দিয়েছেন।
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৯ অক্টোবর ওসমানী উদ্যানে সরকারের পক্ষ থেকে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ওই অনুষ্ঠানে সকল সমমনা, সহযোগী ও জোটের রাজনৈতিক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। শুধু দাওয়াত কার্ড পাঠানোই নয়, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ আবদুস সালাম টেলিফোনযোগে সবাইকে আমন্ত্রণ নিশ্চিত করেছিলেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শহিদ মীর মুগ্ধ, আবু সাঈদ ও আনাসের বাবা এবং এক শহিদের মাকে সাথে নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভ ও দীর্ঘ ১০ বছর পর আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। অথচ জুলাই নিয়ে যারা সারাদিন কথা বলেন, সেই সব রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্তরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। বাংলাদেশে একমাত্র এই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে গেজেটভুক্ত ৮৩৪ জন শহিদের নাম লেখা রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের বক্তব্য প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, দাওয়াত কার্ডে বিরোধী দলীয় নেতার নাম না থাকায় তারা যাননি বলে যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তা সঠিক নয়। তিনি আরো বলেন, অনুষ্ঠানে প্রবীণ রাজনীতিবিদ মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় নেতা সাইফুল হক এবং বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের নাম দাওয়াত কার্ডে না থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তাদের মঞ্চে ডেকে নেন। দাওয়াত গ্রহণ করে বিরোধী দল উপস্থিত হলে প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রতিনিধিকেও মঞ্চে ডেকে নিতেন বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।
জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলোর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারা এখন এক দফার নামে দেশজুড়ে নানা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। বিশেষ কোনো ধর্ম বা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে পুঁজি করে যারা রাজনীতি করে, তাদের পরিণতি ও ফলাফল দেশের মানুষ অতীতেও দেখেছে। বিএনপি’র রাজনৈতিক আদর্শের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি কোনো বিশেষ ধর্মীয় বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে পুঁজি করে রাজনীতি করে না।
প্রতিমন্ত্রী বাকস্বাধীনতার নামে অশালীন ভাষা প্রয়োগ না করার অনুরোধ জানিয়ে সতর্ক করে বলেন, এরপরেও যদি অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হয়, তবে জাতীয়তাবাদী শক্তি তা মেনে নেবে না। একইসাথে দলের ভেতরের শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, গুপ্ত বিএনপি’র মধ্যেও রয়েছে। আমাদের দলে কারা এসব করছে, তাদের চিহ্নিত করতে কাজ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য ৫টি সদস্য পদ শূন্য রাখা হয়েছে। সংঘাতের পথ ছেড়ে কমিটিতে সম্পৃক্ত হয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অংশ নিতে এবং দ্রুত পাঁচজন প্রতিনিধির নাম দিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে তিনি বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রেস ব্রিফিং শেষে প্রতিমন্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কিচক হরিপুর গ্রামের ফিরোজার পরিবারকে ৫ লাখ টাকা প্রদান করেন।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST