
স্টাফ রিপোর্টার : তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি সাবেক চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সার্বক্ষণিক দেশেল জনগণের কথা ভাৎবতেন এবং বলতেন। তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে গেলেও সেখান থেকেও তিনি দেশের ও জনগণের খোঁজ খবর নিতেন। তিনি কখনো কারো প্রতি হিংসাত্বক কথা বলতেন না । তিনি শুনতেন বেশী বলতেন কম বলে মঙ্গলবার বিকেলে মোহনপুর উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সগহযোগি সংগঠনের আয়োজনে বসন্ত কেদার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত তিনবারের সফল সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির সাবেক চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং পবা-মোহনপুরের বিএনপি মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট শফিকুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যা বলতেন তা জনগণকে বুঝিয়ে বলতেন। তিনি দীর্ঘ সোয়া ছয় বছর মিথ্যা মামলার সাজানো রায়ে কারাগারে ছিলেন। গুরুতর অসুস্থ হলেও তিনি দেশের বাহিরে যেয়ে চিকিৎসা করার অনুমতি পাননি। মিলন বলেন, ৫আগস্টের পরে তিনি এভার কেয়ার হাসপাতালে গিয়েছিলেন বেগম জিয়ার সাথে দেখা করতে। সে সময়ে বেগম জিয়া তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন কেমন আছো। উত্তরে তিনে বলেছিলেন, আপনাকে একাধিকবার রাস্তায় গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখেছি। কিন্তু কেমন আছেন জিজ্ঞাসা করার সাহস পাইনি।
তিনি আরো বলেন, গত সসস্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি গিয়েছিলেন। ডাক্তারের কথা অমান্য করে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। কারণ তার মোনবল ছিলো অনেক। এছাড়াও তাঁর সাথে সেনাবাহিনীর অনেক স্মৃতি ছিলো। কারণ তিনি ছিলেন মেজর জিয়ার সহধর্মীনি। তিনি মাত্র পনের বছর থেকে সেনাসদ্যদের পাশাপাশি থাকতেন। সসস্ত্র দিবসে সেদিন অনেক হাসিখুশি ছিলেন। সেখানেও তিনি অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপাক ইউনুস এর স্ত্রীর খোঁজ খবর নিয়েছিলেন। সেখানে তিনি সেনা প্রধানকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি কেমন এবং উদ্ধার কাজের খবর কি।
এ থেকেই বোঝা যায় তিনি কতটা দেশপ্রেমিক। তিনি নিজের জীবনের তোয়াক্কা কখনো করেননি বলে উল্লেখ করেন তনি। তিনি বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ সতের বছর আন্দোলন সংগ্রাম করে একটি জগদ্দল পাথরকে সরিয়ে দিয়েছে। এরপর আপনার নিকট এসেছি। তখন বেগম জিয়ার মনের অজান্তেই দুইচোখ বেয়ে পানি পড়ছিলো। কিন্তু তখনো তিনি কারো প্রতি খারাপ কথা বলেন নি। তিনি বলেছিলেন দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কারো যেন ক্ষতি না হয়। কোন ধর্মের মানুষের উপরে যেন নির্যাতন করা না হয়। সেদিকে খেয়াল রাখার নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
তিনি আরো বলেন, আল্লামা মামুনুল হকও বেগম জিয়াকে দেখতে গিয়েছিলেন। তাঁর নিকটও কোন প্রকার কটুকথা বলেননি তিনি। তাঁকেও বলেছিলেন আপনারা আলেম ওলামা মানুষ, আপনাদের কথা মানুষ শোনে ও মানে। সবাইকে বলবেন কেউ যেন ভাঙ্গচুর, জালাও পোড়াও না করে ও দেশের সম্পদ নষ্ট না করে। দেশবাসীর সমস্যা ছিলো তাঁর সমস্যা, নিজের সমস্যা তাঁর নিকট কোন সমস্যাই ছিলো না। এটাই হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়া। তিনি একজন দেশপ্রেমিক ছিলেন। তিনি দেশের জন্য অনেক কিছু করে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু হলে মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের হয়ে ভারতের বিপক্ষে যুদ্ধে অবতীর্ন হয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে ভারত পরাজিত হয়েছিলো। সেনা সদস্য যাদের বাড়িতে আছে, আর সেই সদস্য যদি যুদ্ধে যায় তাহলে ঐ পরিবারের সদস্যদের অবস্থাটা কি হয় তা ঐ পরিবারের সদস্যরাই জানেন। বেগম জিয়া তখণ থেকেই তিনি নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন। এরপর ১৯৭১ সালে শুরু হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ। এই যুদ্ধে অংশগ্রহন ও পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে বাঁচাতে মেজর জিয়াউর রহমান পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন। এরপর তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। একজন সামরিক সদস্য যদি তার দেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন তাহলে সে দেশ তাঁকে কি বলে আখ্যাদেয় তা সবাই জানে। সে অবস্থাতেই বেগম জিয়া পাকিস্তান থেকে জাহাজে করে চট্টগ্রামে চলে আসেন। সেখান থেকে তিনি তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় পৌঁছালে পাকিস্তানী বাহিনীর নিকট তাঁরা আটক হন।
একজন প্রতিরক্ষার বাহিনীর কর্মকর্তা যদি সেই দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেন। তাহলে সেই সদস্যও কি অবস্থা হয়। তাঁর স্ত্রী হেয়ে তিনি দীর্ঘ নয়মাস সেখানে তিনি আটক ছিলেন। সেখান নিজেকে আরো দৃঢ়চিত্তের করে গড়ে তুলেছিলেন বলে জানান মিলন। এরপর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালে শহীদ হওয়ার পরে তিনি বিএনপির হাল ধরেন এবং স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। সেইসাথে অন্যান্য দল বেইমানী ও মেনাফেকী করলেও তিনি জনগণকে সাথে নিয়ে একাই নেতৃত্ব দিয়ে এরশাদের পতন ঘটান। এরপর ১৯৯১ সালে নির্বাচনের মাধ্যেমে তিনি সংসদ সদস্য নির্চাচিত হন এবং সেইসাথে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহন করেন।
তিনি বলেন, তাঁর মৃত্যু সবাইকে একতাবদ্ধ হতে শিখিয়ে গেছে। কারণ তাঁর জানাযায় বিশ্বের ২৬টি রাষ্ট্র থেকে নেতৃবৃন্দ এসেছিলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পরে বিশ্বে এমন কোন নেতার জানাযায় এত লোক হয়নি বলে জানান তিনি। তিনি বেগম জিয়া, আরাফাত রহমান কোকো, জুলাই যুদ্ধে সকল শহীদ ও দীর্ঘ সতের বছরে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সকল মৃত মুসলিম ব্যক্তির আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। সেইসাথে যারা অসুস্থ আছেন তাদের সুস্থতা কামনা করে আসছে নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে সবাইকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন। বক্তব্য শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন মৌগাছী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নূওে আলম সিদ্দিকী মুকুল। সাধারণ সম্পাদক ইউনুচ আলীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য ও মোহনপুর উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুস সামাদ, জেলা বিএনপির সদস্য ও নওহাটা পৌর সাবেক মেয়র শেখ মকবুল হোসে, জেলা বিএনপির সদস্য ও পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, জেলা বিএনপির সদস্য কামরুজ্জামান হেনা, মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শামিমুল ইসলাম মুন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক বাচ্চু রহমান, শাহীন আক্তার সামসুজ্জাহা, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজিম উদ্দিন সরকার, কেশরহাট পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক খুশবুর রহমান।
আরো উপস্থিত ছিলেন জাহানাবাদ ইউনিয়ন বএিনপির সভাপতি জিল্লুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম, ধুরইল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোখলেসুর রহমান, মোহনপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলেল আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদ সৈয়দা রুমেনা হক, মোহনপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আব্দুর রাজ্জাক ও সদস্য সচিব মাহমুদুল হাসান রুবেল সহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ জনগণ।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST