২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
অনলাইন সংস্করণ

যশোরের ঐতিহ্যবাহি মণিহার সিনেমা হল বন্ধের পথে

মনির হোসেন বেনাপোল : এশিয়ার এক সময় দ্বিতীয় বৃহত্তম সিনেমা হল হিসাবে খ্যাত মণিহার—আজ সেই দিনগুলোকে শুধু স্মৃতিতে ধারণ করতে হলো। এক সময় সিনেমাপ্রেমীদের ভিড় সর্বদা লক্ষ্য করত এই হলের পথে। কিন্তু এখন শুধু ঈদে দুইবার দর্শক আসে; অন্য সময় মুখোশধারী খালি আসনই সাক্ষী দিচ্ছে শিকড়হীন সময়ের।

হল মালিক জিয়াউল ইসলাম মিঠু বলেন,“এখন টলিউড অভিনেতা জিতের ‘অভিমান’ ছবিটি চলছে। এর আগে তিনবার চালিয়েছি, এখন চারবার। কিন্তু দর্শক সমাগম নেই বললেই চলে। ছবিটি আজ অনলাইন বা মোবাইলে সার্চ দিলেই পাওয়া যায়—সিনেমা হলে আসার প্রয়োজন কম।”

মণিহারের বন্ধ হওয়ার কারণগুলো শুধু দর্শকসংখ্যার হ্রাসেই সীমাবদ্ধ নয়। ঢালিউডে নতুন ছবি না আসায় হল সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। মিঠু জানান, ঈদ মৌসুম ছাড়া হল এখন নিজের খরচ তুলতে পারছে না। কমপ্লেক্সের দোকান ও হোটেল থেকে যে আয় হয়, তা দিয়েই রক্ষণাবেক্ষণ চালানো হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ   সাংবাদিক কল্যাণ তহবিলের বাৎসরিক ফ্যামিলি ডে পালিত

“একসময় ১৩ শতাধিক সিনেমা হল ছিল। এখন কমতে কমতে ৭০–৭৫টি হলে ঠেকেছে। অতিসম্প্রতি আরও কয়েকটি বন্ধ হয়ে গেছে। মণিহারও শিগগিরই বন্ধ হওয়ার পথে। যদি শুধু সিনেমা হল হতো, এতদিনে বন্ধ হয়ে যেত। আমাদের আশেপাশে কিছু দোকান আছে বলেই টিকে ছিলাম।”

নতুন ছবি না থাকা আর আর্ট ফিল্মের সঙ্কট আরও চাপ বাড়িয়েছে। মিঠু বলেন, “যত ভালো ছবি পাব, হল তত ভালো চলবে। ঈদের পর তিনটি ছবি পেলাম। এরপর থেকে আর কোনো ছবি নেই। এ অবস্থায় হলে ছবি চালানো সম্ভব নয়।”

মনিহার সিনেমা হলে ছবি দেখতে আসা দর্শক মো.সালাউদ্দিন বলেন, নতুন নতুন ছবি তৈরি না হলে আমরা হলে আসবো না। কারণ দর্শক সব সময় নতুন ছবি দেখে। পুরাতন ছবির কোন চাহিদা নাই আমাদের।
এদেশের নতুন ছবি তৈরীর জন্য একান্ত প্রয়োজন,দর্শকদের জন্য।

ঢালিউডের দৈন্যকাল, নতুন বিদেশি ছবি আমদানি বন্ধ, এবং দেশের প্রোডাকশন না হওয়া—এই তিনটি মিলিত কারণে মণিহারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। মিঠু বলেন, “সিনেমা হল বাঁচাতে হলে বেশি ভালো ছবি বানাতে হবে। আগে সপ্তাহে দুটি ছবি পেতাম, এখন মাসে দু’টি পাওয়াও কষ্টকর। বিদেশি ছবি আমদানি বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ।”

আরও পড়ুনঃ   পুঠিয়ায় উপজেলা দিবস উদ্যাপন: শ্রেষ্ঠ সাংবাদিক নির্বাচিত মেহেদী হাসান

১৯৮৩ সালের ৮ ডিসেম্বর যশোরের সিনেমা ইতিহাসে জনি সিনেমা দিয়ে প্রথমবার পথচলা শুরু করা হয়। মণিহার হলের মোট আসন সংখ্যা ১,৪০০। কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান এর তত্ত্বাবধানে আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে নির্মাণ ও সাজসজ্জা সম্পন্ন হয়েছিল। আজ সেই প্রাচীন বিশাল হলের শূন্য আসনগুলো যেন অতীতের গৌরব ও মধুর স্মৃতিকে চুপচাপ সংরক্ষণ করছে।

মণিহার শুধু একটি হল নয়—এটি যশোরের সিনেমা সংস্কৃতির স্মৃতি, যেখানে প্রতিটি আসন, প্রতিটি স্ক্রিনে বেজে উঠত মানুষ ও গল্পের মিলন। আর এখন সেই ইতিহাসের প্রতি চুপচাপ শ্রদ্ধা জানিয়ে, বন্ধ হওয়ার দিনটির দিকে এগোচ্ছে মণিহার।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

খামেনির মৃত্যু: ১০০ দিন পরও হয়নি দাফন, উত্তরসূরিকে নিয়েও রহস্য

রাজশাহীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত

সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের ভূমিকার কোনো বিকল্প নেই : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমান চোরাচালানী মালামাল জব্দ

রাজশাহীর ক্রীড়াঙ্গনকে আরও এগিয়ে নেওয়া হবে : রাসিক প্রশাসক

রাত্রিকালীন রেলযাত্রীদের নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছাতে আরএমপির উদ্যোগ

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সাথে রাসিক প্রশাসকের সাক্ষাৎ

অপরাধ দমনে ভালো কাজের জন্য পুরস্কার ও গাফিলতিতে তিরস্কারের নীতি বহাল থাকবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাসিক প্রশাসকের সাথে জনতা ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজারের সাক্ষাৎ

মান্দায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ৪

১০

নগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ২৭

১১

নগরীতে আওয়ামীলীগের মিছিলের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১

১২

নগরীতে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৬

১৩

রামেক হাসপাতালে কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

১৪

রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল রানা-স্বপ্না খাতুনের মৃত্যুদণ্ড

১৫

শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

১৬

টানা ছুটি শেষে আজ শ্রেণিকক্ষে ফিরছে লাখো শিক্ষার্থী

১৭

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন বসছে আজ

১৮

১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য বড় শক্তি : তথ্যমন্ত্রী

১৯

জিয়াউর রহমান ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশ পুনর্গঠনের মহান স্থপতি : মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

২০

Design & Developed by: BD IT HOST