২ অগাস্ট ২০২৪
অনলাইন সংস্করণ

গোদাগাড়ীতে পদ্মায় তলিয়ে গেলো ১১ জেলের নৌকা-জাল

গোদাগাড়ী প্রতিনিধি: দক্ষিণা ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় জেলেদের নৌকা-জালসহ পদ্মানদীতে তলিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২ টার পর হঠাৎ করেই বৃষ্টির সাথে ঝড় বইতে শুরু করে। এতে করে গোদাগাড়ী পৌর এলাকার মাটিকাটা দেওয়ান পাড়া এলাকায় পদ্মানদীর তীরে জেলেদের প্রায় শতাধিক নৌকা ঘাটে বাঁধা ছিলো। প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ে স্রোতের কবলে পড়ে প্রায় ১৫ জন জেলের নৌকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে করে প্রতিটি জেলে প্রায় দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
নৌকা হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ জেলেরা হলেন, মাদারপুর দেওয়াপড়া এলাকার সাইফুলের ছেলে আরমান ও সুরমান, আব্দুল বারীর ছেলে বাবু বাঘা, সফিকুল ইসলামের ছেলে মুরসালিন, আব্দুস সালামের ছেলে মহবুল ইসলাম, নইমুদ্দিনের ছেলে সাব্বির হোসেন, আতার উদ্দিনের ছেলে সুমন আলী, সেফান আলীর ছেলে মূলক চাঁন ও সাহাবুল, মতিউরের ছেলে কবির হোসেন ও শুকুরুদ্দীনের ছেলে কামাল উদ্দিন।
দেওয়ান পাড়া এলাকার জেলে জামাল উদ্দীন জানান, আমার জেলে জীবনে কোন বছর এমন পানি ও দক্ষিণা ঝড় দেখিনি। তবে এবার প্রচন্ড বৃষ্টি ও ঝড়ের কারনে নদী তীরে বাঁধা প্রায় ১৫টি নৌকা তলিয়ে গেছে। সকালে নদী তীরে এসে দেখি নৌকা গুলি নাই। পরে যেখানে নৌকা বাঁধা ছিলো সেখানে পানির নিচে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাইনি। ধারণা করা হচ্ছে স্রোতের তরে ভেসে গেছে যা আর পাওয়া সম্ভব না।
জেলে আরমান আলী বলেন, ২০ ফিটের প্রতিটি নৌকা তৈরীতে প্রায় লক্ষাধিক টাকার উপর খরচ হয়। এছাড়াও জেলেরা ২০-৪৫ হাজার টাকা দামের বিভিন্ন ধরনের জাল, স্যালো ইঞ্চিনসহ নৌকার আনুসঙ্গিক খরচসহ প্রতিটি জেলের ২ লক্ষাধিক টাকার খরচ হয়েছে। যা জেলেদের নিজেদের ক্ষতি পুষিয়ে উঠা খুব মুশকিল।
জেলে মুরসালিন বলেন, আমরা এনজিও থেকে কিস্তি নিয়ে ও মাহজনদের নিকট থেকে টাকা নিয়ে নৌকা- জাল বানিয়ে এই বর্ষা মৌসুমে নদীতে মাছ ধরতে যায়। অন্যান্য সময় নদীতে মাছ তেমন পাওয়া না গেলেও এই মৌসুমের অপেক্ষায় থাকি। এই মৌসুমে বেশী মাছ পাওয়ায় সারা বছরের ইনকাম কোন রকম হয়। তবে হঠাৎ এই ঝড়ে নৌকা গুলো পানির তলে হারিয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছি। মাথায় এখন চিন্তা কি করে কিস্তি চালাবো ও মহাজনদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা পরিশোধ করবো। সরকারের পক্ষ থেকে যদি কোন সহযোগিতা পাওয়া যেতো তাহলে আমাদের কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে উঠা সম্ভব হতো।
গোদাগাড়ী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বরুণ কুমার মন্ডন বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী মাছ ধরার সময় কোন জেলে যদি আহত হয় সেক্ষেত্রে ৩০ হাজার নিহত হলে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার বিধান রয়েছে। অন্যান্য ক্ষেত্রে দেওয়ার কোন নিয়ম নেই। তবে যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তাদের নাম ঠিকানা দিলে কোন সুযোগ থাকলে তা দেখা হবে বলে জানান।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রাজশাহীতে তেল নিতে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে হিটস্ট্রোকে বৃদ্ধের মৃত্যু

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক-এ ফায়ার ড্রিল অনুষ্ঠিত

রাজশাহীতে বৈচিত্রকৃত পাটপণ্য উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক প্রশিক্ষণ

চারঘাট হতে অ্যামোনেশনসহ বিদেশি ওয়ান শুটার গান উদ্ধার

জলমহাল কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের : ভূমিমন্ত্রী

শহর ঘুরে দেখুন, জনগণের কাছে যান -স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

বোরো মৌসুমে ১৮ লাখ মেট্রিক টন ধান ও চাল কিনবে সরকার

নিরাপত্তার আশ্বাসে রামেকে কাজে ফিরলেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

নতুন যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রোডম্যাপ তৈরিতে ইউনেস্কোর সহায়তা কামনা তথ্যমন্ত্রীর

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের প্রতি পাকিস্তানের আহ্বান

১০

সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে ভারতীয় মাদকদ্রব্য জব্দ

১১

গোদাগাড়ীতে নাবিল গ্রুপের বর্জ্যে চরম দূষণ: ভ্রাম্যমাণ আদালতে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ

১২

চারঘাটে পৃথক সময়ে ট্রেনে কাটা পড়ে দুইজনের মৃত্যু

১৩

নগরীর অটোরিক্সা চালকদের সাথে রাসিক প্রশাসকের মতবিনিময়

১৪

সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা

১৫

পুঠিয়ায় কৃষি অফিসের উদ্যোগে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস অনুষ্ঠিত

১৬

রাজশাহী চিড়িয়াখানার অভ্যন্তরে উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নে নির্দেশনা দিলেন রাসিক প্রশাসক

১৭

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষা প্রথম দিনে ৯৯ শতাংশ পরীক্ষার্থীর উপস্থিতি

১৮

নগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ২১

১৯

নিয়মমত অফিসে আসেন না পিআইও, ব্যহত হচ্ছে নাগরিক সেবা ও দাপ্তরিক কার্যক্রম

২০

Design & Developed by: BD IT HOST