২৩ জুন ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ

সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি সম্ভব : বাণিজ্যমন্ত্রী

মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বেসরকারি খাতগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা মূল্যায়ন গবেষণা’ শীর্ষক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত প্রকল্পের ডিপিপি উপস্থাপন ও কনসালটেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ছবি : পিআইডি

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের রপ্তানি আয় বর্তমান প্রায় ৫০-৫৫ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি থেকে ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, সম্ভাবনাময় কয়েকটি খাতকে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, নীতিগত সহায়তা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে এগিয়ে নিতে পারলে এ লক্ষ্য অর্জন কঠিন নয়।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বেসরকারি খাতগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা মূল্যায়ন গবেষণা’ শীর্ষক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত প্রকল্পের ডিপিপি উপস্থাপন ও কনসালটেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের সকল শর্ত পূরণ করেছে। এখন মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে উত্তরণের পর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এবং পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করা। এজন্য শিল্পখাতে দক্ষতা বৃদ্ধি, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তি অভিযোজনের ওপর জোর দিতে হবে। তিনি বলেন, এক্সপোর্ট কমপিটিটিভনেস ফর জবস (ইসিফোর-জে) প্রকল্পের মূল ধারণা সময়োপযোগী হলেও প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অন্যতম বড় দুর্বলতা। ভবিষ্যতে প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পন্ন নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন সক্ষমতা রাখতে হবে।

মন্ত্রী জানান, লেদার ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে প্রতিষ্ঠিত অবকাঠামো আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র হিসেবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালনা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে দেশীয় শিল্প দ্রুত বৈশ্বিক মানদণ্ডে পৌঁছাতে পারে।

আরও পড়ুনঃ   বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় চীনা বিনিয়োগকারীদের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জুট খাতের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাঁচা পাট রপ্তানির তুলনায় মূল্য সংযোজিত পাটপণ্য ও জুট-ভিত্তিক ফ্যাব্রিক উৎপাদনে বহুগুণ বেশি আয় সম্ভব। এ খাতে গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে চীনের সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরো বলেন, শিল্প উন্নয়নে সরকার, বেসরকারি খাত ও একাডেমিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে। সফল দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি প্রকল্পের লক্ষ্য, কর্মপদ্ধতি ও ফলাফল নিয়মিত মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের সমস্যা সমাধানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, আপনাদের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা শুনতে আমরা প্রস্তুত। সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধন গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র‍্যাপিড)-এর চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক।

বাণিজ্য সচিব বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং দেশের রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার একটি সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে বেসরকারি খাতের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও চাহিদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সেক্টরভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। আজ অনুষ্ঠিত স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন ওয়ার্কশপে বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞদের দেওয়া মতামত প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুনঃ   হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে পদক্ষেপ নেবে ঢাকা : তৌহিদ

তিনি আরো বলেন, রপ্তানি খাতের পুনরুদ্ধার, পুনর্গঠন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে জাতীয় বাজেটের অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ব্যবসা সহজীকরণ, ডিজিটালাইজেশন, নীতিগত সহায়তা এবং প্রক্রিয়া সরলীকরণের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও টেকসই মডেল গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং সম্ভব হলে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)-কে বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে সম্পৃক্ত করে প্রকল্পটি পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এমন একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে, যা এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এক্সপোর্ট কমপিটিটিভনেস ফর জবস (ইসিফোর-জে) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সেখ মোহাম্মদ আব্দুর রহমান এবং বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট হোসনা ফেরদৌস সুমি।

বিভিন্ন শিল্পখাতের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, নীতিনির্ধারক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।
#

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রুয়েট শিক্ষকদের অংশগ্রহণে একাডেমিক উৎকর্ষ সাধন বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

নগরীতে মাদক বিরোধী অভিযানে নারীসহ গ্রেপ্তার ১৩

রুয়েটের নবীন শিক্ষার্থীরা পেলেন মেশিন রিডেবল লাইব্রেরি কার্ড

মোহনপুরে রাজ্জাক হত্যা মামলার দুই আসামীকে গাজীপুর থেকে গ্রেফতার

নগরীতে মাদকবিরোধী বিশেষ টিমের অভিযানে গ্রেপ্তার ১

আঞ্চলিক যুদ্ধের মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা চুক্তি সই

জুলাইয়ের শহীদ ও আহত ১০ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

সীমান্তে বিজিবির অভিযানে বিপুল পরিমান ভারতীয় মাদকদ্রব্য জব্দ

নেপালের আকাশে ভয় পেলেন অপু বিশ্বাস!

১০

বগুড়া এরুলিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘট্নায় সকালে ৭ জন, বিকেলে ২ জন নিহত

১১

রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ

১২

নগরীর মসজিদ ও ঈদগাহ পরিদর্শনে রাসিক প্রশাসক

১৩

নাটোরের অপহরণ মামলার প্রধান আসামি সাভারে আটক

১৪

নওগাঁর মান্দায় ২৯৬ বোতল ফেন্সিডিলসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেফতার

১৫

কিডনি রোগে আক্রান্ত অসহায় রোগীর পাশে পুঠিয়ার এসিল্যান্ড

১৬

নগরীতে মাদকবিরোধী বিশেষ টিমের অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী স্বামী-স্ত্রী গ্রেপ্তার

১৭

নগরীতে মাদক বিরোধী পৃথক অভিযানে নারীসহ গ্রেপ্তার ৪

১৮

নগরীতে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন

১৯

থাইল্যান্ডে স্কুলে গুলিতে নিহত ৪, আহত ১৫ শিক্ষার্থী

২০

Design & Developed by: BD IT HOST