
স্টাফ রিপোর্টার : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে নির্বাচনপূর্ব, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচনোত্তর আচরণ বিধিমালা প্রতিপালন এবং আইন-শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে রাজশাহী বিভাগের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাগণের সাথে নির্বাচনী সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাজশাহী সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। এদিন দুপুর আড়াইটা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সমন্বয় সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, বিজিবি রাজশাহীর সেক্টর কমান্ডার, আনসার ও ভিডিপি, রাজশাহীর পরিচালক, রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, র্যাব-১২/৫, সিরাজগঞ্জ/রাজশাহীর অধিনায়ক এবং যৌথবাহিনীর পক্ষে সেনাবাহিনীর রাজশাহী জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডিং অফিসার। সভায় এ বিভাগের আট জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, আনসারের জেলা কমান্ড্যান্ট, জেলা নির্বাচন অফিসার এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ বলেন, ‘আমরা চাই একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে। এর কোন ব্যত্যয় হতে দেবো না, হবে না। আমরা প্রমাণ করবো বাংলাদেশ একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন করতে পারে। প্রার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও সরকার নির্দেশ দিয়েছেন, আমরা সেই মোতাবেক ব্যবস্থা নিব।
নির্বাচনী সমন্বয় সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, আপনারা অবগত আছেন যে, গত ১১ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষনা করেছেন। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবারের নির্বাচনকে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সেই প্রত্যয়ের ধারাবাহিকতায় রাজশাহী বিভাগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, নিরপেক্ষ ও সর্বাঙ্গসুন্দরভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে আজ আমরা প্রথম বিভাগীয় পর্যায়ে নির্বাচনী সমন্বয় সভার আয়োজন করেছি। নির্বাচনী সমন্বয় সভায় নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তা বাস্তবায়নের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে;
১। আচরণবিধি প্রতিপালনে ইতোমধ্যেই আপনারা লক্ষ্য করেছেন প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় নিয়ম বর্হিভূত পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন ও দখলকৃত ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে দেয়া হয়েছে এবং এ কার্যক্রম প্রতিনিয়তই অব্যাহত থাকবে।
২। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ চোরাকারবারী বা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনগুলোর অপতৎপরতারোধে নিয়মিতভাবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে টাক্সফোর্স অপারেশন চালানো হচ্ছে, যা অব্যাহত থাকবে।
৩। সাজাপ্রাপ্ত আসামী ধরা এবং চলমান ওয়ারেন্টগুলো দ্রুত তামিলসহ দাগী আসামীদের ধরার ক্ষেত্রে অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ এর কার্যক্রম চলমান থাকবে। অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে এই অপারেশন কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
৪। উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ে আচরণবিধি পালনের ক্ষেত্রে সকল আইন শৃংখলা বাহিনী এবং প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরসমূহের মধ্যে সার্বিক সমন্বয়ের জন্য জেলা কোর কমিটিসহ নির্বাচনী সমন্বয় সভা পরিচালনা করা হচ্ছে। উক্ত সমন্বয়ের ক্ষেত্রে নির্বাচনকালীন সুনির্দিষ্ট রোড ম্যাপ প্রনয়ণপূর্বক তা বাস্তবায়ন করা হবে।
৫। আরচণবিধি প্রতিপালন, নির্বাচনী অপরাধ দমনে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রতি উপজেলায় ২ জন করে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে।
৬। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রদান এবং সর্বস্তরের নারী পুরুষ যাতে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে স্বত:স্ফূর্তভাবে অংশ নেয় তার জন্য সর্বোচ্চ প্রচারণা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে যথাসম্ভব সিসি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৭। বিভাগে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভার ন্যায় জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারগণ তাঁর জেলাধীন সব উপজেলার কর্মকর্তাগণের সমন্বয়ে সমন্বয় সভা করবেন ও বিভাগে প্রতিবেদন প্রদান করবেন।
৮। গণভোট ও পোস্টাল ভোট বিষয়ে তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতা কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলবে। এ বিষয়ে সরকারি টিভিসি ও প্রচার সামগ্রী যথাযথভাবে প্রচার করা হবে।
লিখিত বক্তব্যে আরো জানানো হয়, এবারের নির্বাচন নানা কারণে বিগত নির্বাচনগুলো থেকে স্বতন্ত্র। এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। সাম্প্রতিককালে গণভোটের অভিজ্ঞতা না থাকায় অনেক মানুষের গণভোট বিষয়ক ধারণা ততোটা স্পষ্ট নয়। আমরা প্রত্যাশা করি, সাধারণ মানুষের কাছে গণভোট বিষয়টা স্পষ্ট করার জন্য আপনারা আপনাদের গণমাধ্যমে এ বিষয়ে বেশি বেশি প্রচার করবেন। প্রবাসীরা এবার প্রথমবারের মতো পোস্টাল ভোটের সুযোগ পাচ্ছে। পোস্টাল ভোট বিডি-এ ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, ইতোমধ্যে চার লাখের বেশি মানুষ পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছে। এ সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। পোস্টাল ভোটের জন্য শুধু প্রবাসীরাই নয়, দেশের মধ্যে যারা নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত বা সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্য যারা নিজেদের ভোট কেন্দ্র থেকে দূরে থাকবেন তারাও পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করছেন।
নির্বাচনের অংশীজন অসংখ্য। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সকল অংশীজনের দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। এ বাস্তবতায় গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে এবারের নির্বাচনে আপনারা আপনাদের পেশাগত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করবেন সে বিশ্বাস আমাদের আছে। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত নির্বাচনি সংবাদ সংগ্রহে দায়িত্বপ্রাপ্ত গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য যে নতুন নীতিমালা প্রকাশ করেছে, আপনারা নিশ্চয় ইতোমধ্যে তা দেখেছেন। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা রাজশাহী বিভাগে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারবো সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করছি। সবশেষে এবারের নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST