স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীর কথিত ব্লগার আল-আমিন ও তুলি নামের দুইজন ব্লগার তাদের আইডিতে অতিথি পাখি শিকার করে রান্না করে খাওয়া হবে এমন সংলাপ দিয়ে ৩৫-৪০ সেকেন্ডের দুইটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুকে) ছাড়ে। যা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
প্রাণিবিজ্ঞানীদের মতে, বাংলাদেশের পাখি দুই শ্রেণির। আবাসিক আর অনাবাসিক। অতিথি পাখি অনাবাসিক শ্রেণির আওতায় পড়ে। আবাসিক ও অনাবাসিক মিলে দেশে প্রায় ৬৫০ প্রজাতির পাখি রয়েছে। যার মধ্যে ৩৬০ প্রজাতি আবাসিক। বাকি ৩০০ প্রজাতি অনাবাসিক। সব অনাবাসিক পাখি শীতের সময় আসে না। ৩০০ প্রজাতির মধ্যে ২৯০টি শীত মৌসুমে আসে ও ১০টি প্রজাতি থেকে যায়।
সামান্য মুনাফার লোভে কিছু অসাধু ব্যক্তি বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করে পাখি নিধনে মত্ত হয়ে ওঠে। বাজারে পাখির প্রচুর চাহিদাও রয়েছে। কোনোভাবে ধরতে পারলেই বিক্রি করতে খুব একটা বেগ পোহাতে হয়না। ৫’শ থেকে ১-২ হাজার টাকা পর্যন্তও অনায়াসে এসব পাখি বিক্রি হয়ে যায়।
বে-আইনিভাবেই শিকার হচ্ছে এসব পাখি। যা দণ্ডনীয় ফৌজদারি অপরাধ। ১৯৭৪ সালে বন্যপ্রাণী রক্ষা আইন ও ২০১২ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে দণ্ডের বিধান রয়েছে।
অতিথি পাখি শিকার করে ভিডিও প্রচারের বিষয়ে ব্লগার আল-আমিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন “অতিথি পাখি শিকার করা অপরাধ এটা আমি জানতাম না, ভিডিও প্রচার হবার পরেও কেউ আমাকে জানায়নি।” তুলির ভিডিওর বিষয়ে জানতে চাইলে সে তাকে চেনে না বলে জানায় এমনকি বলে তার ভিডিওর বিষয়ে সে কোন দায়ভার নিবে না “। প্রতিবেদকের সাথে কথা বলার কিছু সময় পরই আল-আমিন তার আইডি থেকে ভিডিও মুছে ( ডিলিট) ফেলে। তবে একাধিক ভিডিওতে আল-আমিন ও তুলিকে একসাথে ভিডিও করতে দেখা গেলেও তুলির মোবাইল নাম্বার তার কাছে নাই বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পরবর্তীতে যোগাযোগ করা হলে সে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য বলে। তুলির সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি তাই তার মতামত জানা যায়নি।
এ বিষয়ে রাজশাহী তথা বরেন্দ্র অঞ্চলে পরিবেশ-প্রতিবেশ, প্রাণ-প্রকৃতি, প্রাণবৈচিত্র্য, জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা,মানবিক কাজ করে যাচ্ছে ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ (ইয়্যাস) এর সাধারণ সম্পাদক মো. আতিকুর রহমান আতিক বলেন ” ভিডিও ফুটেজে আমি যা দেখলাম তা অত্যন্ত ভয়াবহ। পাখি শিকার কারীরা এভাবে প্রকাশ্যে পরিযায়ী পাখি ধরার প্ররোচনা ও জবাই করে রোস্ট করে খাওয়ার প্ররোচনা করেছেন। অথচ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২ অনুযায়ী কোন ব্যক্তি উল্লিখিত কোন পাখি বা পরিযায়ী পাখির ট্রফি বা অসম্পূর্ণ ট্রফি, মাংস দেহের অংশ সংগ্রহ করিলে, দখলে রাখিলে বা ক্রয় বা বিক্রয় করিলে বা পরিবহন করিলে তিনি অপরাধ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবেন এবং উক্তরূপ অপরাধের জন্য তিনি সর্বোচ্চ ৬ (ছয়) মাস পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ৩০ (ত্রিশ) হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাইলে সর্বোচ্চ ১ (এক) বৎসর পর্যন্ত কারাদন্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন।”
তিনি আরও বলেন “সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এতকিছু প্রমান থাকা সত্ত্বেও যদি অতিদ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করেন তাহলে আমরা অতি শীঘ্রই সকল পাখি প্রেমীদের নিয়ে গন আন্দোলন গড়ে তুলব।”
সেভ দি ন্যাচার এ্যান্ড লাইফ এর চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন ” ব্লগাররা পাখি শিকার করা ও তা প্রচার করে আইন অমান্য করেছে, আমি বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে অনুরোধ জানাবো এদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দেওয়া হোক যেন অন্যরা ভবিষ্যতে এমন অপরাধ করা থেকে বিরত থাকে। ”
বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়, বণ্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ রাজশাহীর বণ্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির বলেন ” এটা অপরাধ, ভিডিওতে প্রচার করে মানুষের মাঝে পাখি শিকার করাকে বৈধ ধারনা দেওয়া বা উৎসাহীত করা হয়েছে, এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ আমি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো ” এছাড়া তিনি আরও বলেন আমরা প্রতিনিয়ত পাখি শিকার রোধে কাজ করছি সেখানে এই ভিডিও আমাদের কাজের সাথে বিরোধী সম্পর্ক মানুষের মাঝে পোষণ করতে সহযোগিতা করবে।”
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST