২৯ জুলাই ২০২৪
অনলাইন সংস্করণ

মহাসড়ক অবরোধ করে রাবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

রাবি প্রতিবেদক : দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ছাত্রলীগের আক্রমণে নিহত হওয়া এবং ডিবি কার্যালয়ে জিম্মি রেখে সমন্বয়কদের মাধ্যমে জোরপূর্বক বিবৃতি আদায়ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (২৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনের ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে এ বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টেরের পদত্যাগ দাবি করে কেন্দ্রীয় সমন্বয় পরিষদের নয় দফা দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন তারা।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সমাবেশে অংশগ্রহণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সালেহ হাসান নকীব, আরবি বিভাগের অধ্যাপক ইফতেখারুল আলম মাসউদ, সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জামিরুল ইসলাম ও ড মো. সাইফুল ইসলাম।

এসময় ‘বুকের ভেতর অনেক ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর’, ‘আমার ভাই মরলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, বৈষম্যের ঠাই নাই’, ‘জেগেছেরে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে’, ‘আবু সাঈদ মরলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই, ‘লেগেছেরে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে’, ‘আমাদের হল বন্ধ কেন, প্রশাসন জবাব চাই’ এমনসব স্লোগান দিতে দেখা যায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের।

সমাবেশে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, রাবির অন্যতম সমন্বয়ক মেহেদী হাসান সজীব বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের তুলে নিয়ে ডিবি কার্যালয়ে জিম্মি করে অস্ত্রের মুখে স্ক্রিপ্টেড বিবৃতি দিয়ে, ছাত্রসমাজের দাবিসমূহের প্রতি সরকার চরম ধৃষ্টতা প্রদর্শন করেছে।

শুধু তাই নয়, সারাদেশে রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত শহীদদের পরিবারকে হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে, আর্মড ফোর্সকে ব্যবহার করে ঢাকায় এনে সরকার তাদের থেকে মিথ্যা জবানবন্দি নেওয়া ও সমস্ত দায় আন্দোলনকারীদের উপর চাপিয়ে শহীদের রক্তের সাথে তামাশা করেছে। আমরা এতোদিন চুপ ছিলাম এখন আর নয়।

আরও পড়ুনঃ   দলীয় সংসদ সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের প্রফেসর ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, এতো বিরূপ পরিস্থিতিতে এতো রক্ত ও অনেক শহীদের মধ্যেও তোমরা যে সাহস ও সচেতন হয়ে দাঁড়িয়েছ এটাই শহীদদের আত্মার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। শহীদদের সেই স্বপ্ন, একটি মানবিক বাংলাদেশ কায়েম করতে হবে। সেই স্বপ্নকে আমাদের সবাইকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

তোমাদের দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। একটি সুস্থ ও সভ্য সমাজে এ ধরনের দাবিগুলো জানাতে হয় না, এমনি পূরণ হয়ে যায়। আজকে এই বিনা ভোটের সরকার দেশকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছেন আমাদেরকে আজ ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে ছাত্র-শিক্ষকদের রাস্তায় দাঁড়াতে হচ্ছে। আমরা এর দ্রুত অবসান চাই।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব, এই মুহূর্তে আমরা রক্তের উপর দাড়িয়ে আছি। ঠান্ডা মাথায় মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং রাষ্ট্র জুড়ে যে অরাজকতা তৈরি করা হয়েছে তা শুধু যে আমাদের ব্যথিত করেছে তা নয়। আমরা বিক্ষুব্ধ।

আমি ছাত্র ছাত্রীদের বলতে চাই শুধু এখন নয়, সারা জীবন তোমরা ন্যায্যতার পথে থাকবে। তোমরা সুবিচারের পক্ষে আছো, ন্যায় বিচারের পক্ষে আছো, ন্যায়ের পক্ষে আছো। তোমাদের সাহস ও দৃঢ়তা দেখে শিক্ষক হিসেবে আমি গর্ববোধ করি।

তিনি আরও বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধে আর ফিরে যেতে পারব না। নতুন করে মুক্তিযুদ্ধা হওয়ার কোন সুযোগ নেই। তবে যারা ন্যায়, ন্যায্যতা ও অধিকারের পক্ষে আছেন তারা এই যুগের রাজাকার। যারা মানুষের অধিকার হরণ করে, যাদের কাছে মানুষের রক্তের দাম নেই, যারা ন্যায় বিচারের পক্ষে দাঁড়াতে পারে না, সাহস নেই, সত্যি কথা বলতে পারে না তাদের মুখে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা জঘন্য শোনায়।
বিক্ষোভ সমাবেশে বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত। তাদের নিকটেই পুলিশ দাড়িয়ে ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

আরও পড়ুনঃ   মেট্রোরেলের কাজীপাড়া স্টেশন চালু শিগগির, মিরপুর-১০ চালুতে বেশ দেরি

উল্লেখ্য, এখন নয় দফা দাবিতে আন্দোলন করছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবিগুলো হলো- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ছাত্র হত্যার দায় নিয়ে জাতির কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে; আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী সন্ত্রাসী কর্তৃক ছাত্র হত্যার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে মন্ত্রীপরিষদ এবং দল থেকে পদত্যাগ করতে হবে; ঢাকাসহ যত জায়গায় শহিদ হয়েছে সেখানকার ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার ও পুলিশ সুপারদের চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে; ঢাবি, জাবি ও রাবির ভিসি ও প্রক্টরকে পদত্যাগ করতে হবে।

এছাড়া, যে পুলিশ সদস্যরা শিক্ষার্থীদের উপর গুলি করেছে, ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ যে সকল সন্ত্রাসীরা শিক্ষার্থীদের উপর নৃশংস হামলা পরিচালনা করেছে এবং পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে তাদেরকে আটক করে এবং হত্যা মামলা দায়ের করে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার দেখাতে হবে; দেশব্যাপী যে সকল শিক্ষার্থী ও নাগরিক শহিদ ও আহত হয়েছে তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে; সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগ নামক সন্ত্রাসী সংগঠনসহ সকল দলীয় লেজুড়ভিত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে ছাত্রসংসদকে কার্যকর করতে হবে; অবিলম্বে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হলগুলো খুলে দিতে হবে এবং কোটা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কোনো ধরনের হয়রানি করা হবে না মর্মে অঙ্গীকার করতে হবে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঈদ উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনে আরএমপি কমিশনার

আন্তনগর ট্রেনে নারীদের জন্য আলাদা কোচ চালুর ঘোষণা : সেতুমন্ত্রী

কুমিল্লায় হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রাজশাহীর সংবাদপত্রগুলোতে ঈদের ছুটি ৫ দিন

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু

অ্যাঙ্গোলায় সোনার খনি ধসে নিহত ২৮

পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায় রোধে জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে রাসিক প্রশাসকের বাণী

নিয়ামতপুরে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

বড়াইগ্রামে ৭ম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা-ছেলে গ্রেফতার

১০

ঈদে ২০০ টাকা বাঁচাতে বাড়ী ফেরার পথে ঝরে গেল ১০টি প্রান

১১

ঝলমলিয়া হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়ের অভিযোগে প্রশাসনের অভিযান

১২

নগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ১৩

১৩

রামিসাসহ সারাদেশে শিশু-নারী ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন

১৪

নিয়ামতপুরে ঈদুল আজহা উপলক্ষে নগদ অর্থ বিতরণ

১৫

হারানো ফোন প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করলো পুলিশ

১৬

মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে রাজশাহী পুলিশে নিয়োগ পেলেন ৪৯ জন

১৭

প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পেলেন রাসিকের ১২৩৭জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী

১৮

নৈতিক চেতনার পুনর্গঠন এখন সময়ের দাবি

১৯

যমুনা সেতুর পূর্বপাড়ে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহত ১৫

২০

Design & Developed by: BD IT HOST