১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
অনলাইন সংস্করণ

‘শত্রুতা’ ভুলে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করল তৃণমূল

অনলাইন ডেস্ক : নেপালের সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানের জেরে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকিতে পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। এ ঝুঁকি থেকে উত্তরণে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে ইতোমধ্যে সমঝোতা করেছেন মমতা।

পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি জেলার চিকেন’স নেক এলাকায় নেপালের সঙ্গে ১০০ কিলোমিটার স্থল সীমান্ত আছে ভারতের।

গতকাল সোমবার পশ্চিমবঙ্গ সফরে গিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কলকাতায় পৌঁছানোর পর তার সঙ্গে বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মমতা বলেন, “এটা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইস্যু এবং জাতীয় নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলোর ব্যাপারে বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইস্যুগুলোতে আমরা এক।”

আরও পড়ুনঃ   ইসরায়েলে ১০০ ড্রোন, কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে ইরান

উল্লেখ্য, সরকারের দুর্নীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে ৯ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্ম (জেন জি) বিক্ষোভ শুরু করেন নেপালে। তাদের মাত্র দু’দিনের বিক্ষোভে ১১ সেপ্টেম্বর পতন ঘটে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির নেতৃত্বাধীন সরকারের এবং পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নেয় সেনাবাহিনী। পরের দিন সাবেক বিচারপতি সুশীলা কার্কি দেশটির অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হন।

তবে দেশটির সার্বিক পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক হয়নি। ফলে শিলিগুড়ি সীমান্ত দিয়ে ব্যাপকমাত্রায় অনুপ্রবেশের ঝুঁকি আছে। তাছাড়া ভারতে নকশালপন্থী মাওবাদী রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ। অন্যদিকে নেপালে কয়েকটি নকাশালপন্থি মাওবাদী রাজনৈতিক দল রয়েছে এবং সেগুলোর বেশ প্রভাবশালী। সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানেও তাদের বেশ প্রভাব ছিল।

ফলে অনুপ্রবেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ নেপাল সীমান্তে নকশালপন্থি রাজনীতি ছড়িয়ে পড়ারও ঝুঁকি রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ   ইইউ সাথে নতুন অংশীদারিত্ব চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাজ্য

গতকাল মোদির সঙ্গে মমতার বৈঠকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। প্রথমটি হলো এখন থেকে শিলিগুড়ির ভারত-নেপাল সীমান্ত পাহারায় ভারতের নিয়মিত সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোসের পাশাপাশি থাকবে আধাসামরিক বাহিনী সশস্ত্র সীমা বল বা এসএসবি। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের মধ্যে ব্যাপকমাত্রায় গোয়েন্দা তথ্যের আদান প্রদানের ব্যাপারেও একমত হয়েছেন তারা।

প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় ‘শত্রু’ বিজেপি। বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্তবর্তী এই রাজ্যটিতে দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে বিজেপি; তবে সেই পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে তৃণমূল। ভারতের বিজেপিশাসিত কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তৃণমূলের শত্রুতার প্রধান কারণ এটিই।

সূত্র : এনডিটিভি

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে ৫ ঘণ্টা পর ঢাকার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইট

১

রাজশাহীতে বাড়ির ছাদে কৃষককে ছুরিকাঘাতে হত্যা

২

পাবনায় বিএনপি নেতাসহ ২ জনকে গুলি করে হত্যা

৩

আড়ানী পৌরসভায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন

৪

নাটোরে গৃহবধু হত্যার মূল আসামিকে গ্রেফতার

৫

নিয়ামতপুরে জাতীয়তাবাদী যুবদলের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত

৬

লাখো ভক্তের পদচারণায় গোদাগাড়ীতে শুরু হলো ঠাকুর নরোত্তম দাসের তিরোভাব মহোৎসব

৭

বাগমারায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাঠে নেমে অপবাদের শিকার হচ্ছেন প্রশাসনের কর্তারা

৮

বাঘায় ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক যুবক আটক

৯

রাজশাহীতে হেরোইনসহ ২ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

১০

রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে ২৩নং ওয়ার্ডবাসীর সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়

১১

বাঘায় দিনব্যাপী উদ্যোক্তা সম্মেলন ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত

১২

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফয়সল বিজয়ী

১৩

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জাল ভোটের চেষ্টায় আটক ৩

১৪

গ্রিন ও ক্লিন সিটির ভূয়সী প্রশংসায় নরওয়ের ক্রিস্টিয়ানস্যান্ড সিটির ডেপুটি মেয়র

১৫

রাজশাহীতে ৩৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধারসহ গ্রেফতার ২

১৬

নগরীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে ২ মাদকসেবীর দন্ড

১৭

নগরীতে মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ২০

১৮

দুর্ব্যবহার নয়, মানবিক পুলিশিংয়ের মাধ্যমে আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

১৯

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো, এ সরকারের সময়ে গুম-ক্রসফায়ার হয়নি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২০

Design & Developed by: BD IT HOST