২৫ এপ্রিল ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ

রামেক হাসপাতালে নেই জলাতঙ্কের টিকা

প্রতীকী ছবি

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী অঞ্চলে জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধের সরকারি টিকার (র‍্যাবিক্স-ভিসি) সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের শিকার ব্যক্তিদের নিজের টাকায় টিকা কিনতে হচ্ছে। জানা গেছে,রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে গত ছয়মাস ধরে জলাতঙ্কের টিকার চরম সংকট চলছে। যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত টিকা সরবরাহ করতে না পারায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজ উদ্যোগে রোগীদের টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল। তবে সেই টিকাও দুই সপ্তাহ আগে শেষ হয়েছে। ফলে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের (এআরভি) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

সরকারি এই হাসপাতালে বর্তমানে টিকার সরবরাহ শূন্যের কোঠায় নেমে আসায় বিপাকে পড়েছেন কামড় বা আঁচড় নিয়ে আসা শত শত সাধারণ মানুষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগরীসহ আশেপাশের জেলা ও উপজেলাগুলো থেকে প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ জন রোগী কুকুর, বিড়াল কামড় ও আঁচড় খেয়ে চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে আসছেন। নিয়ম অনুযায়ী, এসব রোগীকে বিনামূল্যে জলাতঙ্ক টিকা দেওয়ার কথা থাকলেও গত ১৪ দিন ধরে কাউকে হাসপাতাল থেকে টিকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

আরও পড়ুনঃ   অক্টোবরে ক্রিকেটে ফিরছেন তামিম ইকবাল

সরেজমিনে দেখা যায়, জরুরি বিভাগে আসা অধিকাংশ রোগীই দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের। হাসপাতাল থেকে ‘টিকা নেই’ জানিয়ে দেওয়ার পর রোগীরা বাধ্য হয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে চড়া মূল্যে ভ্যাকসিন কিনছেন। এতে করে একেকজন রোগীর চিকিৎসায় কয়েক গুণ বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে, যা অনেকের পক্ষেই বহন করা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভ্যাকসিনের সংকট রয়েছে। হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিন না পেয়ে মানুষ বাইরে ফার্মেসিতে খোঁজ করছেন। কিন্তু সেখানেও জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না।

পুঠিয়া থেকে আসা এক রোগী বলেন, কুকুরে কামড়ানোর পর টিকার জন্য কয়েক ঘণ্টা এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরেছি। এই দীর্ঘ অপেক্ষা আর আতঙ্ক ছিল চরম যন্ত্রণার।

সাকিব নামে এক রোগী জানান, জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন একেকটির দাম ধরা হচ্ছে ৪৮০ টাকা। এটা ভাগাভাগি করে দেওয়া যাবে। সেখানে খরচ কম হবে। কিন্তু আমরা কেন ভ্যাকসিন কিনব।

আরও পড়ুনঃ   ভবিষ্যৎ মহামারি সামাল দিতে বিশ্বের জন্য দৃঢ় নেতৃত্ব প্রয়োজন

রামেক হাসপাতালে নওহাটা এলাকা থেকে আসা সামসুল ইসলাম জানান, টিকা কিনতে গিয়ে দেখি দাম অনেক বেশি, আবার সরকারি কেন্দ্রে সরবরাহ নেই। এতে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কামড় খাওয়ার প্রথম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে টিকা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। হাসপাতালে দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটের ফলে যদি কেউ সময়মতো টিকা না নিতে পারেন, তবে জলাতঙ্কের মতো প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য এই সংকট এখন জীবন-মরণের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, গত ছয় মাস ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে টিকা সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের নিজস্ব উদ্যোগে ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে দুই হাজার ভ্যাকসিন কেনা হলেও তা দুই সপ্তাহ আগে শেষ হয়ে গেছে। বিষয়টি একাধিকবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জার্মান পর্যটকের চুরি হওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার

১

দুষ্কৃতিকারীদের কোনো দল নেই : রাজশাহীতে ভূমিমন্ত্রী

২

দখলমুক্ত ফুটপাত, নাগরিকদের স্বস্তি

৩

নগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ১৯

৪

সুবিধাবঞ্চিত শিশুদেরকে শিশু একাডেমির কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে : ডা.জাহিদ

৫

জিয়াউর রহমানের আদর্শ অনুসরণ করে শিশুদের সুনাগরিক হওয়ার আহ্বান : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

৬

ইন্দোনেশিয়ার সাথে বাণিজ্য ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বাড়াতে চায় বাংলাদেশ : বাণিজ্যমন্ত্রী

৭

নেত্রকোণার নতুন সিভিল সার্জন ডা. ছাইফুল ইসলাম

৮

শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

৯

নগরীতে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৪

১০

শিশু অধিকার দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

১১

নগরীতে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ২৭

১২

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

১৩

রাজশাহীতে ৩১তম আন্তর্জাতিক অনূর্ধ্ব-১৮ জুনিয়র টেনিস টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

১৪

সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ : প্রধানমন্ত্রী

১৫

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হামলা, আহত ১০

১৬

প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

১৭

চট্টগ্রামে ট্রেনের পরিত্যক্ত বগিতে আগুন

১৮

ফেনীতে ১,৫৪২ কোটি টাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

১৯

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলা

২০

Design & Developed by: BD IT HOST