মুক্তার হোসেন,গোদাগাড়ী : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে। দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় সূত্রই নিশ্চিত করেছে যে, পরীক্ষা অনুপাতে ডেঙ্গু পজিটিভ হওয়ার হার ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।
উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক। বেসরকারি সূত্রগুলো জানায়, গড়ে প্রতি ১৫ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হলে ৫ জনেরই ফলাফল পজিটিভ আসছে। তবে বেসরকারি পর্যায়ের তুলনায় সরকারি দুটি হাসপাতালে আক্রান্তের নথিভুক্ত সংখ্যা কিছুটা কম হলেও চিকিৎসকরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সরকারি হাসপাতাল দুটিতে বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণ ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট রয়েছে এবং নিয়মিত পরীক্ষা ও চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে।
উপজেলার প্রেমতলীতে অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ দিনে সেখানে ৩ জনের শরীরে ডেঙ্গু পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকি ২ জন রোগী বর্তমানে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্যদিকে, গোদাগাড়ী ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মাসের ২০ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ২১১ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১ জনের ফলাফল পজিটিভ এসেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৫ জন ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন এবং ২ জন এখনও হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাকি ২ জনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে গোদাগাড়ী পৌরসভা এলাকাটি ডেঙ্গুর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
গোদাগাড়ী ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (টিএইচও), ডা. সৈয়দ মো. সুমন বলেন, “আমাদের হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্তকরণের জন্য পর্যাপ্ত কিট মজুত রয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য বিশেষায়িত সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। চলতি মাসে ২১১ জনের পরীক্ষায় ১১ জন পজিটিভ হয়েছেন, যার মধ্যে ৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আক্রান্তদের সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে এবং গুরুতর রোগীদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হচ্ছে। আতঙ্কিত না হয়ে জ্বর হলেই দ্রুত সরকারি হাসপাতালে এসে পরীক্ষা করার জন্য আমি সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (প্রেমতলী)গোদাগাড়ী ডা. মুহাম্মদ হাসানুল জাহিদ বলেন,স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ১৫ দিনে ৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। সরকারি নির্দেশনা মেনে আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করছি। আমাদের এখানে প্রয়োজনীয় সব ধরনের মেডিকেল সাপোর্ট ও কিট রয়েছে। গ্রামীণ ও প্রান্তিক পর্যায়ে ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। মশাবাহিত এই রোগ প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”
গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)ইসরাত জাহান বলেন, গোদাগাড়ী উপজেলা ও বিশেষ করে পৌরসভা এলাকায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানোর জন্য প্রশাসন তৎপর রয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে সমন্বয় করে মশক নিধন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জোরদার করার নির্দেশনা দিয়েছি। লার্ভা ধ্বংসের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হবে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে নাগরিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে।”
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST