পলাশ পাল, নেত্রকোনা : নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নানা অনিয়মের অভিযোগে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীসহ মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে একযোগে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য, চেইন অব কমান্ড লঙ্ঘন, অনুমোদন ছাড়া সরকারি সম্পদ ও কনফারেন্স রুম ব্যবহার করে সভা আয়োজন এবং দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে নেত্রকোনার সিভিল সার্জন ডা. গোলাম মাওলা এই নোটিশ জারি করেন।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর (শনিবার) শোকজ চিঠিটি সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অলক কান্তি তালুকদার। নোটিশে অভিযুক্তদের আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
কারণ দর্শানোর নোটিশে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বিনষ্ট করে পূর্বানুমতি ছাড়া কনফারেন্স রুম ও সরকারি সম্পদ ব্যবহার করেছেন। পাশাপাশি কর্মস্থলে গাফিলতি, সরকারি আচরণবিধি লঙ্ঘন ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে নোটিশে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা বা ব্যক্তির বিষয়ে আলাদা করে বিবরণ দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ১০০ শয্যাবিশিষ্ট এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশাসনিক নানা বিষয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন চলছিল। একসঙ্গে এতজনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে তীব্র আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে।
শোকজপ্রাপ্ত ১১ জন চিকিৎসক হলেন— ডা. পার্থ সরকার, ডা. জান্নাতুল নেছা, ডা. মো. সায়েম, ডা. রাকিবুল ইসলাম, ডা. মো. অন্তিম হাসান, ডা. জয়া রানী দেবনাথ, ডা. মৌমিতা দাস, ডা. লিজা সরকার, ডা. পার্থ প্রতিম সেন, ডা. সৌরভ আহমেদ শাকিল ও ডা. মেহেদী হাসান পিয়াস। নোটিশ পাওয়া ৯ জন নার্স হলেন— রেহেনা আক্তার খানম, মণি আক্তার, রীণা রাণী পাল, মনিরা আক্তার, সাবিকুন্নাহার, হিমা আক্তার, উম্মে হাবিবা সরকার, নূরে ফারজানা ও জান্নাতুল ফেরদৌস।
এ ছাড়া অন্যান্য ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী হলেন— নাজমুল ইসলাম, রেজুয়ান করিম রাজু, বাহারুল্লাহ, শামছুল হুদা, শহীদুর রহমান, বিপ্লব হোসেন, শাহজাহান সিরাজ, আলমগীর হোসেন, মুশফিকুর রহমান বকুল ও মো. মুকুল।
নোটিশ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে ডা. জয়া রানী দেবনাথ জানান, ব্যস্ততার কারণে তিনি চিঠির পুরো অংশ পড়তে পারেননি। ঘটনার দিন তিনি উপস্থিত ছিলেন না দাবি করে ধারণা প্রকাশ করেন, বায়োমেট্রিক হাজিরাসংক্রান্ত কোনো বিষয়ের সাথে এটি সম্পর্কিত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ছুটি থেকে ফিরলে জ্যেষ্ঠদের সঙ্গে আলোচনা করে জবাব দেওয়া হবে।
অন্যদিকে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. অলক কান্তি তালুকদার জানান, সিভিল সার্জন দপ্তর থেকে আসা চিঠিগুলো অভিযুক্তদের নিজ নিজ বিভাগ থেকে সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব পাওয়া গেলে তা পর্যালোচনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST