২১ জুলাই ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ

মামলাজট নিরসনে মধ্যস্থতা কার্যক্রম আশাব্যঞ্জক ফল দিচ্ছে : আইনমন্ত্রী

আজ সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন’ বিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি : পিআইডি

স্টাফ রিপোর্টার : আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, প্রি-কেস (মামলাপূর্ব) বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রম বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও সহজে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি করছে এবং আদালতে নতুন মামলা দায়ের উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ইতোমধ্যে আশাব্যঞ্জক ফল দিয়েছে। এ উদ্যোগকে আরো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের দীর্ঘদিনের মামলাজট নিরসনে বড় ধরনের অগ্রগতি সম্ভব হবে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকায় মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি ১০টি জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন, যা বিচার ব্যবস্থার ওপর একটি বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। এ বাস্তবতায় আদালতে মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে বিচারপ্রার্থীর সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমবে এবং আদালতের ওপর চাপ হ্রাস পাবে।

মন্ত্রী জানান, একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় ২০টি জেলায় প্রি-কেস মেডিয়েশন চালুর পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি-মে সময়ের তুলনায় ২০২৬ সালের একই সময়ে বিভিন্ন আইনে মামলা দায়েরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর মধ্যে পারিবারিক আদালত আইনে মামলা ৫১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৩,৫৫৯টি থেকে ১,৭৪৪টিতে নেমে এসেছে। সিভিল জজ আদালতের এখতিয়ারভুক্ত বণ্টন সংক্রান্ত মামলা ৬৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ২,০০১টি থেকে ৬৬১টিতে নেমে এসেছে।

এছাড়া, স্টেট অ্যাকুইজিশন অ্যান্ড টেন্যান্সি আইনের প্রিম্পশন মামলা ৮৮ দশমিক ২৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১৭টি থেকে ২টিতে, নন-এগ্রিকালচারাল টেন্যান্সি আইনে ৫৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৩১টি থেকে ১৪টিতে, যৌতুক নিরোধ আইনে ৬৭ দশমিক ৭১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৫,৬০৫টি থেকে ১,৮১০টিতে এবং পিতামাতার ভরণ-পোষণ আইনে ১৮ দশমিক ৬০ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৪৩টি থেকে ৩৫টিতে নেমে এসেছে। সব মিলিয়ে গড়ে ৬২ দশমিক ০২ শতাংশ মামলা দায়ের হ্রাস পেয়েছে।
তিনি বলেন, আদালতে মামলা দায়েরের প্রবাহ এভাবে কমানো গেলে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দ্রুত কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিচারাধীন মামলাগুলোর মধ্যে যেগুলো আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য, সেগুলো জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে মধ্যস্থতার জন্য রেফার করলে বিচারপ্রক্রিয়া আরো গতিশীল হবে।

আরও পড়ুনঃ   সবুজ জ্বালানি নির্ভর খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবিতে জনসমাবেশ

আইনমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, আদালত, জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে আগামী এক বছরের মধ্যে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে পরিচালিত মধ্যস্থতা কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এ কার্যক্রমের মাধ্যমে অসহায় ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা ও দ্রুত ন্যায়বিচারের সুযোগ পাচ্ছে-এই তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।
কক্সবাজার জেলায় বর্তমানে এক লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন উল্লেখ করে তিনি জেলা জজ, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের আগামী তিন মাসে মামলাজট কমানোর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে বলেও তিনি জানান।

আরও পড়ুনঃ   ইরানের অনুমতির পর হরমুজ প্রণালি পার হলো থাইল্যান্ডের তেলবাহী ট্যাংকার

তিনি আরো বলেন, প্রি-কেস মেডিয়েশন কার্যক্রম বাস্তবায়নে জাইকা (JICA), জিআইজেড (GIZ) এবং ইউএনডিপি (UNDP)-এর সহযোগিতা প্রশংসনীয়। এ সহযোগিতার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সহযোগীদের ধন্যবাদ জানান।
মধ্যস্থতাকারীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, এ দায়িত্বকে কেবল চাকরি হিসেবে নয়, বরং জনসেবামূলক একটি দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। তবে মধ্যস্থতা কার্যক্রমে যেকোনো ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি কার্যকর, দ্রুত ও জনবান্ধব বিচার ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন।

বক্তব্য শেষে আইনমন্ত্রী ১০টি জেলায় একযোগে মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। জেলাগুলো হলো- বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নাটোর, যশোর, শরীয়তপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল। আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ধারা ২১খ-এর বিধান অনুযায়ী এসব জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালু করা হলো। এখন থেকে এসকল জেলাগুলোতে ৭টি আইনের ক্ষেত্রে আদালতে মামলা দায়েরের পূর্বে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে হবে।
#

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে, চারদিকে শুনি শুধু চিৎকার’

১

প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে বিদায় জানালেন রাসিক প্রশাসক

২

প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করায় নগরবাসীসহ সকলের প্রতি রাসিক প্রশাসকের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

৩

চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির নির্বাচন কবে, জানা গেল

৪

নগরীতে পুকুর থেকে এক ছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধার

৫

কাজলের যে কাণ্ড দেখে ‘বাড়ির মেয়ে’ বলছে ভক্তরা

৬

বাঘায় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন যুগ্ম সচিব রথীন্দ্রনাথ দত্ত

৭

বাঘায় পদ্মা নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে অভিযান দুই হাজার মিটার জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

৮

বাংলাদেশ সাম্য ও সম্প্রীতির দেশ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

৯

নাচোলে শারদীয় দুর্গাপূজায় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন বিএনপি নেতা আব্দুল সালাম ও নাসিরুল ইসলাম

১০

চারঘাটে ১৬০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার

১১

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের অধিকার সমান : প্রধানমন্ত্রী

১২

বড়াইগ্রামে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১৪, আহত ২৫

১৩

পদ্মা-তিস্তা ব্যারেজের কাজ দ্রুত শুরু করব : প্রধানমন্ত্রী

১৪

নগরীতে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ২২

১৫

নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী গ্রেপ্তার

১৬

বাটন চেপে আখচাষিদের একাউন্টে ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী

১৭

প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদ্মা ব্যারাজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিমানবন্দর আধুনিকায়ন চাইলেন ভূমিমন্ত্রী

১৮

৮০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ধানের শীষের ঘর নিয়ে জনসভাস্থলে আসাদুল

১৯

রাজশাহীতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

২০

Design & Developed by: BD IT HOST