
স্টাফ রিপোর্টার : মোটরসাইকেলের চারপাশে বাঁশের কাঠামো। সেই কাঠামোয় সারি সারি ধানের শীষ। সামনে দুই পাশে দুটি জাতীয় পতাকা। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, ধানের শীষ দিয়ে সাজানো একটি বিশেষ ঘর নিয়ে ছুটে চলছে মোটরসাইকেলটি। এমন ব্যতিক্রমী মোটরসাইকেল চালিয়েই প্রায় ৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে রাজশাহীর জনসভাস্থলে এসেছেন মো. আসাদুল ইসলাম। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে তাঁর এই যাত্রা। উদ্দেশ্য, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। একই সঙ্গে কৃষকের দুর্দশার কথা তুলে ধরে সার ও জ্বালানি তেলের সংকট নিরসন এবং এসব পণ্যের সিন্ডিকেট ভাঙার দাবি জানানো।
মঙ্গলবার (২০ অক্টেবার) দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের প্রধান ফটকের সামনে চোখে পড়ে আসাদুলের মোটরসাইকেলটি। ব্যতিক্রমী এই সাজসজ্জা দেখতে সেখানে ভিড় করেন অনেকে। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের কেউ কেউ মোটরসাইকেলটির সঙ্গে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ধানের শীষে সাজানো মোটরসাইকেলটি ঘিরে তৈরি হয় কৌতূহল। জনসভায় যোগ দিতে আসা মানুষের নজর কাড়ে তাঁর এই আয়োজন।
আসাদুল নিজেকে বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। তাঁর ভাষ্য, বংশপরম্পরায় তাঁদের পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। নিজের জন্মের পর থেকেই বিএনপির সঙ্গে তাঁদের পরিবারের সম্পর্ক। বাবা-দাদার আমল থেকে তাঁরা এই দলের রাজনীতি করে আসছেন। সেই রাজনৈতিক বিশ্বাস ও দলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই মোটরসাইকেলটি এভাবে সাজানোর চিন্তা করেন তিনি।
কেন এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন? আসাদুল বললেন, নিজের বুদ্ধি ও পরিকল্পনা থেকেই মোটরসাইকেলের চারপাশে বাঁশের কাঠামো তৈরি করেছেন। তাতে সারি সারি ধানের শীষ সাজিয়েছেন। সামনে দুই পাশে রেখেছেন দুটি জাতীয় পতাকা। তাঁর উদ্দেশ্য, মানুষ যেন মোটরসাইকেলটি দেখে আকৃষ্ট হয়। ধানের শীষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও কৃষির গুরুত্ব যেন নতুন করে সামনে আসে। একই সঙ্গে তাঁর এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান তিনি।
আসাদুলের কাছে ধানের শীষ কেবল একটি রাজনৈতিক প্রতীক নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৃষক, কৃষিজীবন ও দেশের খাদ্য উৎপাদনের প্রসঙ্গ। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কৃষকদের প্রতি ভালোবাসার কথা উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য, জিয়াউর রহমান কৃষকদের জন্য কাজ করেছেন। কৃষিজমিতে পানির সেচের ব্যবস্থা করাসহ কৃষির উন্নয়নে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেই স্মৃতি থেকেই কৃষক ও ধানের শীষের বিষয়টি নিজের মোটরসাইকেলে তুলে ধরতে চেয়েছেন তিনি।
তবে আসাদুলের এই আয়োজনের পেছনে রয়েছে বর্তমান কৃষকদের সংকটের কথাও। তাঁর অভিযোগ, সার ও জ্বালানি তেল নিয়ে কৃষকেরা ভোগান্তিতে রয়েছেন। কৃষিকাজের জন্য প্রয়োজনীয় এসব উপকরণ নিয়ে সংকট তাঁদের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করেন তিনি। এ পরিস্থিতির পরিবর্তন চান আসাদুল। তাঁর দাবি, সার ও জ্বালানি তেলের সিন্ডিকেট ভেঙে কৃষকদের স্বস্তি দিতে হবে।
তারেক রহমানের কাছে এটাই তাঁর জোর দাবি। তিনি চান, কৃষকের সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হোক। কৃষকেরা যেন প্রয়োজনের সময় সার ও জ্বালানি তেল পান, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক। আসাদুলের কথায়, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। দেশের কৃষি ও অর্থনীতির স্বার্থেই কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। নিজের ব্যতিক্রমী মোটরসাইকেলের মাধ্যমে এই বার্তাই মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চান তিনি।
প্রায় ৮০ কিলোমিটার পথ মোটরসাইকেল চালিয়ে আসার কারণও ব্যাখ্যা করেন আসাদুল। তিনি বললেন, তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছা তাঁর। সুযোগ পেলে নিজের কথা সরাসরি তাঁকে জানাতে চান। মোটরসাইকেলটি এমনভাবে সাজিয়েছেন, যাতে এটি দেখে মানুষ তাঁর উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চায়। সেই সূত্রে কৃষকের সংকটের কথাও সামনে আসবে বলে আশা তাঁর। তারেক রহমানের নজরে পড়লে নিজের দাবি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হতে পারে- এমন প্রত্যাশা নিয়েই রাজশাহীর পথে রওনা হন তিনি।
এতটা পথ মোটরসাইকেল চালিয়ে আসতে কোনো সমস্যা হয়েছিল কি না, জানতে চাইলে আসাদুল জানালেন, পথে তাঁর কোনো সমস্যা হয়নি। প্রায় ৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তিনি নির্বিঘ্নেই রাজশাহীতে পৌঁছেছেন। তাঁর কাছে এই যাত্রা শুধু জনসভায় যোগ দেওয়ার জন্য নয়; নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাস প্রকাশ এবং কৃষকের দাবি তুলে ধরারও একটি চেষ্টা।
আজ রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জনসভা ঘিরে সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়। বিকেল ৩টায় জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁর ভাষণ দেওয়ার কথা। তাঁকে একনজর দেখতে সকাল থেকেই বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ মাঠে আসতে শুরু করেন। বেলা যত গড়ায়, মাঠে মানুষের উপস্থিতিও তত বাড়তে থাকে।
এই ভিড়ের মধ্যেই ব্যতিক্রমী মোটরসাইকেল নিয়ে আলাদা করে নজর কাড়েন আসাদুল। ধানের শীষে সাজানো কাঠামো এবং সামনে দুই পাশে জাতীয় পতাকা তাঁর মোটরসাইকেলটিকে অন্য সবার থেকে আলাদা করেছে। কেউ কৌতূহল নিয়ে দেখেছেন, কেউ আবার ছবি তুলে মুহূর্তটি ধরে রেখেছেন। আর এই আগ্রহের মধ্য দিয়ে নিজের উদ্দেশ্য মানুষের সামনে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
আসাদুলের এই উদ্যোগে রয়েছে রাজনৈতিক আবেগ, ব্যক্তিগত সৃজনশীলতা এবং কৃষকের প্রতি তাঁর সমর্থন প্রকাশের চেষ্টা। বাঁশের কাঠামোয় ধানের শীষ সাজিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে ৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া তাঁর কাছে নিজের বিশ্বাস তুলে ধরার একটি উপায়। তবে তাঁর প্রত্যাশা শুধু মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি চান, কৃষকের সংকটের বিষয়টি তারেক রহমানের নজরে আসুক। সার ও জ্বালানি তেলের সিন্ডিকেট ভেঙে কৃষকদের দুর্ভোগ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হোক।
দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে রাজশাহীর জনসভাস্থলে পৌঁছানোর পর এখন আসাদুলের অপেক্ষা প্রিয় নেতার সঙ্গে দেখা করার সুযোগের। নিজের সাজানো মোটরসাইকেল নিয়ে মানুষের আগ্রহ দেখে তিনি আশাবাদী। সুযোগ পেলে কৃষকের দুর্দশা ও নিজের দাবির কথা সরাসরি জানাতে চান তারেক রহমানকে। তাঁর বার্তা স্পষ্ট- কৃষককে বাঁচাতে হবে, কৃষির সংকট দূর করতে হবে। কারণ, তাঁর বিশ্বাস, কৃষক বাঁচলেই বাঁচবে দেশ।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST