
বগুড়া প্রতিনিধি : মাতৃগর্ভের নিরাপদ ভ্রমণ শেষে পৃথিবীর মুখ দেখতে একে একে হাজির হলো চার নতুন অতিথি। রবিবার (০১ নভেম্বর) দুপুরে এমনই এক মুহূর্তের স্বাক্ষী হলো বগুড়ার শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কোন সমস্যা ছাড়াই একদিনে চার নবজাতকের জন্ম নেওয়ায় চিকিৎসকমহল থেকে শুরু করে পুরো হাসপাতালজুড়ে এক উৎসবমুখর ও আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এই হাসপাতালে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এই চার নবজাতকের মধ্যে একজন প্রসূতি স্বাভাবিক (নরমাল) প্রসবের মাধ্যমে এবং অপর তিনজন সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করেন। স্বাভাবিক প্রসবে সন্তানের জন্ম দিয়ে এক অনন্য আনন্দের সূচনা করেন শেরপুর উপজেলার শালফা গ্রামের সাজুর স্ত্রী উর্মি খাতুন (২১)।
অন্যদিকে, সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মাতৃত্বের স্বাদ গ্রহণকারী তিন প্রসূতি হলেন—বগুড়ার ধুনট উপজেলার ফকিরহাট এলাকার রবিউলের স্ত্রী জলি খাতুন (২৬), শেরপুর উপজেলার হোসেনবাদ এলাকার চাঁদিনী খাতুন (৩০) এবং খামারকান্দি গ্রামের আবু তালেবের স্ত্রী নার্গিস বেগম (২৫)।
এই সফল অস্ত্রোপচারগুলো সম্পন্ন করেন হাসপাতালের গাইনি ও অবস বিভাগের দক্ষ চিকিৎসক ডা. অনুসূয়া রায়। পুরো প্রক্রিয়ায় অ্যানেসথেসিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. মোমিনুল ইসলাম। এছাড়া সফল অপারেশন ও প্রসূতিদের নিবিড় চিকিৎসাসেবায় সার্বিক সহযোগিতা করেন হাসপাতালের নিবেদিতপ্রাণ স্টাফ নার্সরা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সুত্রে জানা যায়, শুধু এই একদিনই নয়, এর আগে গত অক্টোবর মাসেই এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৬ জন প্রসূতির সফল সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। এর মাধ্যমে মফস্বল বা উপজেলা পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে গরীব প্রসূতি ও নবজাতক চিকিৎসায় হাসপাতালটি এক আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
এ প্রসঙ্গে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিরুল ইসলাম সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করা আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাভাবিক প্রসবের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রসূতিদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। একদিনে চার নবজাতকের জন্ম আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। এই সাফল্য চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আমরা চাই, এলাকার প্রতিটি প্রসুতি মা যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।” তিনি গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ এবং নিরাপদ প্রসবের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে হাসপাতালে একসঙ্গে চার নবজাতকের জন্ম নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাদের স্বজন ও পরিবারের সদস্যদের মাঝে বাঁধভাঙা আনন্দ ও উচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে।
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST