
স্টাফ রিপোর্টার : উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার উদ্যোগ যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. রেজাইল আলম সরকার। বিশেষ করে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় লাগানো চারার পরিচর্যা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেছেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় উন্নয়ন সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
সভায় বিভাগের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানরা সরাসরি এবং আট জেলার জেলা প্রশাসকরা অনলাইনে যুক্ত হন। তাঁরা নিজ নিজ দপ্তরের চলমান কার্যক্রম, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি এবং বাস্তবায়নের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন।
বিভাগীয় কমিশনার বলেছেন, বৃক্ষরোপণসহ প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার উদ্যোগগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। রোপণ করা চারার পরিচর্যা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য পরবর্তী সভায় পাঁচটি দপ্তরের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের ছবি ও ভিডিও উপস্থাপনের নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় সড়ক নিরাপত্তা ও মহাসড়ক উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের বিভিন্ন কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। কাজও শুরু হয়েছে। এ ছাড়া বগুড়া-সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের উন্নয়নকাজের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজশাহী শিশু পরিবারের উন্নয়নকাজের ৭৪ শতাংশ এবং বগুড়া শিশু পরিবারের ৬০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির জন্য ৯১৫টি ট্যাব পাওয়া গেছে। এ কর্মসূচির আওতায় ৬৫ হাজার পরিবারের তথ্য এন্ট্রি সম্পন্ন হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের পদ্ধতি পরবর্তী সভায় উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
রেশম শিল্পের উন্নয়ন নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানায়, দুই লাখ তুঁতচারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। নতুন ১০টি তাঁত চালু হওয়ায় বর্তমানে চালু তাঁতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫টিতে। রেশমপণ্যের বিপণন সম্প্রসারণে ঢাকা, রাজশাহী, বগুড়া ও সিলেটে শোরুম কর্নার চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া জাপানের ইকেদা বিশ্ববিদ্যালয় ও নোমুরা সিল্ক মিউজিয়ামের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাজার তদারকি ও ভেজালবিরোধী কার্যক্রমের অগ্রগতিও তুলে ধরা হয় সভায়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানায়, বাজারে ১১০টি সাধারণ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে ১৬৪টি মোবাইল কোর্ট। ভেজাল দুধ শনাক্ত এবং দুধের দাম নিয়ন্ত্রণে পাবনা ও সিরাজগঞ্জে বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ১৭টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৩৫টি পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি এবং ভোটার এলাকা বা ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য আগামী ৪ নভেম্বর থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট ভোটারদের নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন করার সুযোগ থাকবে।
সভায় তথ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি সরকারি দপ্তরগুলোর উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের তথ্য আঞ্চলিক তথ্য অফিসে পাঠানোর আহ্বান জানান। এসব তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের মাধ্যমে জনগণকে সরকারি কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর উপলক্ষে নগরের সৌন্দর্যবর্ধনসহ বিভিন্ন কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করায় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসককে ধন্যবাদ জানান বিভাগীয় কমিশনার।
প্রথম পাতা লীড-৪
মন্তব্য করুন
Design & Developed by: BD IT HOST