১৭ অক্টোবর ২০২৬
অনলাইন সংস্করণ

স্বাধীনতার পরে প্রথম দুর্গাপূজা, পুরোগ্রামে উৎসবের আমেজ

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের কড়কড়িয়া (কর্মকারপাড়া) সার্বজনীন দুর্গা মন্দির।

সবুজ সরকার, নিয়ামতপুর : শেষ দুর্গাপূজা হয়েছিল দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে আর দুর্গাপূজার ঢাক বাজেনি গ্রামটিতে। ৫৫ বছর পর মহাষষ্ঠীতে সেই মন্দিরে আবার জোড়া ঢাকের বাড়ি পড়ল। ঢাক-কাঁসরের তালে আর উলুধ্বনিতে শারদীয় দুর্গােৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে গেল পুরো গ্রামে।

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের কড়কড়িয়া (কর্মকারপাড়া) সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে নতুন পূজা ঘিরে আয়োজকদের ব্যস্ততা দেখা গেল।

গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি সুশিল কর্মকার (৮৫) বললেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে পূজা হতো আমাদের গ্রামে। তখন গ্রামে ১৬-১৭ ঘর বসতি ছিল। আশেপাশের গ্রাম থেকে অনেক লোকজন আসতো পূজা দেখতে। পূজা উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণে আলকাপের গান হতো। প্রচুর আনন্দ হতো। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে অর্থনৈতিকসহ বিভিন্ন কারণে আর পূজা করা সম্ভব হয়নি। অনেক বছর পর আবার পূজা হচ্ছে। খুব ভালো লাগছে।

আরও পড়ুনঃ   সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত : প্রধানমন্ত্রী

শনিবার (১৭ অক্টোবর) মহাসপ্তমীর বিকেলে কড়কড়িয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পূজামণ্ডপ প্রাঙ্গণে ঢোকার আগে দৃষ্টিনন্দন তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। করা হয়েছে আলোকসজ্জা। মন্দিরের সামনে দর্শনার্থীরা প্রতিমা দর্শন করছেন। কেউ কেউ মুঠোফোনে ছবি তুলছেন। পূজা কমিটির পক্ষ থেকে দর্শনার্থীদের প্রসাদ বিতরণ করা হচ্ছে।

পূজা কমিটির সভাপতি নরেন কর্মকার জানালেন, আমরা গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিদের কাছে শুনেছি দেশ স্বাধীনের আগে আমাদের গ্রামে ধুমধাম করে পূজা হতো। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে আর পূজা হয়নি। তাই আমরা গ্রামের বাসিন্দারা উদ্যােগ নিয়ে এবছর নতুন করে পূজার আয়োজন করেছি। আশা করছি অনেক ভক্ত ও দর্শনার্থীর আগমন হবে। আমরা পূজাকে উৎসবমুখর করার সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।

এই মন্দিরে পূজা দেখতে এসেছেন ভাবিচা গ্রামের বাসিন্দা শ্যামল চন্দ্র সাহা। তিনি বললেন, আমার বাবা এই মন্দিরের পূজার জোগাড়ু (পূজাকর্মে পুরোহিতকে সাহায্যকারী) ছিলেন। অনেক বছর পর সেই পূজা আবার হচ্ছে। তাই দেখতে এসেছি। ভালো লাগছে।

আরও পড়ুনঃ   পরিচ্ছন্ন বাগমারা গড়তে নবনির্বাচিত এমপি ডা. আব্দুল বারীর আহ্বান

গ্রামের গৃহবধূ আদরী কর্মকার বলেন, আগে অন্য গ্রামে পূজা দেখতে যেতে হতো। রাতে আরতি দেখতে যেতে পারতাম না। এবার আমাদের গ্রামে পূজা হওয়াতে আনন্দ অনেক বেশি হবে।

নিয়ামতপুর উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি ভীম চন্দ্র বর্মণ বলেন, নিয়ামতপুর উপজেলায় এ বছর ৫৫টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এরমধ্যে কড়কড়িয়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরে এবছর নতুন পূজা আয়োজন হয়েছে। পূজা উৎসবমুখর ও নির্বিঘ্নে উদযাপনে সব রকমের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। আশা করছি সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

 

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

একই আঙিনায় আজান ও শঙ্খধ্বনি, চারঘাটে সম্প্রীতির অনন্য নজির

১

জানালেন আব্বাস আরাঘচি, সৌদি ও হুথিদের মধ্যে রাজনৈতিক সমাধানকে সমর্থন করে ইরান

২

নিজ কলেজ প্রাঙ্গণে গেলেন প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষার্থীদের দিলেন দেশ গড়ার বার্তা

৩

ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার : রাষ্ট্রপতি

৪

আরডিএর তিন নোটিশেও সরেনি নকশাবহির্ভূত নির্মাণ, অভিযোগকারীকে প্রাণনাশের হুমকি

৫

লালনের ৩ দিনব্যাপী তিরোধান উৎসব শুরু

৬

নগরীতে মাদকদ্রব্য উদ্ধারসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

৭

বাগমারায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে ইউএনও

৮

স্বাধীনতার পরে প্রথম দুর্গাপূজা, পুরোগ্রামে উৎসবের আমেজ

৯

দুর্গাপুরে ২৩ পূজা মণ্ডপে উৎসবের আমেজ, নিরাপত্তায় দুর্গাপুর থানা

১০

নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ১

১১

বড়াইগ্রামে ২ শতাধিক হিন্দু বিধবাকে পূজোর শাড়ি উপহার

১২

প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় রাজশাহীবাসী : রাসিক প্রশাসক

১৩

নগরীতে পুলিশের অভিযানে ১ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

১৪

মোহনপুরে হেরোইনসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

১৫

প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত রাজশাহী

১৬

রাজশাহী পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা দেশে-বিদেশে সুনামের সঙ্গে কাজ করছে : ভূমিমন্ত্রী মিনু

১৭

পূজার ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে বাসের ধাক্কায় মারা গেলেন পুলিশ সদস্য

১৮

বাঘায় জামায়াতের যুব বিভাগের নৌভ্রমণ

১৯

শারদীয় আমেজে মুগ্ধতা ছড়ালেন জয়া

২০

Design & Developed by: BD IT HOST