২৩ অগাস্ট ২০২৪
অনলাইন সংস্করণ

তিস্তাপাড়ে আপাতত বন্যার শঙ্কা নেই, পানি বিপৎসীমার নিচে

অনলাইন ডেস্ক : ভারতের সিকিমে পাহাড় ধসের কারণে তিস্তা নদীর ওপরে নির্মিত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি বাঁধ ভেঙে গেছে। ফলে লালমনিহাটের পাঁচ উপজেলার বাসিন্দারা বন্যার আশঙ্কা করছেন। তবে পশ্চিমবঙ্গের গজলডোবা বাঁধে পানির চাপ বাড়লেও তিস্তায় বন্যার শঙ্কা নেই। তিস্তাপাড়ের বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) দুপুর ১২টায় তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে নদীর পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫১ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার ৭৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার)। এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।

এদিকে, তিস্তার মূল নদীতে পানি না থাকলেও বেশ কয়েকটি তীরে পানি বেড়েছে। মূলত ওইসব তীর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করেছে কয়েকটি চক্র। যার ফলে ওইসব স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। গত দুই দিনে তিস্তা নদীর ডান তীর লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়া গাছ ইউনিয়নের হরিনচড়া গ্রামে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ   নগরীর বেলপুকুর এলাকা হতে ফেয়ারডিলসহ একজনকে গ্রেফতার

এতে ভাঙন হুমকিতে রয়েছে শতাধিক পরিবার। নদীগর্ভে চলে গেছে তিনশ বিঘা জমির ধান-সবজিসহ ফসলের খেত। তিস্তা পাড়ে লোকজন ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। এসব স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো লোকজনের দেখা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগও করছেন স্থানীয় লোকজন।

জানা গেছে, গত দুই দিন ধরে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে তিস্তাপাড়ের হাজারও মানুষ আতঙ্কে দিন পার করছেন। উজানের ঢল যে কোনো সময় লালমনিরহাটে প্রবেশ করে বন্যার সৃষ্টি হতে পারে—এমন শঙ্কায় নির্ঘুম রাত পার করছেন তারা।

তিস্তাপাড়ের শাহিন মিয়া বলেন, গত দুই দিনে তিস্তার পানি একটু একটু করে বাড়ছে। অনেকে বলছেন, ভারতের বাঁধ ভেঙে তিস্তা নদীতে বন্যা শুরু হবে। তাই দুই দিন ধরে আতঙ্কে আছি। অনেক উঠতি ফসলি নিয়েও চিন্তায় আছি।

আরও পড়ুনঃ   রাজশাহীর চারঘাট থেকে সাড়ে পাঁচ কেজি গাঁজা উদ্ধার

এ বিষয়ে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদ্দৌলা বলেন, তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। তিস্তাপাড়ের মানুষদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রতিবাদ করছেন। তিস্তার পানি বৃদ্ধি হওয়ার এখন কোনো সম্ভাবনাই নেই।

হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য জাকির হোসেন বলেন, তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে কিছু কিছু এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। তবে পানি বিপৎসীমার অনেক নিচে রয়েছে। আপাতত সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছি।

লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, জেলার কয়েকটি পয়েন্টে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধের কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। পানি বৃদ্ধি হলে এ বিষয়ে আমাদের সর্বাধিক প্রস্তুতি রয়েছে।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে, চারদিকে শুনি শুধু চিৎকার’

১

প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে বিদায় জানালেন রাসিক প্রশাসক

২

প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করায় নগরবাসীসহ সকলের প্রতি রাসিক প্রশাসকের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ

৩

চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির নির্বাচন কবে, জানা গেল

৪

নগরীতে পুকুর থেকে এক ছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধার

৫

কাজলের যে কাণ্ড দেখে ‘বাড়ির মেয়ে’ বলছে ভক্তরা

৬

বাঘায় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন যুগ্ম সচিব রথীন্দ্রনাথ দত্ত

৭

বাঘায় পদ্মা নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে অভিযান দুই হাজার মিটার জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

৮

বাংলাদেশ সাম্য ও সম্প্রীতির দেশ : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

৯

নাচোলে শারদীয় দুর্গাপূজায় বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেন বিএনপি নেতা আব্দুল সালাম ও নাসিরুল ইসলাম

১০

চারঘাটে ১৬০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার

১১

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের অধিকার সমান : প্রধানমন্ত্রী

১২

বড়াইগ্রামে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১৪, আহত ২৫

১৩

পদ্মা-তিস্তা ব্যারেজের কাজ দ্রুত শুরু করব : প্রধানমন্ত্রী

১৪

নগরীতে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে গ্রেপ্তার ২২

১৫

নগরীতে মাদকবিরোধী অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী গ্রেপ্তার

১৬

বাটন চেপে আখচাষিদের একাউন্টে ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা পাঠালেন প্রধানমন্ত্রী

১৭

প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদ্মা ব্যারাজ, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিমানবন্দর আধুনিকায়ন চাইলেন ভূমিমন্ত্রী

১৮

৮০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে ধানের শীষের ঘর নিয়ে জনসভাস্থলে আসাদুল

১৯

রাজশাহীতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

২০

Design & Developed by: BD IT HOST