সেফ হোম থেকে নতুন জীবন পেলো তারা

39

স্টাফ রিপোর্টার : আসমা, মায়া, নাসরিন। সাবই বাক প্রতিবন্ধী। কেই কথা বলতে পারেন না। এমনকি কেউ কেউ আবার শুনতেই পারে না। ইশারায় কথা বলেন তারা। ভাষার সাথে সাথে নিজের জগতেও বন্দি ছিলেন এরা সবাই। রাজশাহী সেফ হোমে থাকা মায়া আসমার মত আরো ১০ জন মেয়েকে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছে সেফ হোমের ব্যবস্থাপক লাইজু রাজ্জাক। এই ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই সেফ হোমের বন্দি জীবন ছেড়ে নতুন পৃথিবীতে পা রাখছেন তারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের বিদায় উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সেফ হোম কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠানে শুরুতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের অতিথিদের অনেকেরই চোখ ভিজে ওঠে তাদের বিদায় অনুষ্ঠানে।
বেসরকারি সংস্থা ‘ইউসেফ বাংলাদেশে’র পক্ষ থেকে এই মেয়েদের সেলাইয়ের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আর তাদের মাধ্যমেই ‘ইস্কয়ার গ্রুপ’ তাদের টেক্সটাইল ডিভিশনে তাদের চাকরি দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে। অনুষ্ঠানে ইউসেফ এর প্রশিক্ষক রউফুল ইসলাম বললেন, তারা এই ধারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবেন।
প্রশিক্ষণে নেয়া ১৫ জনের মধ্যে ১০ জন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। এরা হলেন, মায়া সুলতানা (১৮), আসমা খাতুন (২০), নাসরিন খাতুন (২৪), তারা (২৫), সালমা (২১), তানিয়া (২৫), আলোকি (২৪), লতা (২৬), জাহানারা (৩০) ও হাজেরা (১৮)।
তাদের বিদায় অনুষ্ঠানে সেফ হোমের উপ-তত্ত্বাবধায়ক লাইজু রাজ্জাক শোনালেন কীভাবে তাদের চাকরির জোগাড় হলো। তিনি একদিন ইউসেফ বাংলাদেশের রাজশাহী কার্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দেখেন ‘চাকরির মেলা’ শিরোনামে একটি নোটিশ ঝুলছে। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন তারা মেয়েদের সেলাই প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরির ব্যবস্থা করেন। প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ কোটা রয়েছে। যেই কথা সেই কাজ। এর ফলে সেফ হোমে ১৫ জন মেয়ে প্রশিক্ষণ নিলো।
এবার চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানে ‘স্কয়ার গ্রুপে’র লোকেরা এলেন। সেফ হোমেই পরীক্ষা হলো। পাস করলো ১০ জন। সঙ্গে সঙ্গে নিয়োগপত্র। প্রথম অবস্থায় তারা মাসে ছয় হাজার টাকা করে বেতন পাবেন। ভালো করলে পরের বছরই বেতন বেড়ে হবে ১২ হাজার টাকা। থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা তারাই করবে। এ জন্য মাসে বেতন থেকে ২ হাজার টাকা কাটা যাবে।
সেফ হোমের উপ-তত্ত্বাবধায়ক জানালেন, কাল শনিবার তিনি এই মেয়েদের নিয়ে নারায়ণগঞ্জে যাবেন। নিজ হাতে তাদের ব্যাংক হিসাব নম্বর খুলে দিয়ে আসবেন। যাওয়ার আগেই তাদের জন্য নতুন জমা তৈরি করে দেয়া হয়েছে। প্রত্যেকের জন্য একটা কম্বল, মশারি, এক জোড়া স্যান্ডেল ও একটি ব্যাগ কিনে দেয়া হয়েছে। এ যেন কনে বিদায়ের অনুষ্ঠান।
সামাজসেবা অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় উপ-পরিচালক রাশেদুল কবীরের কণ্ঠ ধরে এলো। যেন নিজের মেয়েকে বিদায় দিচ্ছেন। বললেন, ‘হয়তো ঠিকমতো দেখাশোনা করতে পারিনি। মায়েরা তোমরা আমাকে ক্ষমা করে দিও।’

SHARE