টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

20

গণধ্বনি ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি সমাধিসৌধের বেদির পাশে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। বিউগলের করুণ সুরে সৃষ্টি হয় শোকের আবহ। পরে প্রধানমন্ত্রী পবিত্র ফাতেহা পাঠ করেন এবং ১৫ আগস্টের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে শোক দিবসের শ্রদ্ধা জানান।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, দলের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহম্মেদ সিদ্দিক, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রহমান সিরাজ, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়া, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, মির্জা আজম প্রমুখ। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, এসডিজির প্রধান সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, র‌্যাবপ্রধান বেনজীর আহমেদসহ পদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা।

পরে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ, টুঙ্গিপাড়া, কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

সকাল ১১টায় সমাধিসৌধ কমেপ্লেক্সে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জেলা প্রশাসন আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু ভবনে বসে মিলাদ মাহফিলের মোনাজাতে অংশ নেন। সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে টুঙ্গিপাড়া ত্যাগ করেন।

এরপরই বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন, শ্রমজীবী, পেশাজীবী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী দিনব্যাপী বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ফুলে ফুলে ছেয়ে যায় সমাধিসৌধ।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়া ছাড়াও গোপালগঞ্জ সদর, কোটালীপাড়া, মুকসুদপুর ও কাশিয়ানী উপজেলার মসজিদে মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া গোপালগঞ্জ কেন্দ্রীয় সার্বজনীন কালীবাড়ি, লেকপাড় লোকনাথ মন্দিরসহ জেলার সব মন্দির ও গির্জায় বঙ্গবন্ধুর আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইলিয়াছ আহম্মেদ চৌধুরীঘাট থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা হয়ে টুঙ্গিপাড়া পর্যন্ত ১১৬ কিলোমিটার সড়কে কালো কাপড় দিয়ে অসংখ্য তোরণ নির্মাণ করা হয়। গোপালগঞ্জ থেকে টুঙ্গিপাড়া পর্যন্ত পথে কালো পতাকা টানানো হয়। এছাড়া গোপালগঞ্জের ৬৮টি ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে, বিভিন্ন গ্রামে মিলাদ মাহফিল শেষে দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়।

SHARE