ভাগাড়ে চামড়া ফেলছে রাজশাহীর মাদরাসাগুলো

15

স্টাফ রিপোর্টার : ক্রেতা না পেয়ে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া ফেলে দিতে শুরু করেছে রাজশাহীর মাদরাসাগুলো। অথচ প্রতিবছর মাদরাসাগুলো কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রির অর্থে তাদের এতিম ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করে আসছিল। ফলে এবার এতিম ও দুস্থ শিক্ষার্থীদের ওপর নেমে আসতে পারে পড়াশোনা বন্ধের খড়গ। রাজশাহী নগরীর বেশ কয়েকটি মাদরাসা ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানান, ঈদের দিন কোরবানির পর থেকে মাদরাসার শিক্ষকদের নেতৃত্বে ছাত্ররা চামড়া সংগ্রহ করতে শুরু করেন। এছাড়া স্থানীয়দের অনেকেই সোয়াবের আশায় ও মাদরাসার শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে পশুর চামড়া দান করেন।

প্রতিবছরের মতো এবারও প্রত্যাশা মতোই চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন তারা। তবে অন্যান্য বছরের মতো এবার ক্রেতারা মাদরাসায় আসেননি। শ্রমিক সংকটে তারা সংরক্ষণও করতে পারেননি। ফলে বাধ্য হয়ে ঈদের তৃতীয় দিনে সিটি করপোরেশনের সহায়তায় বর্জ্য হিসেবে চামড়া ফেলে দিয়েছেন।

জেলা শিক্ষা অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, রাজশাহীতে মাদরাসা রয়েছে এক হাজার ৭০২টি। শুধু নগরীতে মাদরাসার সংখ্যা ২২১টি। যার মধ্যে অধিকাংশই হাফেজিয়া মাদরাসা। জেলার গ্রামাঞ্চলের আর্থিক অনটনে থাকা পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের ছোটবেলায় মাদরাসায় পাঠিয়ে দেয়। রাজশাহীর পার্শ্ববর্তী চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, পাবনা, নাটোর ও জয়পুরহাটের অসংখ্য শিক্ষার্থী এসব মাদরাসায় অধ্যয়নরত।

স্থানীয় মাদরাসা কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, বিশেষ করে হাফেজিয়া মাদরাসাগুলোতে এতিম ও দরিদ্র ঘরের শিক্ষার্থীরা অধ্যয়নরত। যাদের ভরণ-পোষণ ও শিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের একটা বড় অংশই আসে কোরবানি দেওয়া পশুর চামড়ার বিক্রির অর্থ থেকে।

রাজশাহীর মাদরাসাগুলোর মধ্যে দরগাপাড়ার জামিয়া ইসলামীয়া মাদরাসা অন্যতম। বর্তমানে মাদরাসাটিতে তালিকাভুক্ত ১৫০ জন দরিদ্র ও এতিম শিক্ষার্থী রয়েছে। কোরবানির সময় প্রতিবছর গড়ে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা আয় হয় মাদরাসার।

মাদরাসাটির অধ্যক্ষ শাহাদত আলী  বলেন, ‘আমরা এবার প্রায় ৬০০ গরু ও খাসির চামড়া সংগ্রহ করেছিলাম। যার মধ্যে ৫৯৭টি চামড়া মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে ফেলে দিয়েছি। চামড়াগুলোতে পচন ধরেছিল। বাধ্য হয়ে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ডেকে নির্দিষ্ট ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘চামড়াগুলো সংরক্ষণ করতে মাদরাসার টাকায় ২০ বস্তা লবণ কেনা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে মধ্যে লবণ লাগাতে প্রয়োজনীয় শ্রমিকও পাওয়া যায়নি। ফলে চামড়াগুলো পচে যায়। চামড়ার টাকা তো পাওয়াই গেল না, বরং ফান্ডের টাকায় কেনা লবণও পড়ে আছে।’

নগরীর মোহাম্মদপুর (টিকাপাড়া) হাফেজিয়া মাদরাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইয়াকুব আলী বলেন, ‘কোরবানির কয়েকদিন আগে থেকে শিক্ষক ও ছাত্রদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করেছিলাম। পরিচালনা কমিটির সদস্যরাও বিভিন্ন স্থানে বলে রেখেছিলাম। সেই জন্য এক হাজারের বেশি চামড়া পেয়েছিলাম। কিন্তু বিক্রি করতে পেরেছি ১৫০ থেকে ১৬০টি চামড়া। পচন ধরায় বাকি চামড়া ফেলে দিয়েছে ছাত্র-শিক্ষকরা।’

তিনি বলেন, ‘এখানে ৭০ জন ছাত্রকে ফ্রি থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। বিভিন্ন জায়গা থেকে সহযোগিতা নিয়ে নতুন ভবন তোলা হয়েছে। চামড়া বিক্রির টাকা দিয়ে তাদের খাওয়ার ব্যবস্থাটা হবে বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু তা তো হলো না।’

SHARE