কোরবানির দিন-রাতেই নগরীর সব বর্জ্য অপসারণ

56

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন কোরবানি ঈদের আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, কোরবানির দিন-রাতের মধ্যেই সকল বর্জ্য অপসারণ করা হবে। যাতে পরদিন পরিচ্ছন্ন শহর দেখতে পারেন নগরবাসী। ঈদের পরদিনই তার কথার সাথে মিল পেয়েছেন নগরবাসী। টানা ১৪ ঘণ্টা পরিশ্রম করে আনুমানিক ৩৫ হাজার জবাইকৃত কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করেছে রাসিকের সাড়ে ৮শ’ কর্মচারী।
পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে এমনিতেই রাজশাহীর খ্যাতি রয়েছে। এরমধ্যে সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের আন্তরিকতায় ঈদের বর্জ্য অপসারণে আগে থেকে ভূমিকা রাখায় নগরবাসী পেয়েছেন পরিচ্ছন্ন নগরী। তিনি নিজেই তদারকি করেছেন। শুধু তাই নয়, কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কাজ পরির্দশনও করেছেন তিনি। সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টায় নগরীর বড়কুঠি এলাকায় পরিদর্শনে যান মেয়র লিটন। এ সময় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থায়ী কমিটির সভাপতি, প্যানেল মেয়র-১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সরিফুল ইসলাম বাবু, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মোমিন, ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাওগাতুল আলম, মেয়রের একান্ত সচিব আলমগীর হোসেন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন ডলার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন ডলার বলেন, ঈদের দিন নগরীতে আনুমানিক ৩৫ হাজার পশু কোরবানি করা হয়েছে। এতে করে আমাদের সাড়ে ৮শ’ পরিচ্ছন্ন কর্মচারী ঈদের দিন-রাতের মধ্যেই সে সবের বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। ঈদের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় দিনে যে সকল কোরবানি হয়েছে, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন রাতের মধ্যেই সে সকল বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।
শেখ মো. মামুন ডলার আরও বলেন, ঈদের দিন বেলা ১২টা থেকে সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড এলাকায় শুরু হয় কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম। এরপর বিরতিহীনভাবে চেষ্টা চালিয়ে রাত ২টার মধ্যেই কোরবানির সব বর্জ্য অপসারণ করা হয়। এজন্য সব পরিচ্ছন্ন কর্মীদের ঈদের ছুটিও বাতিল করা হয়। তবে তাদের কাজে আন্তরিকতার অভাব ছিল না। তারা নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন করতে নিবেদিতভাবে কাজ করেছেন। এবারও নির্ধারিত ১৫০ পয়েন্ট ছাড়াও নগরীর ২১০ পয়েন্টে পশু কোরবানি জন্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু অনেকে তা করেনি। কিন্তু তাদের বর্জ্য অপসারণের জন্য ওয়ার্ড কাউন্সিলারের কার্যালয়েও যোগাযোগ করেছেন তারা। আবার ঈদের দিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম নজরদারিতে খোলা হয়েছিল নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। প্রয়োজনে সেখানেও অনেকে যোগাযোগ করেছেন। এতে করে রাতের মধ্যে সম্ভব হয়েছে বর্জ্য অপসারণ করা।
শেখ মামুন ডলার বলেন, এবার নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানিতে সাধারণ মানুষের তেমন সাড়া পাওয়া না গেলেও প্রত্যেকে সচেতন ছিলেন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি দেননি তারাও গর্ত খুঁড়ে কোরবানির রক্ত পুঁতে দিয়েছেন। বর্জ্য ফেলেছেন নির্দিষ্ট স্থানে। রাসিকের আহ্বানে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন সাধারণ মানুষ।
তিনি আরও জানান, প্রথমে নগরীর অলিগলিতে পড়ে থাকা পশুর বর্জ্য অপসারণ করে মূল সড়কে নিয়ে স্তুপ করে রাখা হয়। এরপর শুরু হয় ট্রাকে তুলে নগরীর টিকর এলাকার ডাম্পিং স্টেশনে নিয়ে যাওয়া। রাসিকের এ অপসারণ কার্যক্রমে ঈদের দিন-রাতেই মহানগরীর সব এলাকার বর্জ্য চলে যায় ডাম্পিং স্টেশনে। এভাবে শতভাগ কোরবানির বর্জ্য অপসারণের কাজ শেষ হয়।

SHARE