বেপরোয়া বাইক রেস ও বাইক স্টান্ট

184

রাজধানী ঢাকার অভিজাত এলাকার তরুণদের নিকট পরিচিত শব্দ বাইক রেস ও বাইক স্টান্ট। মোটরসাইকেল নিয়া বিশেষ প্রতিযোগিতা ও মহড়াকে এমন নামে অভিহিত করা হয়। ইহা বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ হইলেও দিন দিন ইহাই একশ্রেণির তরুণের কাছে তুমুল জনপ্রিয় হইয়া উঠিতেছে। বাইক রেস হইল মোটরসাইকেলের এমন প্রতিযোগিতা, যেখানে গতি থাকে ৭০ হইতে ১০০ কিলোমিটার। কে কত দ্রুতগতিতে বাইক চালাইতে পারে, তাহারই নির্মম প্রতিযোগিতা চলে তরুণদের মাঝে। এখানে গতি একধরনের নেশার মতো কাজ করে। পক্ষান্তরে বাইক স্টান্ট হইল ১০ হইতে ২০ কিলোমিটার গতিতে বাইকের ওপরে দাঁড়াইয়া, শুইয়া বা জাম্প দিয়া বিভিন্ন রকম শারীরিক কসরত প্রদর্শন করা। এই স্টান্টের কতগুলি নাম আছে, যেমন—হুইলি, স্টপই, বারনাউট, বার্ন আউট, সার্কেল, হিউম্যান কম্পাস ইত্যাদি। পাশ্চাত্যে এই ধরনের খেলা অত্যন্ত জনপ্রিয়। তাহারই প্রভাব পড়িতেছে আমাদের তরুণ সমাজে। কিন্তু এইসব কসরত দেখাইতে গিয়া আমাদের দেশে প্রায়শ দুর্ঘটনা ঘটিতেছে এবং বাড়িতেছে হতাহতের ঘটনাও। ইহাতে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় নিজেরা যেমন হতাহত হইতেছে, তেমনি পথচারীদেরও জীবননাশের কারণ হইয়া দাঁড়াইতেছে।

এই মরণখেলার ব্যাপারে সর্বাগ্রে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া দরকার। সাধারণত গভীর রাতে নীরব সড়কে চলে এই খেলা। রাজধানীর গুলশান, বনানী, উত্তরা, ধানমন্ডি, হাতিরঝিল, বাড্ডার ৩০০ ফুট রাস্তা, আফতাবনগর ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ফাঁকা রাস্তায় এমন কসরত দেখা যায়। ফাঁকা সড়কে কোথাও কোথাও দিনের বেলায়ও চলে এমন প্রতিযোগিতা। বাড্ডার ৩০০ ফুট রাস্তা, উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে সকাল ও বিকাল বেলায়ও এমন প্রতিযোগিতা চলে। শুধু ঢাকা শহরই নহে, আজকাল জেলা শহরগুলিতেও উঠতি বয়সি বাইকার তরুণরা মোটরসাইকেল স্টান্ট ও রেস প্রতিযোগিতায় নামিতেছে। আরো অভিজাত পরিবারের সন্তানরা রাত্রিবেলা গাড়ি প্রতিযোগিতায়ও লিপ্ত হয়। এই সময় গাড়ির বিকট শব্দে অনেকের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। এইসব মোটরসাইকেল ও কার দেখিতে একটু ব্যতিক্রম। সাধারণত বাইকগুলোর সামনের হেডলাইট-মিটার খোলা থাকে, পেছনে থাকে লোহা লাগানো, সামনে থাকে ছোট্ট ফগ লাইট, থাকে বিভিন্ন রকমের বাম্পার। অন্যদিকে গাড়ির প্রতিযোগিতায় ব্যবহূত হয় স্পোর্টস কার। ইহার চালকরা এমন গতিতে ইউটার্ন নেয়, যাহা যে কোনো সময় ঘটাইতে পারে দুর্ঘটনা।

মোটরসাইকেল রেস ও স্টান্ট এবং কার প্রতিযোগিতায় যাহারা জড়িত তাহাদের চিহ্নিত করা কঠিন কাজ নহে। এই ব্যাপারে পুলিশের উচিত রাত্রিবেলা বিভিন্ন সময় টহল জোরদার করা। এইসব তরুণ সামাজিক মাধ্যমেও সক্রিয়। তাহাদের রহিয়াছে একাধিক ফেসবুক পেইজ ও ইউটিউব চ্যানেল। এইসব সামাজিক মাধ্যমে অনুসন্ধান চালাইয়াও ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইতে পারে। একশ্রেণির বখাটে তরুণরাই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিযোগিতায় নামিয়া থাকে। তবে বিশেষ স্থানে ও সুরক্ষামূলক বিশেষ পদ্ধতিতে তাহাদের এই রেস চালাইবার অনুমতি দেওয়া যাইতে পারে, কিন্তু সেফটি ফার্স্ট বা নিরাপত্তাই প্রথম—এই নীতি অনুসরণ করিতে হইবে।

SHARE