রাবি হল সমাপনি : যাবার বেলায় আর একবার

198

স্টাফ রিপোর্টার : ভয় ভয় মনে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়া, চান্স পাওয়া, তারপর পছন্দের সাবজেক্টে ভর্তি। বিশ^বিদ্যালয় জীবনের শুরুটা হয় এভাবেই। নিয়মিত ক্লাস শুরু হলে হল অথবা মেসে থেকেই ক্লাস করতে হয় শিক্ষার্থীদের। দেখতে দেখতেই কেটে যায় সময়গুলো। হঠাৎ কখন ¯œাতক শেষ বর্ষ চলে আসে, বেজে ওঠে বিদায়ের ঘণ্টা। এভাবেই চলতে থাকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম।
কেটে যায় সময়, রয়ে যায় হাজারো স্মৃতি। স্মৃতিতে মোড়ানো একেকটা দিন, দিন থেকে মাস, মাস থেকে বছর, স্মৃতিগুলোই হয়ে ওঠে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একটু একটু করে কাটানো এই সময়টাকে স্মরণীয় করে রাখতেই শত আয়োজন। শুধু ক্যাম্পাস কিংবা ক্লাসে নয়, হলেও সৃষ্টি হয় মধুর কিছু সম্পর্ক, একটা সময় পর হল ছেড়ে চলে যেতে হয়। মাঝখানের মধুর সময়টা স্মরণীয় করে রাখতে শেষ বেলায় আয়োজন করা হয় ‘সমাপনি’ অনুষ্ঠানের। যাবার বেলা আর একবার সবাই মিলে একটু আনন্দ হৈ হুল্লোড় করে মধুর স্মৃতিগুলোকে অম্লান করে রাখার ছোট প্রয়াস এই সমাপনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোতে প্রত্যেক বছর সম্মান শেষ বর্ষের ছাত্রীরা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। প্রতিটি সমাপনির থাকে আলাদা আলাদা শিরোনাম। রহ্মতুন্নেসা হলে অনুিষ্ঠত এবারের সমাপনির শিরোনাম ছিল “আত্মজার আলপনা”। শেষ বেলায় আত্মজা’রা আলপনার রঙে রাঙিয়ে তুলেছিল হলের বারান্দা আর আঙিনা, মেহাদি রঙে রাঙিয়েছিল নিজেদের হাত। সমাপনি আয়োজনে ছিল নাচ, গান, অভিনয়, কৌতুকসহ আরো নানা ধরনের একক ও সমবেত পরিবেশনা। রহমতুন্নেসা হলের ২০১৩-১৪ সেশনের ৮৫ জন ছাত্রী অংশগ্রহণ করেছিল এবারের সমাপনিতে। প্রায় তিন মাস ধরে গান-নাচ প্র্যাকটিস করার পর গত রোববার (৭ অক্টোবর) কালচারাল নাইটে সম্মানিত অতিথিবৃন্দ ও ঘরভর্তি দশর্ককে মুগ্ধ করে তাদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা। গত সোমবার (৮ অক্টোবর) ছিল সমাপনির শেষ দিন। সেদিন রাতে ডিনারের মধ্য দিয়ে শেষ হয় আয়োজন। চার দিনব্যাপি এই আয়োজনে আরো ছিল প্রথম দিন কালার ফেস্ট, দ্বিতীয় দিন গায়ে হলুদ ও মেহেদি উৎসব। কালচারাল নাইটে প্রধান অতিথি ছিলেন, বিশ^বিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আব্দুস সোবহান। বিশেষ অতিথি প্রোভিসি অধ্যাপক আনন্দকুমার সাহা। আরো উপস্থিত ছিলেন, রাবি প্রক্টর লুৎফর রহমান, রহমতুন্নেসা হলের হাউজ টিউটর একরাম হোসেন, হল প্রোভোস্ট অধ্যাপক রোকসানা বেগম এবং হল সংশ্লিষ্ট আরো কর্মচারী কর্মকর্তাবৃন্দ।
এই অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ছিলেন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শেষ বষের্র ছাত্রী সৈয়দা ফারা দিবা। অনুষ্ঠান সম্পর্কে জানতে চাইলে অনুষ্ঠানে সহযোগিতাকারী শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে তিনি বলেন “স্যার-ম্যাম অনেক সাহায্য করেছেন, ভুল করেছি, বকা দিয়েছেন, কিন্তু অনেক কিছু শিখিয়ে দিয়েছেন, এই আয়োজন করতে গিয়ে অনেক কিছু শিখেছি, নিজের ওপর কনফিডেন্স আরো বেড়েছে”। হলুদ অনুুষ্ঠানে বউ সেজেছিলেন বাংলা বিভাগের ছাত্রী সামান্তা তাপসী। অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, “এই কয়দিন খুব আনন্দ করেছি, তবে আনন্দ করলেও এটা ছিল একটা বিদায়ের অনুষ্ঠান, শেষ করে মনে হচ্ছে সব শেষ হয়ে গেল।”

SHARE