বজ্রঝড়ে ঝরল ছয় প্রাণ

187

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী অঞ্চলে বজ্রঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁয় ব্যাপক এই ঝড়ে অন্তত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতি হয়েছে আম ও পাকা ধানের। শুক্রবার বিকালে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে রাজশাহী অঞ্চলের ওপর দিয়ে এই ঝড় বয়ে যায়।

জানা গেছে, ঝড়ে ইট পড়ে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান সোবহান সরকার (৮০) নিহত হয়েছেন। পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিল উদ্দিন আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঝড়ের সময় সোবহান সরকার বানেশ্বরে তার বাণিজ্যিক কার্যালয়ে বসে ছিলেন। ঝড়ে সেখানকার টিন উড়ে যায়। এ সময় একটি ইট এসে মাথার ওপর পড়লে ঘটনাস্থলেই সাবেক এই চেয়ারম্যানের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে বলেও জানান ওসি।

অন্যদিকে ঝড়ের সময় বজ্রপাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও এক কৃষক। বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্রীরামপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত কৃষকেরা হলেন- শ্রীরামপুর গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছেলে মোশাররফ হোসেন (৩৫) ও মৃত হযরত আলীর ছেলে রেজাউল করিম (৫৫)। আহত হযরত আলী (৫৮) ওই গ্রামের মৃত জিল্লুর রহমানের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, বিকেলে শ্রীরামপুর গ্রামের পার্শ্ববর্তী কুমারী বিলে তারা ধান কাটছিলেন। হঠাৎ করেই আকাশে মেঘ এবং ঝড় উঠে। এ সময় বজ্রপাতে মোশাররফ ও রেজাউল করিম ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত হন হযরত আলী। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা হযরত আলীকে উদ্ধার করে সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করে।

এদিকে নওগাঁর দুই উপজেলায় বজ্রপাতে শ্রমিকসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। বিকেলে পোরশা ও আত্রাই উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। মৃতরা হলেন- পোরশা উপজেলার গানোইর গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে হাসান (৩০) চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার বিটলীটোলা গ্রামের আজাদ হোসেনের ছেলে শফিনুর (২৮) নওগাঁর আত্রাই উপজেলার হাটকালুপাড়া এলাকার খোদাবস্কের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (২০)।

পোরশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রহমান জানান, বিকেলে মাঠে হাসান ও শফিনুর ধান কাটছিলেন। এ সময় ঝড় বৃষ্টি শুরু হয়। এক পর্যায়ে বজ্রপাতে দুইজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ হাসান ও শফিনূরের মরদেহ উদ্ধার করে। অপরদিকে, মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে জাহাঙ্গীর আলম মারা যান। ওসি জানান, নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ নিয়ে থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে বিকালে হঠাৎ করেই আকাশ মেঘে ঢেকে যায়। এরপর শুরু হয় ঝড় ও শিলাবৃষ্টি। এ ঝড়ে রাজশাহীতে অনেক মাটির ঘরবাড়ি লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। উপড়ে গেছে বহু গাছ। এর মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডেরও উঁচু উঁচু বেশ কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়েছে।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তারুজ্জামান আখতার জানান, তার ইউনিয়নের কদমশহর, ঈশ্বরীপুর, বাগাইলসহ কয়েকটি গ্রামের অন্তত ২০০ ঘরবাড়ি ভেঙে পড়েছে। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে মাঠের পাকা ধানের।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল হক জানান, ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে গাছের অনেক আম ঝড়ে পড়েছে। মাঠে থাকা পাকা ধানেরও কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া পাট এবং ভুট্টারও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। সেগুলো ঝড়ে পড়ে যেতে পারে। তবে কোথাও ঝড় বা শিলা না থাকলে শুধু বৃষ্টিতে পাট-ভুট্টার উপকার হবে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মান্নান জানান, প্রায় এক ঘণ্টায় তারা ১৩ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছেন। আর ঝড়ের সময় বাতাসের গতিবেগ ছিল ৫০ দশমিক ৪ কিলোমিটার। ঝড়-বৃষ্টিতে তাপদাহ প্রশমিত হয়েছে বলেও জানান এই আবহাওয়াবিদ।

SHARE