পবা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ,৬ জনের মনোনয়ন পত্র উত্তোলন

268

স্টাফ রিপোর্টার : অনেক চড়াই-উৎরাই পার করে অবশেষে পবা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। আগামী ১৮ জুন শেষ ধাপের উপজেলা নির্বাচনের সাথে এই উপজেলার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়ন উত্তোলন ও দাখিলের শেষ দিন ২১ মে।

গতকাল পর্যন্ত ছয় জন সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেছেন। পবা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পর চেয়ারম্যান- ভাইস চেয়ারম্যান পদের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়ন উত্তোলন শুরু করেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এখানে চেয়ারম্যান পদে ১জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১জন মনোনয়ন পত্র উত্তোলন করেছেন। উপজেলা নির্বাচনের পঞ্চম ধাপে ১৬ টি উপজেলার সাথে পবা উপজেলা পরিষদের ভোট গ্রহন করা হবে আগামী ১৮ জুন।

পবা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত-বিএনপি ছাড়া এই নিরুত্তাপ উপজেলা নির্বাচনে গতকাল পর্যন্ত যারা মনোনয়ন উত্তোলন করেছেন তারা হলেন, চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুনসুর রহমান। ভাইস চেয়ারম্যান পদে রবিউল জামাল বাবলু, আব্দুর রাজ্জাক, রফিকুল ইসলাম ও ওয়াজেদ আলী খান। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন তুলেছেন আরজিয়া বেগম।

জানা গেছে, নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আরো তিন জনের নাম জোরে শোরে শুনা যাচ্ছে। এরা হলেন, রাজশাহী জেলা দপ্তর সম্পাদক ফারুক হাসান ডাবলু ও পবা উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য এমদাদুল হক। আরো একজন হলেন বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এসএম আশরাফুল হক তোতা।

এদিকে একপেষে নির্বাচন হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। হাট-বাজার ও মহল্লায় মহল্লায় নিজেদের জানান দিয়ে চলেছেন। অনেক প্রার্থী সভা সমাবেশ ও ইউনিয়নে বাজেট সভায় নিজেদের প্রার্থীতা প্রকাশ করছেন।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ি নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পনোনয়ন পত্র উত্তোলন ও জমা দেয়ার শেষ দিন ২১ মে। মনোনয়ন পত্র বাছাই হবে ২৩ মে এবং প্রত্যাহারের শেষ দিন ৩০ মে। ভোট গ্রহন করা হবে ১৮ জুন।

পবা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মিরদাহ মোসাম্মদ শাহনাজ পারভিন জানান, পবা উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ২৮ হাজার ১৩৭ জন। এখানে সম্ভাব্য ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৭৮টি।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পবায় দ্বিতীয়বারের মতো উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন জামায়াতের নেতা মোকবুল হোসাইন। ওই নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান হন ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা আশরাফুল হক তোতা এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হন জামায়াতের খায়রুন নেছা।

২০১৫ সালের মাঝামাঝিতে নির্বাচিত চেয়ারম্যান জামায়াত নেতা অধ্যাপক মোকবুল হোসাইন মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর কয়েকমাস পরে নির্বাচন কমিশন উপ-নির্বাচনের তফসীল ঘোষণা করেন। সীমানা জটিলতার ভূয়া তথ্য দিয়ে ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে হাইকোর্টে রিট করেন ফজলুল বারী। হাইকোর্টে রিট করায় ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার দুই দিন আগে উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়।

২০১৯ সালে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে গত ১০ মার্চ এখানে ভোটগ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু আবারো পবার পারিলা ইউনিয়নের ডাংগীরপাড়া গ্রামের মৃত ইব্রাহীম হোসেনের ছেলে ফজলুল বারী একটি রিট আবেদন করেন উচ্চ আদালতে। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এক বছরের জন্য পবা উপজেলা পরিষদের নির্বাচন স্থগিতাদেশ দেন। চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি শুনানি হলে নির্বাচন এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়। আবারো আটকে যায় পবা উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। বর্তমানে পবায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান খায়রুন নেসা।

৬ মে সীমানা জটিলতার অভিযোগ এনে রিট করে রাজশাহীর পবা উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে বিলম্ব করায় রিটকারীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে এই রিটের ওপর জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। এ ছাড়া, ওই নির্বাচনের ওপর দেওয়া স্থগিতাদেশও তুলে নিয়েছেন উচ্চ আদালত। বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো.খায়রুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে রিটকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জাফর সাদিক। অন্যপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মাসুদ হাসান চৌধুরী পরাগ।

মাসুদ হাসান চৌধুরী পরাগ সাংবাদিকদের বলেন, ‘২০১৪ সালের চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের পরের বছর উপজেলা চেয়ারম্যানের মৃত্যু হলে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা ফজলুল বারীসহ নয়জন উপজেলার পারিলা ইউনিয়নের মুরশইল ও কেচুয়াতৈল গ্রামের সীমানা নিয়ে জটিলতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট করলে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘এর মধ্যে একই সীমানা নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, জাতীয় নির্বাচন হয়েছিল। কিন্তু তারা কোনো প্রকার আইনের আশ্রয় নেয়নি। কেবল তারা উপজেলা নির্বাচনে রিট করে স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচন আটকে রেখেছেন। চলতি বছরের শুরুতে ওই উপজেলার নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করলে হাইকোর্টের এক আদেশে নির্বাচন কমিশন তা স্থগিত করেন।

পরে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মনসুর রহমান রিটে পক্ষভুক্ত হয়ে নির্বাচনের ওপর দেওয়া স্থগিতাদেশ তুলে নিতে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত স্থগিতাদেশ তুলে রুল খারিজ করে দেন। একইসঙ্গে উদ্দেশ্যে প্রণোদিতভাবে রিট করে নির্বাচনে বিলম্ব করায় আবেদনকারীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। আরো বলা হয় ওই উপজেলার নির্বাচন হতে কোনো বাধা নেই। এরই প্রেক্ষিতে এই উপজেলার তফসিল ঘোষনা করা হয়।

SHARE