বঙ্গবন্ধুর চার মূলনীতি বাস্তবায়ন হলে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হবে : বাদশা

179

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চার মূলনীতি বাস্তবায়ন হলে দেশে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হবে। তাই বঙ্গবন্ধু যে গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, জাতীয়তাবাদ ও সমাজতন্ত্রের কথা বলেছিলেন তা বাস্তবায়ন করতে হবে।  শুক্রবার রাজশাহী মহানগরীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও ইফতার মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মানে গেল ১০ বছরের মতো এবারও সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা এর আয়োজন করেন। নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে এর আয়োজন করা হয়। বাদশা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজ নেই। কিš‘ তিনি বলেছিলেন, দেশে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের চেতনা বাস্তবায়ন হলে তার আত্মা শান্তি পাবে। বঙ্গবন্ধু যে চার মূলনীতির কথা বলেছিলেন সেটা বাস্তবায়ন হলেই মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের চেতনা বাস্তবায়ন হবে। আর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বাস্তবায়ন হলে আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছি, তাদের আত্মাও শান্তি পাবে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা আরও বলেন, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কায় জঙ্গি হামলার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশেও স্বাধীনতাবিরোধী জঙ্গি, মৌলবাদ শক্তি আঘাত হানতে পারে। কিš‘ আমরা মুক্তিযোদ্ধারা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি তাহলে যে কোনো আঘাত মোকাবিলা করতে পারব। এ জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের সব সময় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে উল্লেখ করে বাদশা বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সাবলীল ভূমিকায় এই দেশের জন্ম। আজকের ইফতারে মুক্তিযোদ্ধাদের এই মিলন ঐক্যবদ্ধ থাকারই প্রতীক। আগামী বছর রমজানে আমরা আবার মিলিত হবো। তার মধ্যেই যেন মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ আরও একধাপ এগিয়ে যায়। আমরা সেইভাবেই কাজ করে যাব। ইফতারে অতিথি হিসেবে ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও রাজশাহী ১৪ দলের সমন্বয়ক এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি বলেন, প্রত্যেক বছর এই ইফতার অনুষ্ঠিত হয়। কিš‘ প্রত্যেক বছর একজন, দুজন মুক্তিযোদ্ধাকে আমরা হারাই। যারা আমাদের মাঝে আছেন, তাদের জন্য আমরা শক্তি পাই। সাহস পাই। আগামী বছর পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন, এই প্রত্যাশা করেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুজ্জামান লিটন। বক্তব্য দেন রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকারও। মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এ ধরনের আয়োজন করায় তিনি সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশাকে ধন্যবাদ জানান। চেয়ারম্যান বলেন, এই ইফতারের মধ্য দিয়ে রাজশাহীর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের কাছাকাছি পাওয়া যায়। সবার খোঁজখবর নেওয়া যায়। সবার মধ্যে সম্প্রীতি বাড়ে। ইফতারে অতিথি হিসেবে আরও উপ¯ি’ত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আবদুল হাদি, বীর প্রতিক আবদুল খালেক, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা ও মহানগরের সাবেক কমান্ডার শফিকুর রহমান রাজা, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য মতিউর রহমান, মহানগরের সাবেক কমান্ডার ডা. আবদুল মান্নান, জেলার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার শাহাদুল হক প্রমুখ। এছাড়াও এতে মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি লিয়াকত আলী লিকু, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, ওয়ার্কার্স পার্টির মহানগর সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামানিক দেবু, বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতা মো. লিয়াকত আলী, নগর জাসদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ শিবলীসহ রাজশাহী ১৪ দলের নেতারা অংশ নেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য এন্তাজুল হক বাবু। মোনাজাত পরিচালনা করেন নগর বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন প্রামানিক।

SHARE