তাপদাহে পুড়ছে রাজশাহী

111

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী অঞ্চলে তাপদাহে জনজীবন প্রায় বিপর্যয়ের পথে। গরমে বাইরে সর্বত্র গরমের উত্তাপ। একদিকে প্রখর সূর্যতাপ আরেকদিকে গরম বাতাসে প্রাণ ওষ্ঠাগত। সূর্যতাপে শরীরের তক পুড়ে যাওয়ার উপক্রম। দিনে রাতে একই অবস্থা বিরাজ করছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরে থাকলেও তাপমাত্রা অনুভূত হচ্ছে ৪০ ডিগ্রির উপরে। আর নগরবাসী মনে করছেন, এই অবস্থা আর দুই তিন দিন বিরাজ করলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন বিপর্যয় হয়ে পড়বে। প্রাণ টেকানোই কঠিন হয়ে পড়বে। টানা দাবদাহে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। দাবদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। অসহনীয় গরমে হাঁসফাঁস করছে প্রাণীকুল। সারাদিন রোদ আর প্রচণ্ড গরমে স্থবিরতা নেমে এসেছে কর্মজীবনেও। পদ্মার ধু ধু বালুচর থেকে ধেয়ে আসা গরম বাতাস শরীরে বিঁধছে আগুনের ফুলকির মতো। যা পদ্মাপাড়ের বাসিন্দাদের অতিষ্ঠ করে তুলছে। প্রচণ্ড দাবদাহের কারণে রাজশাহীর হাসপাতালে বাড়ছে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের রেজিস্ট্রার জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ৫৩ জন ডায়রিয়ার রোগী ভর্তি হয়েছে। এছাড়া গত দুই দিনে ৯০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। রমজানে এমন দাবদাহে খেটে খাওয়া মানুষের জন্য সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। পবিত্র রমজান মাসের শুরুতে এমন দাবদাহে রোজাদারদের কষ্ট বেড়েই চলছে। রাজশাহী অঞ্চলের নাটোর, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলাতেও একই অবস্থা বিরাজমান। অব্যাহত গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন নগরবাসী। ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হওয়াই গত সপ্তাহের দু’দিন স্বস্তি ছিল জনজীবনে। তবে ফণীর প্রভাব কাটতেই রাজশাহীতে আবার দিনের পর দিন তাপমাত্রার উর্ধ্বগতি। থামছেই না। এদিকে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার বিপরীতে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই- এমনটাই জানিয়েছে রাজশাহী আবহাওয়া অফিস। গতকাল শুক্রবার রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৮ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এদিকে সকালে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৪ শতাংশ। বিকালে তা এসে দাঁড়ায় ৪৬ শতাংশে। রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়া পর্যবেক্ষক রাজিব খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আবহাওয়া অফিস জানায়, গত বৃহস্পতিবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এদিকে বুধবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এভাবে দিন দিন তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, মঙ্গলবার বিকাল তিনটায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৬ দশমিক ১ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এছাড়া সোমবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এদিকে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার বিপরীতে রাজশাহীতে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই-এমনটাই জানিয়েছে রাজশাহী আবহাওয়া অফিস। বৃষ্টিপাত হলেও খুব কম হবে। আর এ তাপমাত্রা বেশ কিছুদিন অব্যাহত থাকবে বলে বৃহস্পতিবার আবহাওয়া অফিস জানায়। এদিকে, নগরীর কাজীহাটা এলাকায় দেখা যায়, ভবন নির্মাণের কাজ করছেন শ্রমিকরা। এ সময় তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাদের মধ্যে চারজন রোজা রেখে কাজ করছেন। এদেরই একজন পবা উপজেলার রাকিবুল ইসলাম। গায়ে টি-শার্ট এবং পরনের ট্রাউজার ভিজে পানি ঝরছে তার। তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করছেন তিনি। তবুও কাজ করতে হবে তাকে। রামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. মাহাবুবুর রহমান খান বলেন, ‘পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত রোগী বেশি পাওয়া যাচ্ছে। তাপপ্রবাহ বেশি হওয়ার কারণে এটা হচ্ছে। রমজানে সুস্থ থাকতে হলে রোজাদারদের ভাজা-পোড়া জিনিস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। ইফতারে বাড়িতে বানানো লেবুর শরবত ও ফল খেতে হবে। তেলযুক্ত খাবার খাওয়া একদমই ঠিক হবে না। সেহরিতে শাক-সবজি বেশি খেতে হবে।’

SHARE