পতিসরে রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের ১৫৮ তম জন্ম বার্ষিকী পালিত

247

আত্রাই প্রতিনিধি : ‘মানবিক বিশ^ বিনির্মাণে রবীন্দ্রনাথ, এর প্রতিপাদ্যে নওগাঁর আত্রাইয়ের পতিসরে‘  বুধবার ৮ মে ২৫ শে বৈশাখ নওগাঁর আত্রাই পতিসরের দেবেন্দ্র মঞ্চ, রবীন্দ্র কাচারী বাড়ি পতিসর কবিগুরু রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের ১৫৮ তম জন্ম বার্ষিকী পালিত হয়েছে। বুধবার সকালে বরীন্দ্র নাথ কাচারী বাড়ি চত্বর, পতিসর জাতীয় সংঙ্গীত ও ফেষ্টুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সমাজ কল্যাণ মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কসিটির সদস্য আরমা দত্ত। আত্রাই পতিসর রবীন্দ্র ঠাকুরের কাচারি বাড়ি দেবেন্দ্র মঞ্চে জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন আত্রাই- রাণীনগর এলাকার সাংসদ ইসরাফিল আলম । বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কোলকাতা যাদবপুর বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মলয় চন্দন মূধোপাধ্যয় , রাজশাহী বিশ^ বিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. আলমগীর, নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মালেক , বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক প্রফেসর শামসুজ্জামানখান, নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন পিপিএম, আত্রাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ছানাউল ইসলাম। আত্রাই উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ এবাদুর রহমান, রবীন্দ্র সংগ্রহক মতিউর রহমান মামুন প্রমূখ। ঝাড়মোছ করা হয়েছে পতিসর কাছারী বাড়ির বাহির-অন্দরে। সেজেছে দেবেন্দ্র মঞ্চ। আজ ২৫ বৈশাখ উদযাপিত হবে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৮ তম জন্মোৎসব। ‘যখন পড়বে না মোড় পায়ের চিহ্ন এই বাটে/ আমি বাইব না, আমি বাইবনা মোর খেয়া-তরী এই ঘটে গো।’ বিশ্ব কবির রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের এই গান মানুষের হৃদয় ছূয়ে যায়। তাঁর খেয়া-তরী এই ঘটে থাক বা না থাক তবুও পতিসরে তাঁর কন্ঠ যেন আজও বাতাসে ভেসে বেড়ায়। তাঁর খেয়া-তরী মানুষের মনের গভীরে বাঁধা পড়েছে। নওগাঁ আত্রাই উপজেলার মনিয়ারী ইউনিয়নে কালীগ্রাম পরগনার নিজস্ব জমিদারী পতিসরে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছারী বাড়ি। কবির জন্মোৎসবকে ঘিরে সেখানে নামবে বরীন্দ্র ভক্তদের ঢল। অনুষ্ঠান প্রধান অতিথি হিসাবে উদ্বোধন করবেন, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সহযোগিতায় নওগাঁ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নেয়া হয়েছে নানান কর্মসূচি। কর্মসূচি মধ্যে রয়েছে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কর্মময় জীবন ও স্মৃতি নিয়ে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ উপলক্ষ্যে সেখানে বসবে গ্রামীন মেলা। কবি প্রথম পতিসরে আসেন ১৮৯১ সালের ১৩ জুন। শেষ বিদায় নিয়েছিলেন ১৯৩৭ সালের ২৭ জুলাই। কবি বহুবার এসেছেন তার নিজস্ব জমিদারী কালিগ্রাম পরগনার পতিসর কাছারী বাড়িতে নাগর নদী পথে বজড়ায় চড়ে। এই পতিসরে বসে কবি রচনা করেছেন কাব্য নাটিকা , বিদায় অভিশাপ, গোরা ও ঘরে বাহিরে। ছোট গল্পের মধ্যে প্রতিহিংসা, ঠাকুরদা ও ভারতবাসী প্রবন্ধ। গানের মধ্যে যেমন “তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা/ তুমি আমার নিভৃত সাধনা,” বধূ মিছে রাগ করোনাসহ অনেক গান। দুই বিঘা জমি, আমাদের ছোট নদী চলে বাকে বাকে—, তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে সব গাছ—ইত্যাদি কবিতা সবগুলো করেছেন মাটি ও মানুষের জন্য। তিনি বিভেদমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক দেশ ও জাতী গড়ে তুলবার চেষ্টা করেছিলেন। কাছারী বাড়ির যাদু ঘরে সংগ্রহের মধ্যে রয়েছে কবির দেয়াল ঘড়ি, লোহার সিন্দুক, খাট, টি-টেবিল, টি-পট, আয়না, নাগর বোটের এ্যাংকর, ট্রাক্টরের ভগ্নাংশ, কবির স্নানের বাথটাব, কবির বিভিন্ন বয়সের ছবি, ইজি চেয়ার, কৃষি ব্যাংকের লোহার সিন্দুক, কবির স্বহস্তে লিখিত ৬ পৃষ্ঠার চিঠিসহ নানান সামগ্রী। অধ্যক্ষ (অবঃ) ও রবীন্দ্র গবেষক প্রফেসর শরিফুল ইসলাম খান বলেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ নওগাঁর মানুষের কাছে গর্ব। কারন তার নিজস্ব জমিদারী আত্রাই উপজেলার কালিগ্রাম পরগনা। রবীন্দ্রনাথ শিক্ষানুরাগী ছিলেন। তার ছেলের নামানুসারে রথীন্দ্রনাথ ইন্সটিটিউট খুলেছিলেন। নওগাঁবাসীর দাবী, রবীন্দ্রনাথের নামে পুনাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। রবীন্দ্রনাথের নামে যত জমি আছে, সেই জমির উপরেই বিশ্ববিদ্যালয় করা সম্ভব। রবীন্দ্রনাথ নওগাঁর মানুষের কাছে, হৃদয়ের মানুষ, কাছের মানুষ। তার নবেল প্রাইজের অর্থ দিয়ে কৃষি ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন, ক্ষুদ্র ঋনের ব্যবস্থা তিনিই চালু করেছিলেন। পতিসর যাদু ঘরের দায়িত্ব প্রাপ্ত আবুল কালাম জানান, জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নতুন নতুন ছবি টানানো হবে। জাদুঘরে চলছে, ধোয়া মোছা ও নতুন করে রং এর কাজ। পতিসরে বেড়াতে এসছিলেন মাহমুদা খাতুন সিদ্দিক তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথে সব জায়গাগলো খুবই ভাল লাগে। তার সব জায়গায় যাওয়া আছে আমার। আমি রবীন্দ্র প্রেমী মানুষ প্রতিবছরই আসি। জায়গাগুলি আরও সংস্কার করলে আরও ভাল হতো। পর্যটক ও রবীন্দ্র ভক্ত তানভীর অপু বলেন, আমি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৬৭৫টি শহর ঘুরেছি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে যে দেশে ঘুরেছেন সেই সেই দেশের সরকার সেখানকার রুম ও ব্যবহৃত জিনিষপত্র সংরক্ষন করে রেখেছে। স্মৃতি ধরে রাখতে তার নামে রাস্তা ও রবীন্দ্র প্রকিকৃতি নির্মান করেছে। তিনি শুধু কবিই না ভ্রমন গুরু বলা যায়। এখানে এসে খুবই ভাল লাগছে। আমি মুগ্ধ। কবি গুরুর নাগর নদী কোন ভাবেই যাতে বেদখল না হয়ে যায় সেই দাবী রাখছি। রবীন্দ্র স্মৃতি সংগ্রাহক ও রবীন্দ্র অনুরাগী মতিউর রহমান মামুন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ৪৬ বছরে আসা যাওয়ার মাধ্যমে যে স্মৃতিগুলো রেখে গিয়েছিল সেগুলো জমিদারী প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পরপরই হারিয়ে গেছে। আমার ইচ্ছা ছিল সব স্মৃতিগুলো ফিরিয়ে পতিসরে পুনাঙ্গ জাদুঘর করা। আমি তার চিঠিসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করে দিয়েছি প্রত্নতত্ব বিভাগকে সংরক্ষন করে জাদুঘর করার। সেগুলি এখনও যথাযথ সংরক্ষন হয় নাই। এগুলি সংরক্ষন করলে বিভিন্ন দেশ থেকে আসত দেখার জন্য। সরকারের নিকট অনুরোধ বিশিষ তহবিল গঠন করে স্মৃতিগুলো সংরক্ষন করে পুনাঙ্গ মিউজিয়াম করার দাবীসহ কবির স্মৃতি বিজরিত নাগর নদী অবৈধ দখলের হাত থেকে রক্ষা দাবী জানান নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, কবিগুরুর ১৫৮তম জন্ম বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষ্যে নওগাঁর পতিসরে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান মালায় থাকছে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্রামীন মেলা।

SHARE