শেখ হাসিনা একজন রোল মডেল: রীভা গাঙ্গুলী

245

নওগাঁ প্রতিনিধি : বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাশ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন রোল মডেল। মঙ্গলবার দুপুরে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার সাংশৈল আদিবাসী স্কুল অ্যান্ড কলেজে গার্লস হোস্টেল উদ্বোধনের পর আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, নারীকে নারী হিসেবে না ভেবে একজন মানুষ ভাবতে হবে। মাথা উঁচু করে সম্মানের সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। নারীরা আজ পুরুষের পাশাপাশি সমানভাবে দেশের জন্য কাজ করছেন। তারা সেনাবাহিনীতে উচ্চপদে রয়েছেন। তারা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার এবং বিমানবাহিনীতে কাজ করছেন। নিজের ও দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য একযোগে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, তোমরা মন দিয়ে পড়াশোনা করবে। এতে নিজেরাই নিজেদের জীবন বদলে দিতে পারবে। শ্রীমতি রীভা গাঙ্গুলী দাস তার বক্তৃতায় বলেন, ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী ছাত্রীনিবাসের নব নির্মিত ভবন উদ্বোধন করতে এসে মনে পড়ে যায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের কথা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সংগীত একই সূত্রে গাঁথা। স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত সরকারের সহায়তায় বাংলাদেশের যে বিজয় অর্জিত হয়েছে তা কখনো নষ্ট হবার নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে রীভা গাঙ্গুলী দাস বলেন, নওগাঁর ঐতিহাসিক নিদর্শনের কথা স্মরণ করে আরও বলেন, এখানে পাহাড়পুর বোদ্ধবিহার, আত্রাইয়ে রবীন্দ্রনাথ কুঠিবাড়ি ও মান্দার কুসুম্বা মসজিদসহ বহু নিদর্শন রয়েছে। এ এলাকা ও বাংলাদেশের উন্নয়নে ঋণদানসহ ব্যাপক সহায়তা দিচ্ছে ভারত সরকার। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে করে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের উন্নয়নের জন্য ভারত সরকার বৃত্তি প্রদান করে আসছে। এতে করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ প্রশস্থ হয়েছে। তোমাদের এই সুযোগ নিতে হবে। পড়াশুনা করে নিজের ও পরিবারের ভাগ্য তোমরাই বদলাতে পারো। নিজেকে নারী ভেবো না মানুষ ভাবতে হবে। প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তিনি বলেন, দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্মিত দুটি গার্লস হোস্টেল আদিবাসী নারী শিক্ষায় অনন্য ভূমিকা রাখবে। খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, ভারত সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কখনো খারাপ ছিল না। বর্তমানেও এ সম্পর্ক ভালো এবং ভবিষ্যতেও ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী অটুট ও অক্ষুণ্ণ থাকবে। ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী ছাত্রীনিবাস উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, শেখ হাসিনার সরকার ঝরে পড়া আদিবাসী ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলমুখী করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ভারত সরকারের আর্থিক সহায়তায় এ পথ আরও প্রশস্থ হয়েছে। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দুদেশের বাণিজ্যের উন্নয়নের জন্য নওগাঁর সাপাহার উপজেলার সীমান্তে স্থলবন্দর করার যে পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন করতে ভারত সরকার এগিয়ে আসবে বলে তিনি আশাবাদী।
শাংশৈল আদিবাসী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত উদ্বোধনী সভায় সভাপতিত্ব করেন নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারা জয়া মারীয়া পেরেরা। এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী বজলুর রশীদের সঞ্চালনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান ফরিদ আহম্মেদ। সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সঞ্জীব কুমার ভাটি, ফাস্ট সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল) নবনিতা চক্রবর্তী, নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছি) আসনের এমপি সলিম উদ্দীন তরফদার, নওগাঁ জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান, পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী নাঈম উদ্দীন, নাটোর পৌরসভার মেয়র উমা চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রীর ছোট মেয়ে তৃণা মজুমদার। এছাড়াও বক্তৃতা করেন নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছি) আসনের সাংসদ সলিম উদ্দীন তরফদার ও নিয়ামতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ। উদ্বোধনের পর প্রধান অতিথি ছাত্রীনিবাস প্রাঙ্গণে কামরাঙ্গা গাছের চারা ও বিশেষ অতিথি জলপাই গাছের দুটি চারা রোপণ করেন। উল্লেখ্য, আধুনিক ডেকোরেশন সম্বলিত হোস্টেল দুটিতে ৯৬ জন শিক্ষার্থীর আবাসনের সুবিধা রয়েছে। এ প্রকল্পে নির্মাণ ব্যয় হয়েছে শাংশৈল আদিবাসী স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১ কোটি ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৮৮ টাকা এবং নিয়ামতপুর গার্লস স্কুল এন্ড কলেজে ১ কোটি ২০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭৩ টাকা।

SHARE