প্রথম রোজা ইফতারের দোকানে রোজাদারদের ভীড়

143

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে তীব্র তাপদাহ। রোদ আর গরমের তীব্রতার মধ্যদিয়ে মাহে রমজানের প্রথম রোজা শেষ করলো নগরবাসী। দিনের শুরুতেই গরম না থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে তাপমাত্রা। যদিও কর্মদিবস থাকা সত্ত্বেও নগরীর সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি অনেকটাই কম ছিলো। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হয়নি। এদিকে, রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মান্নান জানান, রাজশাহীর উপর দিয়ে আবারও মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। সাধারণত তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে তা মৃদু তাপপ্রবাহ, ৩৮ থেকে ৪০ উঠলে বলা হয় মাঝারি তাপপ্রবাহ। এর উপরে উঠলে তীব্র তাপপ্রবাহ। মঙ্গলবার রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপামাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে গত ২৯ এপ্রিল রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রমযানের প্রথম দিনে গতকাল মঙ্গলবার তাপদাহ উপেক্ষা করেই মানুষ রোজা শেষ করেছে। দিন শেষে ভিড় করছেন শহরের অভিজাতসহ বিভিন্ন ইফতার পণ্যের দোকানগুলোতে। ধুম পড়েছে ইফতার কেনাকাটার। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই জমে উঠেছে ইফতার বাজারও। শুধু দোকানগুলোই নয়, এই অসহনীয় গরমের মধ্যে কোমল পানীয়র দোকানে রোজাদারদের ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। রোজাদাররা ইফতার উপকরণে অন্য খাদ্যের সাথে আখের রস, ঘোল ও মাঠা কিনেছেন যদিও চিকিৎসকগণ খোলামেলা বিক্রির কারণে এসব পানীয়কে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে উল্লেখ করেন। রমযানকে কেন্দ্র করে নগরীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার গলিপথেও ইফতার পণ্যে পসার নিয়ে বসেন দোকানিরা। নগরীর সাহেববাজার, আলুপট্টি, কুমারপাড়া, সোনাদিঘির মোড়, সিঅ্যান্ডবি মোড়, লক্ষ্মীপুর, কাদিরগঞ্জ, বিন্দুরমোড়, নিউমার্কেট, গণকাপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে পসরা সাজিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে ইফতার সামগ্রী। ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই দোকানগুলোতে রকমারি ইফতার তৈরি করা হয়েছে। নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্ট এলাকায় ইফতার বিক্রেতা মানিক জানায়, তার দোকানে রয়েছে বেগুনি, বিভিন্ন ধরনের চপ, পিঁয়াজু, জিলাপি, ছোলা ও নিমকি। ক্রেতা সাইদুল ইসলাম বলেন, রোজাতে ইফতার করাটা আনন্দের। এক ধরনের উৎসব। রমযান মাসে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ইফতার করতে অনেক ভাল লাগে। অন্যদিকে, কোনো কোনো দোকানে তৈরি করা হচ্ছে ঘিয়ে ভাজা বোম্বে জিলাপি, রেশমি জিলাপি, স্পেশাল ফিরণি, ক্ষিরসা, ফালুদা, নবাবী টানা পরোটা, কাশ্মীরি পরোটা, চিকেন মসলা, রেশমি কাবাব, তেহরি, কাচ্চি বিরিয়ানি, চিকেন ফ্রাই, নানান রকমের জুসসহ জনপ্রিয় ইফতার পণ্য এবারও রোজার শুরুতেই নজর কাড়ছে। নগরীর গণকপাড়ার রহমানিয়া রেস্তরাঁর রিয়াজ আহমেদ জানান, তারা সব রকমের ইফতার আইটেম তুলে এনেছেন। যাতে সাধারণ ক্রেতাসহ সবারই দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়। এখানে বিক্রি হচ্ছিল, স্পেশাল ফিরনি, শিক কাবাব, মাটন লেগ রোস্ট, স্পেশাল গরুর তেহরি। এছাড়া ছোলা, বুট, বেগুনিসহ অন্যান্য আইটেম তো রয়েছে। ইফতার কিনতে আসা শালবাগান এলাকার শফিকুল ইসলাম জানান, রহমতের প্রথম দিন। আর এদিনে পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে ইফতার করবেন। যার জন্য রেশমি জিলাপি, স্পেশাল ফিরনি, ক্ষিরসা ও পরোটা কিনেছেন। অন্য বছরের তুলনায় এবার ইফতার সামগ্রীর দাম বেশি বলেও জানিয়েছেন ক্রেতারা। ফলে ইফতার কিনতে এসে সাধারণ মানুষকে হিমশিম খেতে হয়েছে। নিউমার্কেট এলাকার আশরাফ আলী জানান, বুট, জিলাপিসহ বিভিন্ন সামগ্রীর দাম গতবছরের চেয়ে বেশি। প্রায় প্রতিটি পণ্যের মূল্য রমযান শুরু হওয়ার আগে যা ছিল রমযানের প্রথম দিনেই মূল্য বেড়েছে। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই স্বাদ ও সাধ্যের সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করছেন সাধারণ ক্রেতারা। এরই মধ্যে সাহেববাজারসহ বিভিন্ন এলাকার হোটেল রেস্তরাঁর সামনে বাহারি ইফতারের পসরা সাজানো হয়েছে। সামনে মূল্যসহ পণ্যের তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। রোজাদারদের আকর্ষণ করার জন্য হোটেল-রেস্তরাঁগুলোর সামনে ডেকোরেশন করা হয়েছে।

SHARE