ঘুষ না দিয়ে দুদককে জানান : আমিনুল ইসলাম

133

স্টাফ রিপোর্টার : কাউকে ঘুষ না দিয়ে দুদককে জানানোর আহ্বান জানালেন দুর্নীতি দমন কমিশনার (তদন্ত) এএফএম আমিনুল ইসলাম। কোন কর্মকর্তা ঘুষের আগে কাজ না করলে, তার বিষয়ে দুদককে জানাতে বললেন তিনি।
গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহী শিল্পকলা অ্যাকাডেমির মিলনায়তনে শ্রেষ্ঠ দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি অ্যাওয়ার্ড ২০১৮ উপলক্ষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
দুদক কমিশনার বলেন, আমাদের লোভ বেড়েছে। এটা ভালো শিক্ষাগ্রহণ করছি না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিচের কর্মীদের দিকে নজর রাখতে হবে। যে কোন ধরনের কাজের বিল করার আগে সরেজমিনে একবার হলেও পরিদর্শন করতে হবে। দুর্নীতি থাকলে ধরা পড়ে যাবে। বর্তমানে দুর্নীতির পানিশমেন্টের হার ৭০ শতাংশ। আগামিতে ১০০ শতাংশ করা হবে।
তিনি বলেন, প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে দুর্নীতিমুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। কারণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান যদি দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকে তাহলে দুর্নীতি দমন করা সম্ভব নয়। দুর্নীতি একটি ঘৃণা ও লজ্জার বিষয় এটি পরিহার করতে হবে। এটি প্রতিরোধ করতে সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির প্রতি জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। তাই সবাইকে দুর্নীতি প্রতিরোধ করার মাধ্যমেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে দুর্নীতির বিষয়ে বেশি নজর দিয়ে আরো শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) রাজশাহীর মো. আনওয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি একেএম হাফিজ আক্তার, জেলা প্রশাসক এসএম আবদুল কাদের, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার সাজিদ হোসেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, আব্দুর রহিম, মো ইয়াহিয়া মোল্লা, রেজাউন কবির পারভেজ। অনুষ্ঠানে বক্তাগণ বলেন, জনসচেতনতা সৃষ্টি করার মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তাঁরা বলেন, প্রতিটি সেক্টরের উর্ধ্বতন যদি সততার সাথে কাজ করেন তাহলে অধঃস্তনরা দুর্নীতি করার সাহস পাবে না এবং রাষ্ট্রের দুর্নীতি কমে যাবে। সৎ মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার চর্চা করতে হবে মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। প্রতিটি জেলা উপজেলা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি দমন প্রতিরোধকল্পে সততা ষ্টোর প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। যাতে করে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সৎ ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। অনুষ্ঠানে দুর্নীতি দমন প্রতিরোধে বগুড়া জেলা শ্রেষ্ঠত্ব এবং শ্রেষ্ঠ দুর্নীতি দমন প্রতিরোধে রাজশাহী গোদাগাড়ী উপজেলা প্রথম, নাচোল চাঁপাইনবাবগঞ্জ উপজেলা দ্বিতীয় এবং উল্লাপাড়া সিরাজগঞ্জ উপজেলা তৃতীয় স্থান অধিকার লাভ করে পুরস্কার গ্রহণ করেন।

SHARE