নদী-পানি ও পরিবেশ রক্ষা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় : ড. মুজিবুর

134

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেছেন, নদী-পানি ও পরিবেশ রক্ষা ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। নদীর বিষয়টি টেকসই উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত। নদী-পানি-পরিবেশের উন্নয়ন মানে সভ্যতারই উন্নয়ন। নতুবা জীববৈচিত্র রক্ষা করা যাবে না। টেকসই উন্নয়ন করতে হলে নদী রক্ষা করতে হবে, নদীর উন্নয়ন করতে হবে।
তিনি গতকাল রোববার সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত রাজশাহী জেলা নদী রক্ষা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দিচ্ছিলেন।
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক এসএম কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন,জাতীয় নদী কমিশনের সদস্য মো. সালাউদ্দিন।
আলোচনায় অংশ নেন, পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ, চারঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান লায়েব উদ্দিন লাভলু, বিশিষ্ট কবি ও প্রাবন্ধিক ড. তসিকুল ইসলাম রাজা, সোনালী সংবাদ সম্পাদক মো. লিয়াকত আলী, বাগমারা, বাঘা, চারঘাট ও গোদাগাড়ী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাগণ। এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকারি বিভাগের উপপরিচালক, পারভেজ রায়হান, জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার সিতারা বেগম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আলমগীর কবির, বিভিন্ন উপজেলার সহকারী কমিশনার, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ।
জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, মাটি ব্যবস্থাপনা ঠিক করেই নদী বা খাল খনন করতে হবে। খনন করার আগে উপজেলা ও জেলা নদী রক্ষা কমিটিতে আলোচনা করে কীভাবে মাটি ব্যবস্থাপনা হবে তা ঠিক করতে হবে। অন্যথায় খনন করা যাবে না। এটা হবে অপরাধ, এটা মেনে যায় না। মাটি ব্যবস্থাপনা ছাড়া পুকুর নদী কিংবা খাল খনন করা যাবে না।
তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, নিজ নিজ উপজেলার নদী খাল পুকুর ইত্যাদির ডেটাবেইজড তৈরি করুন।
জেলা প্রশাসকের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথি বলেন, এলাকার নদী খাল পুকুর নিয়ে সমন্বিত সমীক্ষা করার উদ্যোগ নিন। নদী দখল যেই করুক না কেন তা দখলমুক্ত করা হবে। এ ব্যাপারে কোনো আপোস নেই।
নদীর স্বার্থ সব মানুষের জন্য এক। এ স্বার্থ ধর্ম-বর্ণ গোত্র নির্বিশেষে সব মানুষের । এই স্বার্থ সুরক্ষা সবাইকে নিয়ে এক সাথে করতে হবে।
তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি) দের উদ্দেশ্যে বলেন, নদীর জমি কারো নয়, তা নদীরই। জমি রেজিস্ট্রির সময় দলিলে উল্লেখ করতে হবে- বিক্রিত জমি কোনো নদীর জমি নয়। এটা না হলে জমি রেজিস্ট্রি করা যাবে না।
তিনি সতর্ক করে দেন যে, এর অন্যথা হলে জবাবদিহিতার সম্মুখিন হতে হবে। পদোন্নতি বন্ধ হবে, এমনকি জেলেও যেতে হতে পারে। নদী-খাল-পুকুর সুরক্ষার এর আর কোনো বিকল্প নেই।
প্রধান অতিথি বলেন, নদী-খাল-পুকুরের উন্নয়নমূলক কাজ শুরু আগে পকিল্পনা কিংবা প্রকল্প প্রস্তাব উন্মুক্ত করুন। উপকারভোগিদের পরামর্শ নিন। তারপরই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিন। তড়িঘড়ি করে প্রকল্প নেয়া যাবে না। প্রকল্পের ব্যাপারে উপকারভোগিদের স্পষ্ট ধারণা দিতে হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকার জন সাধারণের জন্য টেকসই উন্নয়ন করতে হলে জনসাধারণের মতামতের ভিত্তিতেই তা করতে হবে।

SHARE