রাজশাহীতে ২৪ ঘন্টায় ৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত

139

স্টাফ রিপোর্টার : সুপার সাইক্লোন ‘ফণী’ দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া প্রবাহিত হওয়া ছাড়া আর কোনো প্রভাব পড়েনি ঘূর্ণিঝড়’র কারণে। তবে ‘ফণী’ নিয়ে দিনভরই মানুষদের মধ্যে শঙ্কা ছিলো। ছিলো জল্পনা ও কল্পনা। তবে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসের কারণে রাস্তাঘাটে নগরবাসীর উপস্থিতি ছিলো খুবই কম। কখনো কখনো বাতাসের গতিবেগ বৃদ্ধিও পাচ্ছিলো। এছাড়া কোথাও বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়নি রাজশাহীবাসী। শুধু তাই না, বিকেল থেকে বৃষ্টি থেমে গিয়ে রাজশাহীর জনজীবন একদম স্বাভাবিক হয়ে উঠে। আকাশে মেঘ কেটে গিয়ে দেখা দেয় সূর্য। তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট মানুষকে ফেলে দেয় ভোগান্তিতে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার বিকেল তিনটা পর্যন্ত রাজশাহীতে মোট বৃষ্টিপাত হয় ৬৯ দশমিক ৮ মিলিমিটার। এরপর থেকে রাজশাহীতে আর বৃষ্টিপাত হয়নি। বাতাসের বেগ সকাল ৬ টায় ঘণ্টায় ২২ কিলোমিটার বেগে প্রবাহিত হলেও সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ঘণ্টায় সাধারণত ১৮ থেকে ২০ কিলোমিটারের মধ্যেই উঠানামা করেছে বাতাসের বেগ। তবে তিনটার পর থেকে বাতাসের বেগ কমে যায়। তিনটার দিকে মেঘ কেটে গিয়ে আকাশে দেখা দেয় সূর্য। প্রধানত বিকেলের পর থেকে রাজশাহীর জনজীবন একদম স্বাভাবিক হয়ে উঠে।
তবে বৃষ্টিপাতের কারণে নগরীর প্রধান প্রধান সড়কগুলো ফাঁকা হয়ে পড়ে। ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র উৎকণ্ঠায় সকাল থেকে রাজশাহীর মানুষজন দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ রেখেছিলেন। সড়কে নামমাত্র যানবাহন চলাচল করেছে। যা বিকেলের পর থেকে স্বাভাবিক হয়, দোকানপাটও খোলেন ব্যবসায়ীরা। তবে শিরোইল বাস টার্মিনাল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রীবাহী কোচগুলো নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে গেছে। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে নিয়মিত রুটের ট্রেনগুলোও ছেড়ে গেছে।
নগরীর আলুপট্টির বাসিন্দা মোখলেসুর রহমান জানান, শুক্রবার রাত থেকেই ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’ নিয়ে একধরনের আতঙ্কের মধ্যে ছিলাম। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়ায় আরো বিভ্রান্তিতে পড়েছিলাম। ফলে সকালেও বের হয়নি। একবারে সন্ধ্যার দিকে বাড়ির বাইরে বের হয়েছি। এই ভেবে স্বস্তি লাগছে যে, রাজশাহীতে বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়েনি।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার সকাল ১০টা ৫ মিনিট থেকে রাজশাহীতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। মাঝে মধ্যে বয়ে গেছে দমকা হাওয়া। শনিবার বিকেল তিনটা ১১ মিনিট পর্যন্ত রাজশাহীতে মোট ৬৯ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তারপর থেকেই বৃষ্টি থেমে যায়। আর ঝড়ের গতিবেগ কমে স্বাভাবিক অবস্থায় আসে। তবে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র কারণে রাত ও রোববার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ও বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আমিনুল হক জানান, ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র প্রভাবে রাজশাহীতে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. শামসুল ইসলাম জানান, জেলায় কোথাও কোনো ধরনের ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে আম কিছুটা ঝরে গেছে। যা খুবই স্বাভাবিক। আর তানোর এলাকায় ধান কিছুটা হেলে পড়েছে। তবে ঝড়ে পড়েনি। তবে তেমন কোনো ক্ষতি হবেনা বলেই মনে করছি। রোদ উঠলে ধান কাটতে পারবে কৃষকরা।
এদিকে প্রায় দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে রাজশাহীতে চলমান দাবদাহ বৃষ্টিপাতে কিছুটা প্রশমিত হলেও গত দুইদিন বিদ্যুৎবিভ্রাটের কারণে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে নগরবাসীকে। বেশ কিছু এলাকার রোড লাইটও বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে সেসব এলাকায় ভূতুড়ে অবস্থা বিরাজ করে। এর ওপর ভুক্তভোগীরা বিদ্যুৎ অভিযোগ কেন্দ্রে ফোন করেও কাউকে পাননি। এ নিয়ে নগরীর সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নগরীর শিরোইল নিউ কলোনি, আসাম কলোনি, ছোট বনগ্রাম, শালবাগান কাদিরগঞ্জ, কুমারপাড়া, আলুপট্টি, তালাইমারি, বিনোদপুর, কাটাখালি, নিউমার্কেট, সুলতানাবাদ, নওদাপাড়া, হড়গ্রাম ও সাগরপাড়াসহ নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড ( নেসকো লি.) এর পাঁচটি ডিভিশনের প্রায় এলাকাতেই গভীর রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।
বাঘা প্রতিনিধি জানান, সারাদেশের ন্যায় ঘূর্ণিঝড়ে ফণীর প্রভাব রাজশাহীর বাঘায় পড়েছে। গত শুক্রবার বিকেল থেকে উপজেলায় ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে। গতকাল শনিবার বিকেলে ৫টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বৃষ্টি অব্যাহত ছিল।
এদিকে ঘুর্ণিঝড় ফণী মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়। কন্ট্রোল রুমের জন্য সার্রক্ষনিক সহযোগিতার জন্য চারটি নম্বর দেয়া হয়। তবে ঝড়ে পড়া আম ৩ টাকায় কেজিতে বিক্রি করতে দেখা গেছে। আড়ানী গোচর গ্রামের বিপুল নামের এক ব্যক্তি ঝড়ে পড়া আম বাজারে ৩ টাকা কেজিতে বিক্রি করে। তিনি জানান, নিজ বাগানের আম কুড়িয়ে ৩ টাকা কেজিতে বিক্রি করেছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লা সুলতান বলেন, যে পরিমান বৃষ্টি হয়েছে। তাতে আমসহ বিভিন্ন ফসলের উপকার হয়েছে। হবে নিচুঁ এলাকায় দুই এক দিনের মধ্যে পানি না শুকালে ফসলের কিছুটা ক্ষতি হতে পারে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, ইতোমধ্যে বাঘা পদ্মা এলাকায় বিপদ কেটে গেছে। তারপরও রোববার পর্যন্ত সকলকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

SHARE