রাজশাহীতে অটিস্টিক শিশুদের জন্য হবে শেল্টার হোম: বাদশা

122

স্টাফ রিপোর্টার : বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন অটিস্টিক শিশুদের জন্য বিভাগীয় শহর রাজশাহীতে একটি শেল্টার হোম নির্মাণ করা হবে। সেখানে অভিভাবকহীন অটিস্টিক শিশুদের আবাসন, চিকিৎসা এবং পড়াশোনার ব্যবস্থা হবে। রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা এ তথ্য জানিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে ১২তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। রাজশাহী শিল্প ও বণিক সমিতির সম্মেলন কক্ষে ‘ত্বরী ফাউন্ডেশন’ এ সভার আয়োজন করে। ফজলে হোসেন বাদশা সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। তিনি বলেন, আগে কোনো পরিবারে প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে তাদেরকে একরকম ‘গৃহবন্দী’ করে রাখা হতো। পরিবারটিও সমাজে মিশতে লজ্জা পেত। কিন্তু এখন সে অবস্থা নেই। ২০০৮ সালে এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির মৌলিক পরিবর্তন হয়েছে। এটা সম্ভব হয়েছে সমাজের প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের প্রতি সরকারের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে। বাদশা বলেন, অটিস্টিক শিশুরাও সমাজের অংশ। কিন্তু এ ধরনের অনেক শিশুরই অভিভাবক নেই। এ জন্য সরকার দেশের সব বিভাগীয় শহরে একটি করে শেল্টার হোম তৈরি করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে রাজশাহীতেও একটি শেল্টার হোম হবে। সেখানে রাজশাহীর অটিস্টিক শিশুদের থাকা, খাওয়া, চিকিৎসা, বিনোদন এবং পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হবে। অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে ২০০৪ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে ত্বরী ফাউন্ডেশন। রাজশাহীতে তাদের একটি স্কুলও রয়েছে। নাম ‘স্কুল ফর গিফটেড চিলড্রেন’। এ স্কুলের প্রশংসা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে অনেকেই কাজ করছে। কিন্তু ত্বরী ফাউন্ডেশনের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ত্বরী ফাউন্ডেশনের স্কুলটির নিজস্ব জমি থাকলে আমি ভবন করে দেয়ার ব্যবস্থা করব। এছাড়া অটিস্টিক শিশুদের উন্নয়নে যে কোনো প্রস্তাব এলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক এসএম আবদুল কাদের। তিনি বলেন, যে মায়ের বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুর রয়েছে কেবল সেই মা-ই বোঝেন তার সন্তানের কষ্ট। এই কষ্ট সবাইকে বুঝতে হবে। তাহলে অটিস্টিক শিশুরাও ভাল কিছু করার সুযোগ পাবে। তাদের প্রতিভা বিকশিত হবে। রাজশাহী সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রাশেদুল কবীরও সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন। তিনি বলেন, গেল অর্থবছরে রাজশাহীতে ১০০ কোটি টাকার ভাতা বিতরণ করা হয়েছে। এর বড় একটা অংশ পেয়েছে প্রতিবন্ধীরা। চলতি অর্থবছরে ভাতার পরিমাণ ১১৫ কোটি টাকা হতে পারে। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন ত্বরী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আশফাকুর কবীর। সভাপতিত্ব করেন চেয়ারপারসন হাসিনুল ইসলাম। আলোচনা সভা শেষে ত্বরী ফাউন্ডেশন পরিচালিত ‘স্কুল ফর গিফটেড চিলড্রেন’ এর বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুরাই এতে অংশ নেয়।

SHARE