তাপদাহে পুড়ছে রাজশাহী

151

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় পুড়ছে রাজশাহী। টানা দাবদাহে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। দাবদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। অসহনীয় গরমে হাঁসফাঁস করছে প্রাণীকুল। সারাদিন রোদ আর প্রচণ্ড গরমে স্থবিরতা নেমে এসেছে কর্মজীবনেও।

মঙ্গলবার রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া সহকারি আনোয়ারা বেগম বলেন, দুপুর ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে আরো তাপমাত্রা বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, ১৯৭২ সালের ১৮ মে রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা এখন পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড।

রাজশাহী আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, রাজশাহী অঞ্চলের উপর দিয়ে গত কয়েক দিন ধরে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আজ তা মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহে রূপ নিয়েছে। আগামী ২ তারিখ পর্যন্ত থাকবে এবং আরও বাড়তে পারে।

তাপমাত্রা সাধারণত ৩৬ থকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়। আর ৩৮ থেকে ৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা থাকলে তাকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বলা হয়। এছাড়া তাপমাত্রা ৪০ এর ওপরে উঠলেই তাকে তীব্র তাপপ্রবাহ বলে বলা হয়ে থাকে।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানায়, গত কয়েকদিন ধরেই রাজশাহীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কখনোই ২৫ ডিগ্রির নিচে নামেনি। গতকাল সোমবার বিকেল সোয়া ৩টায় রাজশাহীতে বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। গত কয়েক বছরের মধ্যে এটিই ছিল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

রাজশাহীতে এখন বৃষ্টির জন্য হাহাকার পড়ে গেছে। স্বস্তি যেন মিলছে না কোথাও। দিনের বেলায় দূরে থাক রাতেও গাছের পাতা নড়ছে না।

মঙ্গলবার সকালে স্কুল-কলেজ ও অফিসগামীদের বাইরে বের হতে দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে রাস্তায় পথচারীর সংখ্যা কমতে থাকে। যানবাহনের মধ্যে অটোরিকশা ও রিকশার সংখ্যাও কম দেখা যাচ্ছে। গরম থেকে স্বস্তি পেতে পথচারীরা রাস্তার পাশে থাকা লেবুর শরবত, কুশরের শরবত ও বিভিন্ন ধরনের ঠান্ডা কোমল পানীয় পান করতে দেখা যায়।

উত্তরাঞ্চলে নানা ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের উদ্বেগের কথা জানিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. রেজাউর রহমান বলেন, দেশের মধ্যে মরুকরণের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বরেন্দ্র ভূমি। যা আরো ত্বরান্বিত হবে বলে শঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, পানি ও উদ্ভিদের সল্পতা হলো মরুময়তা। বৃষ্টিপাতের সল্পতা হলে মরুময়তার দিকে এগিয়ে যায়। বৃষ্টিপাতের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে ২৫ ভাগ কম হচ্ছে। যার প্রভাব বরেন্দ্র অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে।

অধ্যাপক রেজাউর রহমান আরও বলেন, কমাতে হবে কার্বন নিঃসরণ। প্রাণ ও প্রকৃতি বাঁচাতে সকলকে সচেতন হতে হবে এখনই।

SHARE