রাবি শিক্ষক হত্যা মামলায় তিনজনের ফাঁসি,অন্যরা খালাস

276

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. শফিউল ইসলাম লিলন হত্যা মামলায় তিনজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বাকি আট আসামি খালাস দেয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, বিনপি কর্মী আব্দুস সালাম পিন্টু, যুবদল নেতা আরিফুল ইসলাম মানিক ও সবুজ শেখ। সবুজ পলাতক রয়েছে।

খালাসপ্রাপ্তরা হলেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক আনোয়ার হোসেন উজ্জল, পিন্টুর স্ত্রী নাসরিন আক্তার রেশমা,  সিরাজুল ইসলাম কালু, আল-মামুন, সাগর, জিন্নাত ও আরিফ।

সোমবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শফিউল ইসলাম লিলন হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণা করা হবে। রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি এন্তাজুল হক বাবু বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষে ট্রাইব্যুনালের পিপি যুক্তি উপস্থাপন করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হয়েছে।  মামলায় মোট ৩৩ জনের সাক্ষী দিয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন চৌদ্দপাই এলাকায় সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের কোপে নিহত হন ড. একেএম শফিউল ইসলাম লিলন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মুহাম্মদ এন্তাজুল হক অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মতিহার থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্তে বেরিয়ে আসে ব্যক্তিগত কোন্দলের জেরেই খুন হন এই শিক্ষক শফিউল ইসলাম। যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আখতার রেশমা। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ২৩ নভেম্বর রেশমার স্বামী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি আবদুস সামাদ পিন্টুসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

পরে গোয়েন্দা পুলিশ রেশমাকেও গ্রেফতার করে। হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে রেশমা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। রাজশাহী মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা ১১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগ দাখিল করেন। নাসরিন আখতার রেশমা ও তার স্বামী আবদুস সামাদ পিন্টু ছাড়াও অভিযুক্ত অন্যরা হলেন- জেলা যুবদলের তৎকালীন আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, পবা উপজেলার কাটাখালী পৌর যুবদলের নেতা আরিফুল ইসলাম মানিক, সিরাজুল ইসলাম, সবুজ শেখ, আল মামুন, আরিফ হোসেন, সাগর হোসেন, জিন্নাত আলী ও ইব্রাহিম খলিল ওরফে টোকাই বাবু। তারা সবাই জামিনে মুক্ত।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখায় কর্মরত নাসরিন আখতারের সঙ্গে শফিউল ইসলামের দ্বন্দ্বের জের ধরেই তার স্বামী যুবদল নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু সাঙ্গ-পাঙ্গ নিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। পরে নাসরিন আখতারও বিষয়টি স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।

ড. শফিউল খুনের ৫ ঘণ্টার মাথায় ফেসবুকে একটি পাতা খুলে দায় স্বীকার করে ‘আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ-২’ নামে একটি জঙ্গি সংগঠন। তাই উগ্রবাদী এই সংগঠনটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছিল। তবে তদন্তে বেরিয়ে আসে ব্যক্তিগত কোন্দলের জেরেই খুন হন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষক। আর এই কোন্দল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আখতার রেশমার সঙ্গে।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ২৩ নভেম্বর প্রথমেই রেশমার স্বামী রাবি ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি আবদুস সামাদ পিন্টুসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে রেশমাকেও গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

পরবর্তীতে রাজশাহী মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) তৎকালীন পরিদর্শক রেজাউস সাদিক ১১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ট্রাইব্যুনালে চাঞ্চল্যকর এই মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়।

SHARE