রাজশাহীতে বর্ষবরণে সাম্প্রদায়িকতা রুখে দেওয়ার প্রত্যয়

144

স্টাফ রিপোর্টার : সাম্প্রদায়িকতা রুখে দেওয়ার প্রত্যয়ে বর্ণিল আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে রোববার রাজশাহীতে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়েছে । সকালে বৈশাখের বর্ণিল সাজে মেতে উঠে রাজশাহী। নবীন-প্রবীণ সবাই আজ সার্বজনীন এ উৎসবে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে। রাজশাহী জেলা প্রশাসন, রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। বসেছে নানা ধরনের দেশীয় পণ্যের মেলা। সকাল থেকে রাজশাহীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিগুলো বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালিতে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়। র‌্যালিতে বাংলার ঐতিহ্য ফুটে উঠে। ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে মহানগরীর পদ্মা পাড়ের ঘোষপাড়া বটতলায় শুরু হয় বাংলা বর্ষবরণের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। সেখানে আয়োজন করা হয় বর্ষবরণের উৎসব। রাজশাহী জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৯টায় মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হয়ে রিভারভিউ কালেক্টরেট স্কুলে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে সেখানেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। আজ থেকে সেখানে দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলাও শুরু হয়েছে। শোভাযাত্রায় রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার নূর-উর-রহমান ও জেলা প্রশাসক এস এম আবদুল কাদেরসহ সরকারি বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাঙালি প্রাণের উৎসব হচ্ছে পহেলা বৈশাখ। ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ একাত্ম হয়ে দিনটি পালন করে। তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দিনটিকে আরও বেশি তাৎপর্যময় করতে নববর্ষ ভাতা প্রদান করছেন। এতে করে আরও বেশি উৎসাহ ও আনন্দ নিয়ে উৎসব মুখর পরিবেশে বর্ষবরণের এ দিনটিকে প্রাণভরে উপভোগ করতে পারছেন।

এদিন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার, হাসপাতাল ও শিশু পরিবার, শিশু সদন (এতিম খানায়) উন্নতমানের ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিশু পরিবারে শিশুদের নিয়ে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কারাবন্দিদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং কয়েদিদের তৈরি বিভিন্ন দ্রব্যাদির প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্ব-স্ব ব্যবস্থাপনায় বাংলা নববর্ষ উদযাপন করছে। সকালে জেলা প্রশাসনের মঙ্গল শোভাযাত্রার পর রাজশাহী কলেজ থেকেও বর্ষবরণ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে। একইসময় রাজশাহী সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট মহানগরের আলুপট্টি থেকে শোভাযাত্রা বের করে। এদিকে, বর্ষবরণ উপলক্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ পাঠকদের মধ্যে রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট/একাডেমি তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সকাল থেকে তাদের অনুষ্ঠান চলছে। এদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজশাহী বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, শহীদ এএইচএম কামরুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান, চিড়িয়াখানা এবং জিয়া পার্ক সর্বসাধারণের জন্য বিনা টিকেটে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এই প্রাণের উৎসবকে ঘিরে নাটক, কবিতা, নৃত্য, আবৃত্তি ও সঙ্গীতের আয়োজন করা হয়েছে।

রাবির সাংস্কৃতিক বিভিন্ন সংগঠন তাদের স্বকীয়তা বজায় রাখতে নানা বৈচিত্র্যের সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে। রাজশাহীতে পয়লা বৈশাখের মূল আকর্ষণ এখন রাবির চারুকলা বিভাগকে ঘিরে। চারুকলা বিভাগকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচি। বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ও (রুয়েট) মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করেছে। এছাড়া বিকেল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক ও লোকজ সঙ্গীতের অনুষ্ঠান। রাজশাহী কলেজ থেকে সকাল সাড়ে ৯টায় মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়। এ দিন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার, সব সরকারি হাসপাতাল ও শিশু পরিবার এবং শিশু সদনে উন্নতমানের ঐতিহ্যবাহী বাঙালি খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিশু পরিবারে শিশুদের নিয়ে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কারাবন্দিদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে কারাগারে। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজ ব্যবস্থাপনায় বাংলা নববর্ষ উদযাপন করছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ পাঠকদের মধ্যে রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে। রাজশাহী বিভাগীয় গ্রন্থাগারে রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা শাখা) একরামুল হক বলেন, পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে ঘটতে না পারে সেজন্য সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। যেসব স্থানে বৈশাখের অনুষ্ঠান চলছে সেসব স্থানে বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে।

SHARE