আইএইচটি বন্ধ অনির্দিষ্টকাল

285

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহীতে (বোন্স) কঙ্কাল বিক্রির ঘটনায় ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার রাজশাহী ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ও তদন্ত কমিটি করে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ডা. ফারহানা হক বলেন, সংঘর্ষের কারণ জানা যায়নি। ১১জনকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনি বলেন, এঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারি সম্পদ ভাংচুরের ঘটনায় তিন সদস্য ও সংঘর্ষের ঘটনার কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে জানতে চার সদস্যের কমটি গঠন করা হয়েছে। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সংঘর্ষে ১১জন আহত হয়। আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পরে আইএইচটি কর্তৃপক্ষ বিকেলে প্রতিষ্ঠানে একটি নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘আইএইচটিটির একাডেমিক কাউন্সিলের এক জরুরি সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গুরুতর আহত অবস্থায় ১১ জন শিক্ষার্থীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’ ‘পরবর্তী অবস্থা আরও অবনতি এবং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কায় ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস বন্ধ ঘোষণা করা হলো। সেই সঙ্গে ডিপ্লোমা কোর্স জানুয়ারি-২০১৯ এর অবশিষ্ট মৌখিক পরীক্ষাসমূহ এবং বিএসসিসহ ডিপ্লোমা কোর্সের সকল বর্ষের ক্লাসসমূহ স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।’ আইএইচটি ছাত্রলীগের সিনিয়র সহসভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে তৃতীয় বর্ষের তিনজন শিক্ষার্থী প্রতিষ্ঠানের দুই নম্বর গ্যালারিতে কঙ্কাল বিক্রির জন্য প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে যান। এই তিনজন শিক্ষার্থী ছাত্রলীগের আইএইচটি শাখার সাধারণ সম্পাদক ওহিদুজ্জামানের অনুসারী। সেখানে সভাপতির অনুসারী প্রথম বর্ষের ছাত্র সাইফুল ইসলামের সঙ্গে ওই তিন শিক্ষার্থীর কথা-কাটাকাটি হয়। তিন শিক্ষার্থী বেরিয়ে চলে আসেন। তারা সভাপতির কাছে মীমাংসার জন্য যান। সেখানেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে আহত ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মীকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ছাত্রলীগের আহত কর্মীদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এঁদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদকের পক্ষের পাঁচজন ও সভাপতির পক্ষের একজন। সাধারণ সম্পাদকের পক্ষের পাঁচজন হচ্ছেন ছাত্রলীগ কর্মী ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাফিউল ইসলাম, ডেন্টাল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আসমাউল হোসেন, রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাফি সরকার, একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আল আমীন ও ফিজিও থেরাপি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জ্যোতি সিদ্দিক। এরমধ্যে নাফিউল ইসলাম ও আসমাউল হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আসমাউলের মাথায় ২৪টি সেলাই দেয়া হয়েছে। এঁরা সবাই ছাত্রলীগের আইএইচটি শাখার সাধারণ সম্পাদকের সমর্থক। সভাপতির পক্ষের আহত হয়েছেন ছাত্রলীগ কর্মী ল্যাবরেটরি মেডিসিন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা। এদিকে, অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণায় ছাত্র-ছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়। মঙ্গলবার বিকেলে ছাত্ররা ও সকাল থেকে ছাত্রীরা হোস্টেল ত্যাগ করে। রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। কয়েকটি লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তপূর্বক এ ব্যাপারে মামলা নেয়া হবে।

SHARE