রাবিতে মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ

223

স্টাফ রিপোর্টার : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বেড়েছে মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বারংবার মাদক বিরোধী অভিযান থাকা সত্ত্বেও ক্যাম্পাসে চলছে অবাধে মাদক ব্যবহার। মাদকাসক্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাণহানীর ঘটনাও ঘটছে।

গত শনিবার গভীর রাতে ভেজাল মদপান করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মুহতাসিম রাফিদ খান তুর্য ও রবিবার সকালে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী তুর্য রায় মারা যান। তাদের মৃত্যুর ঘটনায় ক্যাম্পাসে অবাধে মাদক ব্যবসা ও সেবনের বিষয়টি ফের সামনে উঠে এলো। এনিয়ে উদ্বিগ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাসের নানা পয়েন্টে অবাধে চলছে মাদক সেবন। সন্ধ্যা নামলে নির্জন জায়গাগুলোতে এবং হলের কক্ষগুলোতে মাদকের আসর বসাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের জায়গায় মাদক সহজলভ্য হওয়ায় সহজেই শিক্ষার্থীরা এসব মাদক সেবন করতে পারছে। তাদের মাদক যোগান দিচ্ছে স্থানীয় মাদক কারবারিরা।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টোরিয়াল বডি মাদক সেবন নিয়ন্ত্রণে কয়েক দফা অভিযান চালালেও তা কাজে আসছে না। পুলিশের ধরপাকড় ঠান্ডা হলে ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে মাদক ব্যবসায়ীরা। এছাড়া হলে হলে যেসব মাদকের আসর বসছে তা সমাধানে পদক্ষেপ নিচ্ছেনা হল প্রশাসন। ফলত এই সমস্যা বেড়েই চলেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষার্থীরা একাডেমিক, পারিবারিক, অর্থনৈতিকসহ নানা কারণে হতাশাগ্রস্ত হয়ে মাদকের দিকে ঝুঁকছে। একে তো মাদক সহজলভ্য হয়ে গেছে, তার ওপর তাদের তদারকি করার কেউ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা দফতর এগুলোর খোঁজ খবর রাখলে এমন প্রাণহানির ঘটনা এবং মাদক সেবনের প্রকোপ হয়ত কমানো যায়।

এ ব্যাপারে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের আহ্বায়ক মহব্বত হোসেন মিলন বলেন, মৃত শিক্ষার্থীদের আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। তবে তাদের কখনও হতাশার কথা শুনিনি। তারা হয়ত শখের বশে মদ খেতে পারে। কিন্তু তারা ভেজাল মদ খেয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। তারা অতিরিক্ত মদ খেয়ে মারা গেছে তা আসলে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়না। কেননা একই দিন এক রাশিয়ান নাগরিকও ভেজাল মদ খেয়ে মারা গেছেন।

রাবি শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান এহসান বলেন, মাদকের বিস্তার বা সেবনের হার ক্যাম্পাসে যেহারে বাড়ছে তা উদ্বেগজনক। মাদক সেবনের বিরুদ্ধে সচেতন করার সঙ্গে সঙ্গে এই মাদক যেন শিক্ষার্থীদের কাছে সহজলভ্য না হয়, সেজন্য পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ সকলকে ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, আমরা ক্যাম্পাসে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। কিন্তু যদি কেউ ক্যাম্পাসের বাহিরে মাদক সেবন করে সেটা আমাদের জানা খুব কষ্টকর। এজন্য সকলের সহযোগিতা দরকার। যাদের পরিচিতরা মাদক সেবন করছেন তারা যদি এসে আমাদের খবর দেন তাহলে তাদের ফিরিয়ে আনতে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি। এছাড়া ক্যাম্পাসে মাদক বিক্রয় ও সেবনের বিরুদ্ধে প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ সবসময় সক্রিয় রয়েছে।

SHARE