ঢাকা-রাজশাহী বিরতিহীন ট্রেন চালু হচ্ছে পহেলা বৈশাখ থেকে

527

স্টাফ রিপোর্টার : আসন্ন পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) থেকে রাজশাহী-ঢাকা রেল পথে চালু হতে যাচ্ছে একটি বিরতিহীন দ্রুতগতির ট্রেন। রাজশাহীবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই উপহার ট্রেনটিতে যুক্ত হচ্ছে মালয়েশিয়া থেকে আনা উন্নত মানের নতুন কোচ। সপ্তাহে একদিন বাদে বাকি সবদিনই ট্রেনটি রাজশাহী-ঢাকা রুটে চলাচল করবে। ঘণ্টায় ট্রেনটির সর্বোচ্চ গতি হবে ১৪০ কিলোমিটার। বিরতিহীন এই ট্রেনে রাজশাহী-ঢাকা রেলপথের যাতায়াতে বঙ্গবন্ধু সেতুতে পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য আধাঘন্টাসহ মোট সময় লাগবে সর্বোচ ৫ ঘন্টা। ফলে যাত্রীদের সময় বাঁচবে এখনকার চেয়ে প্রায় পৌনে তিন ঘন্টা। তবে সময় বাঁচানোর পাশাপাশি আরামদায়ক এ পথের যাত্রায় অতিরিক্ত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ভাড়া যাত্রীদের গুণতে হবে। আগামি সোমবার এই ট্রেনের নাম ও ভাড়া নির্ধারণসহ অন্যান্য বিষয়গুলো সম্পন্ন হবে। এ তথ্য নিশ্চিত করে রাজশাহী রেলওয়ের স্টেশন মাষ্টার আবদুল করিম গতকাল শুক্রবার বিকালে জানান, ট্রেনটির সাম্ভাব্য নাম হতে পারে হিমসাগর এক্সপ্রেস। নতুন এই ট্রেনটি চালু হলে ঢাকা-রাজশাহী রুটে আন্তনগর ট্রেনের সংখ্যা হবে চারটি। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও কমবে। তিনি বলেন, দেশে এই প্রথম আন্তনগর কোনো ট্রেনে উড়োজাহাজের মতো বায়োটয়লেট সংযুক্ত থাকছে। এ কারণে মলমূত্র রেললাইনে পড়বে না। প্রথমবারের মতো ট্রেনটিতে রিক্লেনার চেয়ার বসানো থাকছে। যেখানে পা এবং হেলান দেওয়ার জন্য আরামদায়ক সুবিধা রয়েছে। আর এসি বাথের কেবিনে বেডরেস্ট দেওয়া হবে। ফলে বিছিয়ে দিলে ছোট খাটের মতো হয়ে যাবে। আর কেবিনের ওপরের সিটে ওঠার জন্য স্টিলের মই বাদ দিয়ে এই ট্রেনে সিঁড়ি দেওয়া হয়েছে। যেটি আর কোনো ট্রেনে নেই। স্টেশন মাষ্টার আরো বলেন, ঢাকা-রাজশাহী রুটে বর্তমানে পদ্মা, ধূমকেতু ও সিল্কসিটি এক্সপ্রেস নামে তিনটি আন্তনগর ট্রেন চলাচল করছে। এসব ট্রেন ১০ থেকে ১৪টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি করে। ফলে রেলপথে ঢাকা থেকে রাজশাহীর ৩৪৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে প্রায় সাত থেকে আট ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু নতুন এ ট্রেনটি শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধু সেতুতে ওঠার পূর্বে পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য প্রায় আধাঘন্টা দাড়াবে। স্টেশন মাষ্টার আবদুল করিম বলেন, বিরতিহীন ট্রেনটির সম্ভাব্য নামের তালিকাসহ আসনের ভাড়া ও বগির সংখ্যা উল্লেখ করে রেল মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে এই ট্রেন চালুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। বর্তমানে রাজশাহী-ঢাকা রুটে রেলের যে তিনটি ট্রেন চালু রয়েছে তার চাইতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি মূল্যে কিনতে হতে পারে নতুন বিরতিহীন এই ট্রেনের টিকেট। ট্রেনটি রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে সকাল ৭টায় এবং কমলাপুর পৌঁছাবে বেলা ১১টা ৪০মিনিটে। এরপর ঢাকা থেকে দুপুর টা ১৫ মিনিটে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে ট্রেনটি যাত্রা শুরু করে পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৬টায়। ট্রেনটি সপ্তাহে একদিন বন্ধ থাকবে। রেল মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন ট্রেনের জন্য বেশ কয়েকটি নাম থেকে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়েছে। যেখানে প্রথমেই রয়েছে ‘হিমসাগর এক্সপ্রেস’। এ ছাড়া ‘বনলতা’, ‘গ্রীণসিটি’ ‘নর্দান এক্সপ্রেস’ এবং ‘রুপসী বাংলা’ নামটিও রয়েছে পছন্দের তালিকায়। তবে রাজশাহীর সুস্বাদু ‘হিমসাগর’ জাতের আমের নামে ট্রেনের নাম ‘হিমসাগর এক্সপ্রেস’ হওয়ার সম্ভাবনায় বেশি। মন্ত্রণালয় থেকেই নাম চূড়ান্ত করা হবে আগামি সোমবার। সূত্রে আরো জানা গেছে, রাজশাহী-ঢাকাসহ দেশের তিনটি রুটে নতুন ট্রেন চালুর জন্য ইন্দোনেশিয়া থেকে ৫০টি বগি কেনা হয়েছে। এরইমধ্যে ১৫টির বেশি বগি এসে পৌঁছেছে। রাজশাহী-ঢাকা রুটে নতুন বিরতিহীন ট্রেনে এই বগিগুলো সংযোজন করা হবে। একটি ট্রেনে মোট বগির সংখ্যা হতে পারে ১২টি। ট্রেনটিতে মোট আসন সংখ্যা হবে ৯৩২টি। বিরতিহীন এই ট্রেনটি হবে দেশের সর্বাধুনিক হাইস্পিড ট্রেন। ঘণ্টায় এর গতি হবে ১৪০ কিলোমিটার। সাড়ে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টায় ট্রেনটি ঢাকা-রাজশাহী রুটে চলতে সক্ষম হবে। ফলে এই রুটে সময় বাঁচবে প্রায় পৌণে তিন ঘণ্টা। সিগন্যাল পাসিং দ্রুত শেষ হলে যাত্রীদের সময় বাঁচবে আরও বেশি। এদিকে বিরতিহীন ট্রেন সার্ভিস চালুর বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছিল সামাজিক সংগঠন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। এ দাবিতে আগামি ৭ এপ্রিল নগরীতে মানববন্ধন কর্মসূচিও ঘোষণা ছিল এই সংগঠনটির। তবে তার আগেই ট্রেনটি চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশসহ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও কমিটির সাধারণ সম্পাদক জামাত খান গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বলেন, রাজশাহীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ ট্রেনটি চালু হওয়ার পেছনে সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার ভুমিকা অন্যতম। কারণ, রাজশাহীবাসীর সকল নায্য দাবি পূরণে আমরা রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করলেও এই দুই জনপ্রতিনিধির মাধ্যমেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে তা পেশ করা হয়। যে কারণে লিটন ও বাদশা ভাইকে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। একই সাথে রাজশাহীবাসীর অন্যান্য সকল নায্য দাবি পূরণের লক্ষ্যে তাদের কাছ থেকে ধারাবাহিক জোর প্রচেষ্টা কামনা করছি। আর বিরতিহীন ট্রেন অনুমোদন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি ছিল রাজশাহী-ঢাকা বিরতিহীন ট্রেন চালুকরণ। নির্বাচনের পূর্বে ঘোষণা দিয়েছিলাম, বিজয়ী হলে ছয় মাসের মধ্যেই রাজশাহী-ঢাকা বিরতিহীন ট্রেন চালু করবো। যেটি চালু হতে জাষ্ট সময়ের কিছুটা অপেক্ষা। তিনি বলেন, নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয় লাভ করার পর থেকেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি। এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) থেকেই রাজশাহী-ঢাকা রুটে বিরতিহীন ট্রেন চালু হতে যাচ্ছে। নির্বাচনী অন্যান্য বড় প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরে ধারাবাহিকভাবে দেওয়া চলমান রয়েছে। উন্নয়নের এই সরকার প্রধানের সহযোগিতায় আমার চলতি মেয়াদেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে পারব বলে বিশ্বাস করেই সামনের দিকে এগুচ্ছি।

SHARE