চলচ্চিত্রে তবুও স্বস্তি নেই

248

গণধ্বনি ডেস্ক :  বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি আগামি ১২ এপ্রিল থেকে দেশের ১৭৪টি প্রেক্ষাগৃহ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে সরকারের আশ্বাসে মঙ্গলবার সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু সিনেমা হল বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাহার করলেও স্বস্তি নেই চলচ্চিত্র পরিবারে। কারণ মুক্তি দেয়ার মতো আহামরি কোনো ছবি প্রস্তুত নেই। যে দুয়েকটি ছবি প্রস্তুত আছে, সেগুলোও লোকসানের ভয়ে মুক্তি দিতে সাহস পাচ্ছেন না নির্মাতারা। ফলে নতুন ছবির খরায় পড়তে হচ্ছে সিনেমা হলগুলোকে।

চলতি বছরের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও মুক্তিপ্রাপ্ত নতুন কোনো ছবিই সাড়া ফেলেনি দর্শক মহলে। দু-একটি ছবি মুক্তির আগে আলোচনায় এলেও মুক্তির পর আশানুরূপ ফলাফল মেলেনি। অন্যদিকে কিছু ছবি নীরবে মুক্তি পেয়ে আলোচনায় এসে ব্যর্থতার তকমা পেয়েছে। আসছে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সিনেমা পাড়াতেও কোনো তোড়জোড় নেই। শাকিব খান-নুসরাত ফারিয়া অভিনীত ‘শাহেনশাহ’ ছবিটি পহেলা বৈশাখে মুক্তির কথা থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছবির কাজ এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি বলে জানা গেছে। ছবিটি মুক্তির তারিখ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ছবির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান শাপলা মিডিয়ার কর্ণধার সেলিম খান বলেন, ‘পয়লা বৈশাখে ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে না। আগামি রোজার ঈদ নিয়ে আমাদের একটা চিন্তা ছিল, তবে সেটিও সঠিক নয়। এরইমধ্যে দু-একবার তারিখ ঘোষণা করেছি, বিভিন্ন কারণে ছবিটি মুক্তি দিতে পারিনি। তাই কবে মুক্তি পাবে, বিষয়টি নিশ্চিত নয়।’

এ ছাড়া রোজার মাস শুরু হতে এক মাস বাকি। এ এক মাসে কোন কোন ছবি মুক্তি পাবে তাও অনিশ্চিত। তবে আজ প্রেক্ষাগৃহে মিষ্টি জানাত অভিনীত যৌথ প্রযোজনার ‘তুই আমার রানি’ মুক্তি পাচ্ছে। এর বাইরে চলতি মাসে নতুন কোনো সিনেমা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। এদিকে রোজার মাসে প্রেক্ষাগৃহ প্রায় বন্ধ থাকে। নতুন ছবিতো দূরের কথা দর্শক শূন্য থাকে সিনেমা হল। রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় দেশের কোনো কোনো সিনেমা হলে প্রদর্শন বন্ধ থাকে। হল মালিকরাও রমজান মাসে ছবি প্রদর্শন করতে চান না। পুরনো ছবি দিয়েই চলে রোজার মাস। বরাবরই ঈদ উপলক্ষে জমজমাট হয় চিত্রপাড়া। এবারের ঈদেও এর ব্যতিক্রম হবে না। ঈদে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে একাধিক নতুন ছবি। তবে এখনো চূড়ান্ত হয়নি ঈদের ছবির নাম।

উলেস্নখ্য, গত ১৩ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করে ১২ এপ্রিল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশের সব সিনেমা হল বন্ধ ঘোষণা দেয় চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি। এ ঘোষণার কারণ হিসেবে সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছিলেন, সিনেমা হল চালু রাখার জন্য যে পরিমাণ ছবি দরকার তা নির্মিত হচ্ছে না। হল চালাতে বিদেশি ছবির আমদানিতে সরকারের সহায়তা কামনা ও সহজ নীতিমালা তৈরি করা সঙ্গে সঙ্গে দেশের ছবির উৎপাদন বাড়ানোর সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। এ ছাড়া সিনেমা হলের মালিকদের ব্যবসা ও দুরাবস্থার নানা দিক তুলে ধরা হয়। মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে প্রদর্শক সমিতির বৈঠকে সিনেমা হল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হলেও স্বস্তি নেই চলচ্চিত্রে।

SHARE