সরকার বিচার বিভাগকে পুরোপুরি স্বাধীনতা দিয়েছে : আনিসুল হক

225

স্টাফ রিপোর্টার : আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগকে পুরোপুরি স্বাধীনতা দিয়েছেন। দেশের সর্বস্তরের মানুষ যাতে স্বাধীন ও ন্যায় বিচার পেতে পারে সেজন্য সরকার কাজ করছে। গতকাল রোববার বিকেলে রাজশাহী আইনজীবী সমিতি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আনিসুল হক বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দেখানো সেই পথই অনুসরণ করছেন। তিনি বলেন, রাজশাহীর বর্তমান বার ভবনটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ। এখানে আইনজীবীদের কাজ করার ভালো পরিবেশ নেই। তাই সরকার এখানে একটি ১০ তলা আধুনিক ভবন স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে এর কার্যক্রম শুরু হলো। বরাদ্দ পেলেই এককালীন তিন কোটি টাকা দেওয়া হবে। এছাড়াও শিগগিরই বার ভবনে একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি স্থাপন করা হবে। এজন্য আরও ১৫ লাখ টাকা দেবেন বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী আনিসুল হক। এর আগে মন্ত্রী রাজশাহী বার অ্যাসোসিয়েশনের বহুতল ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক অনুদানে অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশনের এ বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।
আনিসুল হক বলেন, মামলার জট কমানোর জন্য যে পদক্ষেপগুলো নেয়া প্রয়োজন, সেটা বর্তমান সরকার নিয়েছে। অন্য কেউ নেয় নাই। অন্য কেউ আইনের শাসনে বিশ^াসী না। অন্য যারা আছে, এতিমের টাকা আত্মাসাৎ করে জেলে গিয়ে বলে, সরকার প্রতিহিংসায় জেল দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে শেখ হাসিনা সরকার আইনের শাসনে বিশ^াসী, প্রতিহিংসায় বিশ^াসী নয়।
তিনি আরো বলেন, বিচার বিভাগে কর্মরতদের বেতন প্রায় দিগুণ করা হয়েছে। এজলাস ভাগাভাগি যাতে করতে না হয়, সেজন্য একটি প্রজেক্ট নেয়া হয়েছে। আমরা জনগণকে দ্রুত বিচার দিতে চাই। এজন্য আমাদের যতটুকু আর্থিক সামর্থ্য আছে, সবটুকু বিচার বিভাগের উন্নয়নে দিতে রাজি আছি।
রাজশাহীর আদালত চত্বরে অ্যাডভোকেট বার এসোসিয়েশনের বহুতল ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং আইনজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, একমাত্র আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব। বর্তমান সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে, যা বিএনপি কখন পারেনি। এখন দেশে প্রতিহিংসার রাজনীতি হয় না। সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে আইন মন্ত্রী বলেন, রাজশাহীতে হাইকোর্টের সার্কিট বেঞ্চের প্রয়োজনীয়তা থাকলে তা অবশ্যই স্থাপন করা হবে। এছাড়া আইনজীবীদের পক্ষে থেকে উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ^াস দেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের মাধ্যমে আমরা আইনজীবীদের জন্য বহুলত ভবন তৈরির যে কথা দিয়েছিলাম। সেই কথা আমরা রাখলাম। আমরা যে কথা দিয়ে কথা রাখি, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে সেটি আবারো দেখানো হলো। মেয়র আরো বলেন, দীর্ঘদিন আদালত চত্বরের কোন উন্নয়ন হয়নি। এখানকার দায়িত্ব কেউ নেয়নি। শিগগিরই আদালত চত্বরের রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। সিটি কর্পোরেশনের একটি মেগা প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে, সেটির মধ্যে আদালত চত্বরের উন্নয়ন ধরা হয়েছে। তবে তার আগেই প্রাথমিকভাবে কিছু কাজ করা হবে। রাজশাহী এ্যাডভোকেট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি লোকমান আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সদর আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা, সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি আদিবা আনজুম মিতা, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হক, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মীর শফিকুল আলম প্রমুখ। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন, রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড একরামুল হক। এর আগে বিমানযোগে রাজশাহীতে এসে বিমানবন্দরে পৌছালে মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছায় স্বাগত জানান সিটি মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন।

SHARE